স্টেজ শো’তে রুনা লায়লা…

বাংলার গর্ব ও অহংকার উপমহাদেশের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা। যার সৌভাগ্য বাংলাকে নিয়ে গেছে বিশ্ব দরবারের সামনে উজ্জল করেছেন বাংলার প্রতিভা। সাধারণত দেশে স্টেজ শো’তে খুব কমই দেখা যায় তাকে। অধিকাংশ সময়ই তিনি দেশের বাইরেই স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। জানা যায় তিনি প্রায় ১৮টি ভিন্ন ভাষায় দক্ষ। বাংলায় এই একজন শিল্পী যার দক্ষতার সিড়িঁ সর্বোচ্চ। তিনি দেশের বাইরে গজল গায়ীকা নামে পরিচিত। তবে গত ২০ নভেম্বর তিনি রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’তে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় রুনা লায়লাকে মঞ্চে আহ্বান জানানো হয়। অফিসার্স ক্লাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে মঞ্চে বরণ করে নেন। মঞ্চে উঠে রুনা লায়লা সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের গান দিয়ে তার পরিবেশনা শুরু করেন। দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ, ভুলিনি আমরা, কোনোদিন ভুলবোনা, ভুলবনা সেই অবদান। এরপর তিনি একে একে শ্রোতা দর্শককে গেয়ে শোনান ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যর আগে’, ‘আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে’, ‘দাইয়ারে দাইয়ারে কাটা চুবা’, ‘হোই হোই হোই দিল ধারকে’,
‘ইস্টিশানের রেলগাড়িটা মাইপা চলে ঘড়ির কাটা’, ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘দে দে পেয়ার দে ও মালিক পেয়ার দে’, ‘দমাদম মাস্কালান্দার’সহ আরো বেশ কিছু গান।

রুনা লায়লা পারফর্ম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে উপস্থিত সবাই তার গাওয়া গান শুনছিলেন। আবার অনেকেই মঞ্চে উঠে আসেন, রুনার পাশে দাঁড়িয়েই তার গানে নাচেনও কিছুটা সময়। প্রতিটি গানের পর উপস্থিত দর্শকের অনবরত করতালি রুনা লায়লাকে গান গাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। মঞ্চে রুনা লায়লা বলেন, সব সময়ের মতোই আমি মঞ্চে গাওয়াটা ভীষণ উপভোগ করি। গান গাওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত দর্শক শ্রোতার কাছ থেকে সরাসরি যে সাড়া মেলে তা আমাকে ভীষণ উৎসাহিত করে। আমি নতুন করে অনুপ্রাণিত হই। ভালো লাগে এই ভেবে যে সব বয়সী শ্রোতা দর্শকই আমার গান ভালোবাসেন। এটা শিল্পী হিসেবে আমার অনেক ভালোলাগা। অফিসার্স ক্লাবের সুবর্ণ জয়ন্তীর এই অনুষ্ঠানে রুনা লায়লার সাথে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হচ্ছেন কি বোর্ডে ফোয়াদ নাসের বাবু, রূপতনু, লিড গিটারে সেলিম হায়দার, বেজ গিটারে তানিম, বাঁশিতে মনির, পেড-এ সাদেক আলী এবং তবলা ঢোল-এ মিলন ভট্ট। এদিকে তার স্বামী জনপ্রিয় অভিনেতা আলমগীরের নির্দেশনায় রুনা লায়লা প্রথমবারের মতো সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘গল্প কথার ঐ কল্পলোকে জানি একদিন চলে যাবো’ গানটিতে রুনার সুর সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন আঁখি আলমগীর। আমরা এই কিংবদন্তী গুণী শিল্পীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: