তাহসানের ‘বুড়ো শালিক’…

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয় সব গান উপহার দিয়ে আসছেন তিনি। নিজের ভিন্নধর্মী গায়কির মাধ্যমে আলাদা একটি শ্রোতামহল তৈরি করেছেন অনেক আগেই। গানের বাইরে গত কয়েক বছরে অভিনেতা হিসেবেও অন্যতম শীর্ষদের তালিকায় চলে এসেছেন তাহসান। বিশেষ উৎসবে দর্শকদের কাছে তাহসানের নাটক কিংবা টেলিছবি মানেই নতুন কিছু। মূলত উৎসবগুলোতে তাহসানের নাটক গুলোই থাকে সর্বাধিক দর্শকপ্রিয়তায়। শুধু তাই নয়, উপস্থাপক হিসেবেও এ শিল্পীর আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে ‘দীপিকা লাইভ ইন ঢাকা’ অনুষ্ঠানে দুর্দান্ত উপস্থাপনা করেছিলেন তাহসান। তার প্রশংসা করেছেন খোদ দীপিকাও। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে অভিনয় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন এ তারকা। মনোনিবেশ করেছেন গানের প্রতি। তারই ধারাবাহিকতায় ‘অভিমান আমার’ শীর্ষক এ্যালবামটি গেল ঈদে প্রকাশ হয় তার। নিজের মনের মতো করে নিয়মিত গানের কাজ করছেন তিনি। যে গানটি তার মনের মত হয় ভালো লাগে সেটাই করেন। পাশাপাশি অভিনয়ের প্রস্তাবও রয়েছে। ভালো মনে হলে কাজ করবেন।

ঈদে একক এ্যালবাম ‘অভিমান আমার’ প্রকাশ হয়েছে। খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন। কারণ এ এ্যালবামটির মাধ্যমে অনেকদিন পর একক এ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভক্ত-শ্রোতারা এ এ্যালবামের জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করেছেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে টানা কাজ করে শেষ করেছেন এ্যালবামটি। এ এ্যালবামের একটি ছাড়া সব গানের কথা তাহসান এর নিজের। ‘বুড়ো শালিক’ শীর্ষক একটি গান যৌথভাবে লিখেছে ফাজবীর তাজ। আর পাঁচটি গান তাহসান এর সুর করা। বাকিগুলো সাজিদ সরকার করেছে। জিপিতে এ্যালবামটি প্রকাশ হয়েছে। সিডি চয়েজের ব্যানারে ইউটিউবে গানগুলো একটি একটি করে প্রকাশ হচ্ছে। অনেক ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ‘বুড়ো শালিক’ এবং ‘অভিমান আমার’ গান দুটির সাড়াই বেশি এখন। এখান থেকে মিউজিক ভিডিও আরো করার কথা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে গানগুলো ধীরে ধীরে শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে তার বিশ্বাস। তাহসান বলেন আসলে সিঙ্গেল আর এ্যালবামের আবেদন এক না। একটি এ্যালবাম একজন শিল্পীর পূর্ণ পরিচয় বহন করে। আর সিঙ্গেল হচ্ছে একটি গান। তার মানে একটি গানই আমাকে বাণিজ্যিক বিষয়টি মাথায় রেখে করতে হবে। এখানে নিজেকে প্রকাশের বিশেষ সুযোগ নেই। আর এ্যালবামে আমি বেশ কিছু গান করতে পারছি। একেকটি গান একেক রকম হচ্ছে। এ্যালবামে নিজেকে ভাঙ্গা গড়ার সুযোগ থাকে। তাই আমি সব সময়ই এ্যালবামের পক্ষে। নিজের চিন্তা-ভাবনারও প্রতিফলন ঘটানো যায় পূর্ণ এ্যালবামের মাধ্যমে। আসলে আমি কোনো সময়ই চাইনি আমার গান চটজলদি জনপ্রিয়তা পাক। আমি চাই ধীরে ধীরে আমার গান শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিক। গানের ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে। মানুষ ডিজিটালি গান শুনছে। আর একজন শিল্পীও নিজের গানের স্বত্ব নিজের কাছে রাখতে পারছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। তবে সামনে বিষয়গুলো আরো বেশি পরিষ্কার হবে। আসলে সারা বিশ্বেই এখন ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। ইউটিউব জনপ্রিয় মাধ্যম গান শোনার। তাই সময় ও প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা যাবে না। আমাদেরও এই পথেই এগিয়ে যেতে হবে। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে জনপ্রিয় শিল্পী তাহসান এর জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: