আজ বারীণ মজুমদারের জন্মদিন…

বারীণ মজুমদার যিনি পন্ডিত বারীণ মজুমদার নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি আমাদের দেশের একজন সঙ্গীত-অধ্যক্ষ, রাগসঙ্গীত বিশারদ ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী। তিনি আগ্রা ও রঙ্গিলা ঘরানার যোগ্য উত্তরসাধক। সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ২০০২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেন। বারীণ মজুমদার ১৯২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্তমান বাংলাদেশ পাবনা জেলার রাধানগরে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নিশেন্দ্রনাথ মজুমদার ছিলেন একজন সঙ্গীতশিল্পী ও নাট্যকার এবং মাতা মণিমালা মজুমদার সেতার বাজাতেন। বারীণ মজুমদার ইলা মজুমদারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইলা মজুমদার একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। তাদের দুই সন্তান। বড় পুত্র পার্থ মজুমদার একজন সঙ্গীত পরিচালক। ছোট পুত্র বাপ্পা মজুমদারও একজন সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক।

দুই ছেলে পার্থ ও বাপ্পা মজুমদারের দেওয়া বিবৃতি থেকে জানা যায়, যে বারীন মজুমদারই সরকারী সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। বাপ্পা বলেন, আজ ৪০ বছর পর আমার বাবার আত্না হয়তো শান্তি পাবে। এতো দিন পর আমার বাবার কষ্ট ও ত্যাগের গড়া সরকারী সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করলো। সেখানে তার ছবি লাগানো হয়েছে। বাবা আজ তোমার জন্মদিন। তুমি ভালো থেকো। বাবার জন্য ছেলের মনের কিছু খুশি ও বাবাকে হারানোর কষ্ট দুটো মিলিয়ে আজ অন্য রং ধারণ করেছে। আজ তারা সার্থক বাবার সার্থক সন্তান হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে। সঙ্গীতের জন্য সঙ্গীতের সাধনার জন্য তার এই ত্যাগের ফল আজ তিনি পেয়েছেন। হয়তো তিনি বেচেঁ থাকতে হলে অনেক আনন্দ পেতেন। যাই হোক দেরি করে হলেও যোগ্যা মানুষের মর্যাদাটা যে উনাকে দেওয়া হয়েছে তাতেই তার আত্না শান্তি পাবে। তার জন্মদিনে সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে একরাশ প্রিতী ও শুভেচ্ছা। মানুষ যেমন জন্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানুষ হাসায় তেমনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষকে কাদাঁয়। বারীণ মজুমদার ২০০১ সালের ৩রা অক্টোবর বাংলাদেশের ঢাকার হলিফ্যামিলি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বিদেহী আত্নার কল্যাণ কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: