গান বাঁচতে শেখায়, হাসতে শেখায় – ফাহমিদা নবী…

“যারা সঙ্গীতকে ভালোবাসে, তারাই সঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখেন। সঙ্গীত মানেই মনের সাথে মনের আলিঙ্গন, অন্তরে অন্তরের কথোপকথন। সঙ্গীতের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা এবং মমতাবোধ থেকে কিছু কথা লিখেছেন আমাদের সবার প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী –

“অনেকদিন গান নিয়ে কিছু লিখিনা, কেন লিখিনা জানিনা! আজ কিছু লিখতে মন চাইলো,
গান কি এবং গান কেন মানুষের এতো প্রিয়?
জীবনের সাথে গানের কেন এতো সম্পৃক্ততা?
ভালবাসার অংশ জুড়েই গান কেন কাঁদায় হাসায়?
জীবন মোহময় করে রাখে?
কত শক্তি সুরের তাইনা….!
পুরোনো গান কেন শ্রোতারা শোনে বারবার? আজকের গানে কিসের অভাব? কেন অভাব?
ভাবলাম অনেক, নিজেও আজ সারাদিন কিছু গান শুনেছি, গানগুলো শুনতে শুনতে মনে হয়েছে গান গুছিয়ে, গুছিয়ে গাইতে হয়,
যত্নের স্বাদ আছে আগের গানে,
বর্তমান গানে কি যত্ন কম!?
তাই মনে ধরে কম! কি বলো?!
সেদিন সুরের আয়নার সুটিংয়ে যারা অতিথি ছিলেন, তারা দেড়শ বছর আগের গান গাইলেন, বর্তমান যন্ত্রানুষঙ্গ কাহন, সেক্সোফোন মেলোডিকার সাথে, কতো গুছিয়ে গাইলেন।
চর্চা ও ভালবাসার সম্পর্ক লালনের ফল! মিউজিশিয়ানরাও নরম করে বাজালো। অনেকেই হয়তো বলবে, গান আবার গুছিয়ে গাইতে হয় নাকি? কাপড় চোপড়ের মতোন গানও গুছিয়ে গাইতে হয়! নরম করে বাজাতে হয়!
এ আবার কেমন কথা…!?
গানকে ছাপিয়ে যেন বেশী বাদ্যযন্রের আধিক্য না হয়ে যায়, অঙ্কের মতোন খেয়াল রাখতে হয়। গান শুধু গাইলে হয়না,পাশাপাশি মানুষের মনের যে গল্প তাকে নিয়ে ভাবতেও হয়।
গান হচ্ছে সুক্ষ্ম শিল্প! সোনামুখি সুইয়ের মতোন! সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম কাজ কাঁথা সেলাইয়ের মতোন! যত্নে বুনতে হয়। গানের আবেগকেও বুঁনতে হয় বকুল ফুলের মালার মতোন!
গান মনকে জাগ্রত করে, মায়া জাগায়, সাহস জাগায়, শান্ত করে, যুদ্ধের মাঠে শক্তি যোগায়, গান বাচঁতে শেখায়, হাসতে শেখায়, যে কাঁদতে ভুলে গ্যাছে, তাঁকে কাঁদায়, একাকীত্ব কমায়, গানে রান্না হয় ভাল। ঘরের কাজ, বাইরের কাজ, শিশু থেকে শুরু করে বয়সী মানুষ সবার জন্য গান হলো ঔষূধের মতোন। সবটাতেই গানই যেন প্রান!
গানের কোন বয়স নেই, মোটা, শুকনা, সুন্দর অসুন্দরের বিষয় নেই।
কন্ঠ কতোটা সুরে সেটাই বিষয়,
গান কানে শোনার বিষয়, দেখার নয়!
গান পুরোনো হয়না যেমন, শিল্পীও পুরোনো হয়না কখনো। সেটাই সম্মান।
সেই গানকে অবহেলা করে কি গাওয়া যায়?!!!
গান ভালবাসতে শেখায়… গানের কতো শক্তি…..! সেই গানকে শিখতে, তাকে ধারণ করতে করতে জীবন পার হয়ে যায়!
গান গুনগুন করা যায়,কিন্তু গান গাওয়া সহজ নয়। বিধাতা কন্ঠে দিলেন সুর,
তাই নিয়ে চল্লেম বহুদুর…!
তবে সে দানকে সাধনায় না রাখলে,
ধ্যাঁনে না ঠাঁই দিলে,হবেনা যে সাধন!
গানকে সম্মান করা তো সবচেয়ে বড় কর্ম সম্পদ! ভুল্লে তো চলবেনা!
সম্পর্ক দিয়ে আর যায় হোক, গান হবেনা।
কারন ভাল গান গাওয়া ও শ্রোতার কাছে পৌঁছানোর কাজটা শুধু দক্ষতা ও সাধনার প্রয়োজন। সম্পর্ক নয়…!
তাই হয়তো,শিল্পী ও শ্রোতা সবচেয়ে ভালো বন্ধু!
নিজেদের অজান্তে একে অপরের প্রিয়!
তাই ফাঁকিতে ফেলতে হয়না শ্রোতাকে!
গানতে গাইতে চুপ শব্দটা খুব জরুরী।”
বুঝি সবসময়, বোঝে শ্রোতাও।
গান জীবনের সুরেলা গল্প ,তাকে ভালবেসে আদরে গাইতেই হবে, ভাবতেই হবে।
তবেই না সার্থকতা গাইবার।
সবার জন্য ভালবাসা।
গান নিয়ে লিখতে বসলে কত কথা
যে মনে ঘুরপাক খায় তাই বোধহয়
একটু বড় হয়ে গ্যালো লেখাটা.. ক্ষমাপ্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: