রুমানা ইসলাম এর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা…

আজ ১৬ই মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন কবি সুফিয়া কামাল মিলোনায়তনে সঙ্গীতাঙ্গন এর তৃতীয় একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে, বসন্তের মিষ্টি সন্ধ্যাকে আরো প্রাণোজ্জল করতে মিষ্টি কন্ঠে ভালো লাগার গান নিয়ে উপস্থিত হবেন খান আতাউর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, দেশের সঙ্গীতাঙ্গণে এক জ্বলজ্বলে নক্ষত্র শিল্পী রুমানা ইসলাম। রুমানা গান গেয়েছেন প্লে-ব্যাক, এ্যালবাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও স্টেজ শোতে। এ জন্য দেশ ও বিদেশে রয়েছে তার সংখ্যা ভক্ত ও গুণগ্রাহী। জীবনকে তিনি উপভোগ করেছেন গানের মাধ্যমে। ছোট বেলাটা তার খুব সুন্দর কেটেছে এবং আর দশটা পরিবারের মতই কেটেছে। আমরা নিশ্চয়ই জানি যে, তিনি জন্মেছেন গানের পরিবেশে। বাবা সঙ্গীতাঙ্গনের বিশিষ্ট জন ছিলেন সেই সাথে তার মাও একজন সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। তার মা মাহবুবা রহমান বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের প্রথম গায়িকা। জব্বার খানের ‘মুখ
ও মুখোশ’ ছবিতে ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি তার মায়ের গাওয়া। আর বাবা তো একজন বিশাল পার্সোনালিটি। ছোটবেলা থেকেই রুমানা তার বাবাকেই সে আর্দশ মনে করতেন। তার বাবা একদিকে যেমন ছিলেন খুব রাগী অন্যদিকে ছিলেন ঠিক মাটির মানুষ। তার বাবা তাদেরকে ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন সৎ পথে চলতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর সঙ্গীতের ক্ষেত্রে খান আতাউর রহমান তাাদেরকে বিশ্বের সঙ্গীত শোনাতেন। বাংলা দেশের মাটির সঙ্গীত, রবীন্দ্র-নজরুল তো আছেই। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় সঙ্গীত, বেঠোভেন, মিরার ভজন সবই শুনতো । আর এ জন্যেই রুমানা ও তার পরিবারের রক্তের প্রবাহে সঙ্গীত মিশে আছে। সঙ্গীত ছাড়া যেন নি:শ্বাসই নিতে পারবে না এমনটাই মনে হয়। তার বাবা সবসময়ই বলতেন, সঙ্গীত হবে তোমার ভালোবাসার জায়গা। এটাকে তুমি উর্পাজনের মাধ্যম হিসেবে নিতে পারবে না। আর পড়াশোনা তোমাকে করতেই হবে। পড়াশোনা করে অন্তত একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি তোমাকে পেতেই হবে। আর তাই তিনি ছোটবেলায় বিখ্যাত কিছু গান গেয়েছিলেন যেমন, ‘মায়ের মতন আপন কেহ নাই’, ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে’ এই গানগুলোই পরবর্তীতে রুমানাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে। এই গানগুলোর জন্য প্র্যাকটিস করাতেন তার বাবা। এভাবেই তার বাবা সব সময় তার পাশে ছিলেন। প্রথম গান করার অনুভূতি অনেকের অনেক রকম লাগে কিন্তু তিনি যখন প্রথম চলচ্চিত্রে গাইতে গেলেন তখন তার তেমন কিছুই মনে হয়নি। যদিও তখন খুব ছোট ছিলেন, কিন্তু কোনো ভয় সেভাবে ছিলনা। তার বাবা তাকে বলে দিয়েছিলেন দরাজ গলায় গাওয়ার জন্য। তিনিও সেভাবেই গানটি রেকর্ড করে ফেললেন। এখন যেমন গান গাইতে ভয় বা টেনশন হয়, তেমনটা তখন একদমই ছিল না। সঙ্গীতাঙ্গনে রুমানা ইসলাম পা রেখেছেন সেই ৮০’র দশকের দিকে। তারপর লম্বা বিরতি দিয়ে ৯১ সালে আবার শুরু করেছেন। সঙ্গীতে তার পথচলা এখন প্রায় ২৮ বছর হতে চলছে। ২৮ বছর তার সঙ্গীতের পদচারণায় দিয়েছেন অনেক কিছু যা সঙ্গীত প্রেমীকেরা মনে রাখবেন যুগের পর যুগ ধরে। এই বিষয়টা তার কাছে আলাদা কিছু মনে হয় না। কারণ সঙ্গীতের কোনো শেষ নেই, পূর্তিও নেই। তিনি মনে করেন যে সে এখনও সঙ্গীত সাগরের কূলেই পরে আছেন। আর এখান থেকে তাকে এখনও অনেক দূর যেতে হবে। তাই তার মনে হয় কত সময় পেরুলো তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং তার যদি কিছু ভালো গান ঝুলিতে থাকে, সেটাই তাকে চিরদিন সঙ্গীতের জগৎ এ স্মরনীয় করে রাখবে। আর এটাই হবে জীবনের জন্য বিরাট পাওয়া। তার গান যেন দর্শক শ্রোতাদের মাঝে অনেক অনেক বছর বেঁচে থাকে সেটাই তার একমাত্র চাওয়া।
৯১ থেকে এ পর্যন্ত আসতে তাকে অনেক সাধনা করতে হয়েছে। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আর এখন তিনি যে জায়গাটায় আছেন, সেটা আমরা বলবো যে বিশাল একটা জায়গা। একটি বিশেষ শ্রেণীর শ্রোতা আছে তার ভক্ত হিসেবে। তবে এ্যালবাম তুলনামূলক ভাবে খুব কম। সোলো এ্যালবাম আছে ৮/১০টি, আর প্লে-ব্যাকে কিছু ভালো গান আছে। তবে গানের সংখ্যা খুব বেশি না হলেই সন্মাণের সংখ্যা বহু। তার প্রথম এ্যালবাম ছিল ‘যদি আর দেখা নাই হয়’। এরপর তার বাবার গানের একটি এ্যালবাম বের করেছেন। রবীন্দ্র সঙ্গীতের এ্যালবাম করেছেন। আসলে এ্যালবামই শিল্পীর সারা জীবনের সঞ্চয়। তারপর তার বাবার শেষ যে চলচ্চিত্র ‘এখনও অনেক রাত’ ছবির ‘যদি আর দেখা নাই হয়’ গানটিই তিনি গেয়েছেন আর সেটাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। গানটির জন্য তিনি বাচসাস পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু সেটা তার বাবার চলে যাওয়ার পর। তার বাবা দেখে যেতে পারেননি। আমরা জানি, তিনি এক দিকে যেমন শিল্পী আবার আরেক দিকে একজন স্থপতি। পরিবারের সাপোট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংসার সুখের হলে কাজ করতেও ভালো লাগে। তার ভাই বোন মা স্বামী মেয়েরা ও শাশুড়ী সবাই তাকে এতটা সাপোর্ট করেন যে আজ পর্যন্ত কোনো বাধাই আসেনি। ছোট বেলা থেকেই তার বাবা সব ধরনের গানই শোনাতেন। বলতেন জীবন সম্পর্কে বুঝতে হলে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প পড়তে হবে। তাই রবীন্দ্র সঙ্গীত খুব ভালোবেসেই তিনি শুনতেন। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল রবীন্দ্র সঙ্গীতের এ্যালবাম প্রকাশ করার তার সেই ইচ্ছেও পূরণ হয়েছে। আমরা তার সুখী ও সুন্দর জীবন কামনা করি। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: