Press "Enter" to skip to content

আজ জনপ্রিয় শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ এর জন্মদিন…

বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ এখন গান থেকে দূরে রয়েছেন। তবুও তার গাওয়া গানের মাঝেই ভক্ত-শ্রোতারা তাকে খুঁজে বেড়ান। আজ কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। সারাক্ষণ মহান আল্লাহর ধ্যানেই মগ্ন থাকেন এ শিল্পী। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। আজকের দিনে একটি এতিমখানায় এতিমদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান তিনি। শাহনাজ রহমতউল্লাহ প্রায় সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সঙ্গীতাঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ঘরসংসার, আল্লাহর পথেই তার সময় কাটান।

ইতিমধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর কোনোদিনই গান গাইবেন না। তিনি তার সিদ্ধান্তেই অটল থাকতে চান। শাহনাজ রহমতউল্লাহর কণ্ঠে এদেশের মানুষ শুনে এসেছেন কালজয়ী গান ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে আমায় বল’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’ ইত্যাদি। আরো অসংখ্য গান রয়েছে তার গাওয়া।

শাহনাজ রাহমতউল্লাহর জন্ম ১৯৫২ সালের ২রা জানুয়ারি ঢাকায়। তার বাবা এম ফজলুল হক, মা আসিয়া হক। মায়ের হাতেই ছোটবেলায় তার গানের হাতেখড়ি। পরিবারের সবার কাছে তিনি ছিলেন আদরের শাহীন। ছোটবেলাতেই তিনি শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। সেই থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত গান করেছেন। টেলিভিশনে গান গাইতে শুরু করেন ১৯৬৪ সাল থেকে। শাহনাজ রহমতউল্লাহ সত্তরের দশকে অনেক উর্দু গীত ও গজল গেয়েছেন। প্রখ্যাত গজলশিল্পী মেহেদী হাসানের কাছে তিনি গজল শিখেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি আবুল বাশার রহমতউল্লাহর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে নাহিদ রহমতউল্লাহ এবং এক ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমতউল্লাহ। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। শাহনাজ রহমতউল্লাহ প্রথম উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম নেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে। এরপর তিনি ওস্তাদ মনির হোসেন, গজল সম্রাট মেহেদী হাসান, শহীদ আলতাফ মাহমুদের কাছেও গানে তালিম নেন। বিয়ের পরে তিনটি চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেছিলেন এ শিল্পী। খান আতাউর রহমানের সুরে ‘আবার তোরা মানুষ হ’, আলাউদ্দীন আলীর সুরে ‘সাক্ষী’ ও আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘ছুটির ফাঁদে’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। এসবের মধ্যে ‘ছুটির ফাঁদে’ চলচ্চিত্রে গাওয়া ‘সাগরের সৈকতে কে যেন দূর থেকে’ গানটির জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। শাহনাজ রহমতউল্লাহর ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন এদেশের প্রখ্যাত একজন সুরকার এবং সংগীত পরিচালক। আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন এদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমত উল্লাহর গাওয়া চারটি গান স্থান পায়। এর মধ্যে আনোয়ার পারভেজের সুর করা দুটি, খান আতাউর রহমানের একটি ও আবদুল লতিফের সুরে একটি গান রয়েছে। আমরা তার সুস্থ জীবন কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: