এল আর বি খ্যাত আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতিপট…

যাদের হাত ধরে ব্যান্ড সঙ্গীত অপসংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতিতে রূপায়িত হয়েছে তাদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চু অন্যতম। তার কিছু কথার ম্মৃতিচারণ করেছেন সে নিজেই। অতিতের কথা সবারই ভাবতে ভালো লাগে। তেমনি শিল্পীর জীবনেও তাই। শিল্পী তার জীবনের প্রথম পদার্পণ নিয়ে বলেন, যখন মিউজিক শুরু করিনি তখন বুঝতাম না জনপ্রিয়তা কি, কেমন বা আদৌ জনপ্রিয় হবো কিনা। অবশ্য এখনো কনফিউজড এতদূর পাড়ি দিয়েও তেমন কোন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছি কিনা। এভাবে মিউজিক করে যাচ্ছি একমনে, অনেকদিন। ‘৮৬তে ময়না এ্যালবামটি রিলিজ হলো। আমি তখন টকবগে যুবক। আমাকে দেখতে থাকলো সবাই ভিন্ন দৃষ্টিতে, মাঝে মাঝে পড়তে হলো অটোগ্রাফ শিকারীদের হাতে। অনেক অপরিচিত মানুষ চলতি পথে হাত মেলালো, কাছে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলো নতুন টাইপের মিউজিক, নতুন একটা ঢং এর গান বলে। অপরিচিতদের কেউ কেউ প্রশংসার সাথে অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলো, বাচ্চু ভাই আমি আপনার ভক্ত। তাদের কথায় আমি খুব লজ্জা পেতাম। সেই সব লজ্জার মুহূর্তগুলোর কথা মনে পড়লেই নিজেরই হাসি পায়। তখন শুধু লজ্জাই হতো না একই সাথে খানিকটা বিব্রতও হতাম। কারণ মনে হতো আরে বাবা আমি কি এমন কাজ করেছি যার জন্য ছেলেমেয়েরা এসে বলে আমি আপনার ভক্ত। ধীরে ধীরে বিষয়টা স্বাভাবিক হলো। বাড়তে থাকলো আমার ভালবাসার মানুষ। সেই সাথে বাড়লো আমার দায়বদ্ধতা।

দায়বদ্ধতার কথা বলতে গিয়ে আজ প্রথমেই মনে পড়ে গেলো রংপুরের বৃষ্টিভেজা সেই দিনটির কথা। এক দঙ্গল ছেলেপেলে তাদের এক বন্ধুর চিকিৎসার জন্য রংপুর স্টেডিয়ামে ডেকেছিল এলআরবিকে। গিয়েছিলাম সানন্দে। বৃষ্টি আসবার কথা ছিল না তবুও বৃষ্টি এলো অঝোরে। নামলোতো নামলোই থামার কোন লক্ষণ নেই। সকাল, দুপুর গড়িয়ে বিকেল ঝিরিঝিরি বৃষ্টি যেন থামছেই না। কনসার্ট আয়োজক এবং আমরা ভেবে পাচ্ছি না। সবার একই প্রশ্ন – এখন কি করবো ? কারণ এরই মধ্যে টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। হোটেল থেকে খবর পেলাম প্রচুর দর্শক স্টেডিয়ামে হাজির। সবাইকে বললাম যা হবার হবে আগে স্টেডিয়ামে যাই। স্টেডিয়ামে গেটে মাইক্রো থেকে নেমে যে দৃশ্য দেখেছি সেটা এক জনমে বারবার দেখার সুয়োগ পায়না। পুরো স্টেডিয়াম এক কোমর পানিতে ডোবা। তার মধ্যে হাজার হাজার শ্রোতা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কেউ ফুটবল খেলছে, কেউ পানিতে সাঁতার কাটছে। কল্পনাই করতে পারিনি সেদিন রংপুরে এত বৃষ্টি হয়েছিল। ভক্তরা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এলআরবির টানে ছুটে এসেছিল। স্টেডিয়ামের মুখে ঢুকতেই কাক ভেজা হাজারো দর্শক বিকট চিৎকার করে বলছে বাচ্চু ভা-ই-ই-ই। আর দাাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না সোজা নেমে গেলাম কোমর পাানিতে। সবার সাথে হাত মেলাতে মেলাতে স্টেজে গিয়ে উঠলাম। কোন মতে ভেজা প্যান্ট হাত দিয়ে চিপিয়ে শুরু করলাম গাান। গাইলাম টানা তিন ঘন্টা। এই দীর্ঘ সময় গান গেয়ে শোধ করতে চাইলাম ভক্তদের কষ্ট আর ভালবাসার ঋণ। এটা জীবনে না ভুলার মত স্মৃতি। যা এখনো আমি একা একা থাকলেই মনে করি। আসলে সবার জীবনেই এমন কিছু ইতিহাস থাকে যা উপভোগ করার মত। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: