Press "Enter" to skip to content

কান্না মুছে সবাই হাসবে এবার বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত এর উৎসবে…

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী ষষ্ঠ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব আয়োজনের জন্য জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার পর গত ১০ নভেম্বর রোববার জানান, ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাজধানী ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত এ উৎসব চলবে। আর উৎসবের এই ষষ্ঠতম আসর উৎসর্গ করা হয়েছে গবেষক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামানকে। রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এতে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, পরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কমিউনিকেশনস জারা জাবীন মাহবুব। এবারের আয়োজনের উদ্বোধনে থাকছে ভারতীয় উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের ফিউশন। ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় কাজাখস্তান থেকে আসা ৫৮ সদস্যের আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমানিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে ভারতের বিখ্যাত বেহালা শিল্পী এল সুব্রামনিয়ামের যুগল বাদনে উৎসবের শুরু হবে। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের এই উৎসবে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত যশরাজ, গ্র্যামি বিজয়ী পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট, বিদুষী কালা রামনাথ, গ্র্যামি জয়ী পদ্মভূষণ বিদ্বান ভিক্কু বিনায়করাম, বিশিষ্ট ওডিশি নৃত্যশিল্পী সুজাতা মহাপাত্রসহ বিশ্বখ্যাত বহু শিল্পী। বিদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি থাকছে বাংলাদেশি শিল্পীদেরও পরিবেশনা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত উৎসব হতে যাচ্ছে। আমরা খুব আনন্দিত। এ বছর স্থান সমস্যার কারণে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম উৎসব না করার। কিন্তু সবার ভালোবাসা, সমর্থনে শেষ পর্যন্ত উৎসব হতে যাচ্ছে। ধন্যবাদ যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, পাশে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী জানান, এবার উৎসবে ভারতীয় উপমহাদেশের যে বিখ্যাত শিল্পীদের আসার কথা ছিল, তাদের প্রায় সবাই আসছেন। তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছর সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং সরকারের সহযোগিতায় উৎসব আয়োজনের স্বপ্নটি বাস্তব রূপ লাভ করে। আমরা মনে করি ২০১২ সালে উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্পে যে-যাত্রা সূচিত হয়েছিল তা বহমান থাকবে সঙ্গীতপিপাসু জনমানুষের কল্পনায় ও চিত্তে এবং ভবিষ্যতে তা সার্থকতা লাভ করবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সাঙ্গীতিক বোধ, মেধা ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে। শিল্প-সংস্কৃতি চর্চাই তাদের নৈরাজ্য থেকে দূরে রাখবে। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। অন্যান্যবারের মতো এবারও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে (www.bengalclassicalmusicfest.com) গিয়ে নিবন্ধন করে বিনামূল্যে পাস সংগ্রহ করা যাবে। তবে অনুষ্ঠান স্থলে গিয়ে নিবন্ধনের কোনো সুযোগ নেই। আর অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে গাড়ি রাখার কোনো ব্যবস্থাও থাকবে না। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরুর পর রাত ১২টায় অনুষ্ঠানস্থলের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় থাকা ব্লুজ কমিউনিকেশন উৎসবের শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, যাতে শব্দ মাঠের বাইরে না যায়। যদিও এবার শুরুতেই নিরাপত্তাজনিত কারণে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি সাংস্কৃতিক কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব’ অনুষ্ঠানকে। গত পাঁচ বছর ধরে এ অনুষ্ঠানটি আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলেও, এবার সেটা মিলেনি। গত ২২ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান দেশের পুরোধা সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। উৎসবের প্রস্তুতি শুরু করার পর বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আর্মি স্টেডিয়াম ব্যবহারের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গত ৩১ অগাস্ট এক চিঠিতে জানায়, ওই সময় পোপের বাংলাদেশ সফরের সূচি থাকায় আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর যেহেতু তার সফরের প্রধান অনুষ্ঠানটি আর্মি স্টেডিয়ামে হচ্ছে না, সেহেতু ৯ সেপ্টেম্বর সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে আবারও চিঠি দিয়ে স্টেডিয়াম বরাদ্দের অনুরোধ করেছিল বেঙ্গল। কিন্তু দ্বিতীয়বারেও একই জবাব আসে। সংবাদ সম্মেলনে সে কথাও জানান আবুল খায়ের লিটু। কিন্তু স্থান নিয়ে জটিলতা সমাধান হওয়ায় সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আর্মি স্টেডিয়ামে গত পাঁচ বছর এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রথী-মহারথীরা নিয়মিতই এতে অংশ নেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিদেশের দর্শকের কাছে আয়োজনটি সমাদৃত। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: