সব্যসাচী লেখক ও গীতিকবি সৈয়দ শামসুল হক এর ৮২ তম জন্মবার্ষিকী আজ…

লেখক, কথাশিল্পী, কবি সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিটি শাখাতেই ছিল তার সাবলীল পদচারণা। তাই বাংলা সাহিত্যসেবীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘সব্যসাচী’ লেখক। সৈয়দ শামসুল হক বেশ কিছু কালজয়ী গানের গীতিকার।

নিজস্ব উচ্চতায় স্বকীয় এই মৃত্যুঞ্জয়ী শব্দচাষি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতার ধ্বনিসঙ্গীতে, নাটকের আলো-আঁধার মঞ্চে, গল্পের অবিরাম বয়নে, এই দেশ ও মানুষের কথা বলেছেন তিনি। আর সোনার বাংলা স্বপ্নের বাংলা সংগ্রামী বাংলার কথা বলার মধ্য দিয়ে বিশ্বের সব মানুষের হয়েই তিনি কথা বলেছেন তার রচনায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে, ১৯৫৬ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন, যখন তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে কুড়িগ্রামে। তার বাবা চাইতেন ছেলে চিকিৎসক হবে। সৈয়দ হক এই চাপ থেকে পালিয়ে বাঁচতে ১৯৫১ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে পাড়ি দেন। সেখানে তিনি বছরখানেক একটি সিনেমা প্রযোজনা সংস্থায় পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর দেশে ফিরে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজের মানবিক শাখায়। পরে ১৯৫৪ সালে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। তবে ইংরেজি বিভাগে তার পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই শিক্ষার্থী জীবন থেকে ইস্তফা দেন। এর কিছু দিন পরেই প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস।

অগণিত পাঠকের ভালোবাসার পাশাপাশি দেশের প্রায় সব প্রধান পুরস্কারই পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক। প্রাপ্ত পুরস্কারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো বাংলা একাডেমি পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, পদাবলী কবিতা পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতি। বাংলা সাহিত্যের এই সব্যসাচী লেখক ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: