শিল্পী থেকে শিল্পীর জন্ম…

শিল্পীর ঘরে জন্ম নেয়া শিল্পীঃ

সন্তানরা বাবার পথ ধরে হাঁটবেন, বাবার কর্মযজ্ঞকে নিজের পথের পাথেয় করে নেবেন এটাই স্বাভাবিক। এমনটা সচরাচর দেখা যায় প্রতিটি অঙ্গনে। শোবিজ জগৎও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে শিল্পীর সন্তানদের প্রায় সময় শিল্পী হয়ে উঠতে দেখা গেছে। আমাদের দেশে এ পর্যন্ত বহু প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীর সন্তান বাবা-মার পেশাকে নিজের করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলোঃ

দিঠি আনোয়ারঃ

প্রখ্যাত গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে দিঠি আনোয়ার ছোটবেলা থেকেই বাবার গানের ভক্ত। বাবার লেখা গান শুনতে শুনতে এক সময় তার মধ্যেও গানের প্রতি প্রীতি জন্মায়। এক সময় গলায় সুর বেঁধে নেন দিঠি। মানে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। সুললিত কণ্ঠের কারণে সহজে শ্রোতাপ্রিয়তাও পেয়ে যান। একাধারে চলচ্চিত্র, মঞ্চ, টিভি ও দেশ-বিদেশে স্টেজ পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। তার কয়েকটি গানের এ্যালবামও প্রকাশ হয়েছে। গত বছর প্রকাশ হলো এই শিল্পীর গানের একক এ্যালবাম ‘পোড়াচোখ’। দিঠির কথায় বাবার বিশাল কর্মভাণ্ডারকে নিজের মধ্যে কিছুটা হলেও ধারণ করার দুঃসাহস নিয়ে বাবার পথে হাঁটা শুরু করেছি।

আগুন ও রোমানা ইসলামঃ

খ্যাতিমান গীতিকার, চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সন্তান আগুন আর রোমানা ইসলাম কীর্তিমান বাবার আলোয় উদ্ভাসিত। দীর্ঘদিন ধরেই আগুন মিডিয়ায় বিচরণ করছেন অভিনয় আর গান নিয়ে। রোমানা কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন সুরের জাদু। ছোটবেলায় বাবার সুরে তার গাওয়া ‘হায়রে আমার মন মাতানো দেশ’ এখনো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। আগুন বলেন, বাবার কর্ম আর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে তার কাজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরীঃ

প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবীর কন্যা ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই বাবার গানের জগৎকে নিজেদের করে নিয়েছেন এবং সফলতার মুখও দেখেছেন। তারা এখন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্পীর মর্যাদাও পেয়ে গেছেন। তারা একাধারে চলচ্চিত্র, বেতার, টিভি ও মঞ্চে প্রতিষ্ঠার সাফল্যে ভাসছেন। বহু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তারা। জাতীয় সম্মাননাও পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। দুই কন্যাই এখন বাবার পথ ধরে সাফল্যের সঙ্গে হাঁটতে পারছেন বলে গর্ববোধ করেন। বাবার আদর্শ আর কর্মকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে গানের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী।

আজগর, জহির ও নূরজাহান আলীমঃ

পল্লীগানের সম্রাট হিসেবে খ্যাত প্রয়াত আবদুল আলীমের সন্তান আজগর আলীম, জহির আলীম ও নূরজাহান আলীম বাবার কর্মকে নিজেদের করে নিয়েছেন দীর্ঘ সময় আগেই। বাবার সঙ্গীতকে অমরত্ব দিয়ে যেতে গান করার পাশাপাশি নানা সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। গানকে ঘিরেই চলছে তাদের যাপিত জীবন। বাবাকে অমর করে রাখতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গানের বীজ বপন করে চলেছেন তাঁরা।

বাঁধনঃ

কোকিল কণ্ঠী গায়িকা খ্যাত সাবিনা ইয়াসমিনের সন্তান বাঁধন। মায়ের গানের প্রতি তার দুর্বলতা ছোটবেলা থেকেই। তার চাওয়া মায়ের মতো সুললিত কণ্ঠে গানকে তুলে ধরবেন শ্রোতাদের সামনে। নানা ব্যস্ততায় যদিও তার পক্ষে গানকে একমাত্র অবলম্বন করা সম্ভব হয়নি। তারপরও সময় সুযোগ পেলে গান নিয়েই পথ চলা হয় তার। মায়ের সঙ্গে দ্বৈত গানের এ্যালবাম আর মঞ্চে একসঙ্গে গান করা হয়েছে বাঁধনের। মা চান মেয়ে যেন তার গানের জগৎকে আঁকড়ে ধরে রাখে আজীবন।

শাফিন ও হামিনঃ

কিংবদন্তি নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের দুই সন্তান শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই মা ফিরোজা বেগম ও বাবা কমল দাশগুপ্তের গানের ছায়ায় বেড়ে উঠেছেন। মা-বাবার অবিস্মরণীয় সঙ্গীত প্রতিভায় আকৃষ্ট হয়ে তারাও ছুটে এসেছেন এই ভুবনে। অন্য সব কাজের পাশাপাশি গানের জগৎকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন তারা। নিজেরা গড়ে তুলেছেন ব্যান্ড আর সঙ্গীত শেখার নানা প্রতিষ্ঠান।

মিথুন জব্বারঃ

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আবদুল জব্বারের সন্তান মিথুন জব্বার বাবার গানকে ভালোবেসে নিজেও নাও ভিড়িয়েছেন এই জগতে। গানের চর্চায় কাটে তার ব্যস্ততম সময়। নানা মাধ্যমে গান করেন। গানের অডিও ভিডিও এ্যালবামও প্রকাশ করেছেন তিনি। বাবাও তাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন বেচেঁ থাকতে। আর গানের চর্চায় সহায়তা করেছেন। মিথুনের ইচ্ছা, বাবার মতো একজন নামিদামি শিল্পী হওয়ার।

প্রতিক হাসান ও প্রিতম হাসানঃ

অল্প সময়ে গানের ভুবনে ঝড় তোলা আর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী খালিদ হাসান মিলুর সন্তান প্রতিক হাসান ও প্রিতম হাসান। বাবার সুরকে নিজের গলায় তাঁরা তুলে ধরছেনছেন অবলীলায়। বাবার পথ ধরে অবিরত হেঁটে চলেছেন। তার স্বপ্ন বাবার অসমাপ্ত কাজ আর গানের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়া। বাস্তবকে রূপ দেওয়া। এ লক্ষ্যে গানকে ঘিরে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন দুই সন্তান।

হৃদয় ও প্রত্যয় খানঃ

প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব রিপন খানের সন্তান হৃদয় খান ইতিমধ্যে সঙ্গীতে তার কারিশমার স্বাক্ষর রেখেছেন। আরেক সন্তান প্রত্যয় খান গানকে নিয়ে হাঁটিহাঁটি পা-পা করে এগিয়ে চলেছেন স্বপ্ন পূরণের অভিষ্ট লক্ষ্যে। সঙ্গীত পরিবারের এই দুই সন্তান আসলে বাবার গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তাদের মধ্যেও গানের আবহ তৈরি হয়েছে খুব সহজে। গানকে তারা নেশা আর পেশায় পরিণত করতে চান বাবার মতো করেই। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: