আসুন জানি লেটো গান কি ?…

কত গানের খবর পাইলাম
আমাদেরই বাংলাতে,
কি আর বলবো পারছিনা আর
আবেগ আমার সামলাতে।
কত গানের কত ধরন
কবু গানের হয়না মরন
মন ভরে যায় শুনলে গায়ের
পল্লী গানের বন্দনা
দূর হয়ে যায় শুনলে এগান
মনের যত যন্ত্রনা।।
কত গান বাংলার লোকলোকান্তরে জড়িয়ে আছে সুখ-দুঃখ্যের ইতিহাস হয়ে। তেমন এক গান যার নাম লেটো। আমাদের দেশের কচি কচি ছেলেমেয়েরা তাদের বইতে পড়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছোট বেলা লেটো গানের দলে যোগ দেন। কিন্তু এটা কি ধরনের গান তারা সহ অনেকই বুঝতো না। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এমনকি যুবকরা ও এ গানের বিষয়ে তেমন জ্ঞ্যান বা ধারণা নেই। তাদের লক্ষ্যে বলছি লেটো গানের কিছু কথা। লেটো গান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার লোকসঙ্গীত। এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ। যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে থাকে বাদকদল। লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। কিশোর বালকরা মেয়েদের পোশাক পরে নটী সাজে। এর বিষয়বস্তু সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়। কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে। লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়, দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’। সাধারণত শীতের ফসল ওঠার পরে কৃষকের অবসর সময়ে লেটো গানের আসর বসে। লোকমনোরঞ্জনই এর প্রধান উদ্দেশ্য। প্রধানত মুসলমান সমাজে লেটো গানের সমাদর বেশি, তবে সব ধরনের শ্রোতাই এ গান উপভোগ করে। মূলত এই ছিল লেটো গানের অজানা তথ্য। সবার জন্য শুভকামনা। সঙ্গীতাঙ্গন এর সাথেই থাকুন আর জেনে নেন অজানা সঙ্গীতের বিভিন্ন তথ্য। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: