মাইলস বলতে আমি আর আমি বলতে মাইলস…

মাইলস নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস ভেঙে গেছে, কেউ বলছেন মাইলস থেকে বের হয়ে গেছেন শাফিন আহমেদ, আবার কারও মতে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কনসার্টে দেখা যাচ্ছে না শাফিন আহমেদকে। আসলে মূল ঘটনা কি? এব্যাপারে শাফিন বলেন কেন থাকব না? মাইলস ছেড়ে কোথায় যাব! ছাড়ার তো প্রশ্নই আসে না। মাইলস আমার ছিল, আছে এবং থাকবে। ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, এসব সমস্যার যদি পুরোপুরি সমাধান না হয়, তাহলে মাইলসের কোনো শোতে আমি অংশ নেব না। কিছুদিন আগে খাগড়াছড়িতে একটি অনুষ্ঠানে শাফিন একা পারফর্ম করেছেন। সে ব্যাপারে তিনি বলেন বিষয়টি সম্পূর্ণ আমার হাতে। এটা সবার জেনে রাখা প্রয়োজন, মাইলস বলতে কিন্তু শাফিন আহমেদ। এই ব্যান্ডের সবচেয়ে বেশি গানের কম্পোজিশন আমার করা, গানের কথা আমার লেখা, আর কণ্ঠও আমার। মাইলস আজ যে অবস্থানে এসেছে, এখানে আসার পেছনে বড় অবদান আমার। এটা কেউ চাইলেও অস্বীকার করতে পারবে না। মাইলস মানে আমি, আমি মানেই মাইলস। আমি কেন মাইলস ছাড়ব? এ
প্রশ্ন আসাটাই অবান্তর।

একটা কথা স্পষ্ট জানিয়ে রাখি, ব্যান্ডের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে মাইলসের কার্যক্রম স্থগিত আছে। কিন্তু গানের জগতে শাফিন আহমেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমার গান রেকর্ডিং চলছে। কিছুদিন আগে নতুন একটা স্টুডিও চালু করেছি। সেখানে নিয়মিত সময় দিচ্ছি। সামনে আমার একক গান প্রকাশিত হবে। ব্যান্ডের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মাইলস নামে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলতে তিনি বোঝান জুনিয়ররা যেভাবে বেয়াদবি শুরু করেছে, সিনিয়র বলতে তো আমার ভাই-ই শুধু, একই বয়স অলমোস্ট-তাঁদের অনেক কিছু বোঝা দরকার। সবার বোঝা উচিত, এত ঈর্ষা করলে চলবে না, শাফিন আহমেদ তো শাফিন আহমেদই। শাফিন আহমেদকে মানুষ যা দিয়েছে, তিনি তা-ই পেয়েছেন। যদি ব্যান্ডের অভ্যন্তরে অন্যরা আমার জনপ্রিয়তা দেখে অস্থির হয়ে যায়, তাহলে কিছুই করার নেই। আর তাই তো কিছুদিনের জন্য ব্যান্ডের সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। শাফিন ছাড়া কানাডায় মাইলস ব্যান্ডের শো কেমন হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি গনমাধ্যেমকে বলেন যে, যখন গন্ডগোল চলছিল, তখন আমি ছাড়া অন্যরা কানাডায় যায়। যাওয়ার আগে আমি জানিয়ে
দিয়েছিলাম, সব সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত আমি মঞ্চে উঠব না। শুনেছি কানাডার টরন্টোর শো ফ্লপ হয়েছে। দু-তিনটা শো তাঁরা মিস করেছে। আয়োজকেরাও শো প্রত্যাহার করেছেন। আমার ছবি দিয়ে কানাডায় প্রচার চালানোর চেষ্টা করা হয়। আমি যাব না, এটা আয়োজকদের বলা হয়নি। আমি না যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আয়োজকেরা বিস্মিত হন। টিকিট বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা খুবই দুঃখজনক। শাফিন এর কথা থেকে বুঝা যায় তিনি মাইলসকে অনেক ভালোবাসেন। শ্রোতারাও চায় শাফিনকে নিয়েই চলুক মাইলস। মাইলসের জন্য শুভ কামনা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: