Press "Enter" to skip to content

বৈশাখে নেই এবার বিনোদনে সঙ্গীতের জমজমাট…

আমরা বাঙ্গালী আর আমাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। এই উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিক থেকে সঙ্গীত সব সময় এগিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের দৃশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। বাঙালির সব চেয়ে বড় এ উৎসব। নানান প্রস্তুতি চলেছে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। কিন্তু এবার একেবারেই পিছিয়ে রয়েছে অডিও বাজার। প্রতি বছর এ উৎসবটিকে ঘিরে বিভিন্ন অডিও কোম্পানির আয়োজন থাকে অনেক। সিনিয়র থেকে তরুণ শিল্পীরাও বাঙালির এ বড় উৎসবকে ঘিরে নিজেদের গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার সেই চিত্র একেবারেই আলাদা।

এবার পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নতুন গান প্রকাশের লাফঝাপ তেমন ছিল না। মূলত ব্যবসায়িক মন্দার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন অডিও কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। বিশেষ করে ওয়েলকাম টিউন ও অ্যাপস থেকে আয়ের অঙ্ক ৭০ ভাগ কমে গেছে বলে জানান তারা। এর ফলে কেবল ইউটিউবের ওপর নির্ভর করে নতুন গান প্রকাশে তেমন একটা আগ্রহ ও সাহস পাচ্ছে না কোম্পানিগুলো। তার ওপর ক’দিন আগেই বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যতম বড় সঙ্গীত বিষয়ক অ্যাপস ইয়োন্ডার মিউজিক। সব মিলিয়ে এসব কিছুর প্রভাব ভালোভাবেই স্পষ্ট পহেলা বৈশাখের অডিও বাজারে। পহেলা বৈশাখে কিছু শিল্পীর হাতে গোনা গান কেবল প্রকাশ হয়েছে। অনেক কোম্পানি আবার আগের করা গানগুলোর কয়েকটি প্রকাশ করবেন পহেলা বৈশাখে। সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রস্তুতি তেমন একটা ছিল না অডিও বাজারে। হাতেগোনা যেসব শিল্পীদের গান এবার প্রকাশ হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন এসডি রুবেল, ফাহমিদা নবী, আসিফ আকবর, ইমরান, মিনার, এফ এ সুমন, কাজী শুভ, পূজা, পুতুল, লিজা, তানজীব, মিলনসহ আরো কয়েকজন ফোকশিল্পীর গান। এর মধ্যে বেশ কিছু ভিডিও কোম্পানিগুলো আগেই তৈরি করে রেখেছিলেন। সেসব ভিডিও থেকে কয়েকটি এবার প্রকাশ হতে পারে। সব মিলিয়ে অবস্থা খুব নাজুক বলে জানিয়েছেন এমআইবি সভাপতি ও লেজারভিশনের চেয়ারম্যান একে এম আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, এখন খুব খারাপ অবস্থা। সত্যি বলতে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে অফিস চালানোটাই আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে গেছে। কারণ, গান থেকে আয়ের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এ অবস্থায় নতুন গানে খুব বেশি বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না। পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি বড় উৎসব। এ উৎসবে আমরা নিয়মিত গান প্রকাশ করেছি বিভিন্ন শিল্পীর। কিন্তু এবার সেটা হচ্ছে না। গান আমরা প্রকাশ করছি। কিন্তু তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য নয়। সব মিলিয়ে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা সত্যিই নাজুক। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এ অবস্থা থেকে উত্তরণের। সেলফোন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় এমআইবির হয়ে মিটিং করছি আমরা। আলোচনা করছি। আশা করছি হয়তো কোনো সমাধান বের হয়ে আসবে। এদিকে এ বিষয়ে সঙ্গীত তারকা আসিফ আকবর বলেন, আমি আমার মতো গান করে যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি গানের অবস্থা এখন ভালো। আমি প্রতিদিন গান রেকর্ডিং করছি  নতুন নতুন। আমার নিজের কোম্পানির বাইরেও অন্য কোম্পানি থেকেও গান প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সার্বিক অবস্থা এক নাও হতে পারে। কিন্তু এসব ভেবে গান করা থামিয়ে রাখলে চলবে না। কাজ বন্ধ করলে পিছিয়ে থাকতে হবে।

এখন চলতি প্রজন্মের অনেক শিল্পীই গান কম করছে। এটা ঠিক নয়। সবাইকে নিয়মিত গান করতে হবে। না হলে এগুতে পারবে না। এখনতো গান প্রকাশের বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে। নিজেও গান প্রকাশ করা যায় স্বত্ব নিজের কাছে রেখে। আবার কোম্পানি থেকেও করা যায়। আমার বিশ্বাস সবাই কাজ করতে থাকলে ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য। আমরাও বিশ্বাস করি ভালো মানের গান হলে সঙ্গীত প্রেমীরা আবার গান শুনবেন। ভালো কথা ভালো সুর গানের মানকে বাড়িয়ে দেয়। সেই হিসেবে আমাদেরকে রুচিকর গান বানাতে হবে। সেই শুভ কামনায় সঙ্গীতাঙ্গন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: