লাকী আখান্দ স্মরণে ‘তোমার যত গান’…

কোন পিছুডাকেই জানি ফিরবে না
কবিতা পড়ার নির্জনতা নামুক!
যে সীমান্ত এঁকেছো আজ নিজে
সুরের মিছিল সেই খানেতেই থামুক!!
ফেরারী মন আসুক ফিরে ফিরে
অভিমান যত নির্বাসনে থাকুক!
আবারও সেই সন্ধ্যা আসুক নেমে
তারুণ্যময় সুরের আগুন লাগুক!!
থাকবে তুমি সুরের ছোঁয়ায় ভেসে
রণন তুলে প্রতিধ্বনি ছুটুক!
হাওয়ার বুকে বসন্ত সংলাপে
তোমার সুরেই সুবর্ণ ফুল ফুটুক!!

পৃথিবীতে মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন তার পরিবার ও আত্বীয় স্বজনেরা খুব খুশি হয়। আরো খুশি হয় যখন তার প্রতিভার অসম্ভব ভালো ফল উদ্বভাসিত হয়। জায়গা করে নেয় মানুষের অন্তরে। দিয়ে যায় ভুলতে না পারার মত কিছু সময় আর তার মধ্যে কিছু না ভুলা কাজ। যা ছুঁয়ে যায় মানুষের কমল মনকে। আপন হয়ে ওঠে, প্রতিটা অন্তরের অন্তস্তলে স্থান করে নেয় প্রিয় মানুষের অন্তরে। কিন্তু যখন এই পৃথিবীতে তার পথচলা সিমান্তের লগ্নে এসে পৌছায় যখন তার আত্ববিশ্বাষ জন্মে যায় আমি আর বাচঁবো না তখনও শত আশায় বাধে বুকের নিগর কুটি। স্বপ্ন দেখে আগামীর। কিন্তু মৃত্যু তো সেই স্বপ্নের জাল কেটে দেয়। আর এগুতে দেয়না সামনের দিকে। বিষন্নতা তার চারদিকে ঘুরে বেড়ায়। তার পাশে থাকা মানুষ গুলোকে তার কাছে তখন আরো অনেক বেশি আপন মনে হয়। মন চায় না ছেড়ে যেতে তাদের। কিন্তু নিয়তি মানতে হবে। চলে যেতে হবে, চলে যায় সবাই। কিন্তু যে চলে যায়,
তার অবর্তমানে হাজারো কষ্টের সিমাহীন আর্তনাদ কুড়ে কুড়ে খায় মায়ার অন্তরকে। ভুলতে চাইলে ক্ষণে ক্ষনে তার স্মুতিগুলোই মনে করিয়ে দেয় তার কথা। এমনই একজন মহান ব্যাক্তির কথা ব্যাক্ত করার জন্য বর্ণনাতীত ভূমিকা টেনে গেলাম। যিনি আমাদের সঙ্গীত জগৎ এর পুরোধা। তিনি হলেন সবার প্রিয় ব্যাক্তি, জনপ্রিয় শিল্পী লাকী আখান্দ। যার মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে মনে করছে সঙ্গীত জগৎ এর সর্বস্তরের মানুষ। তার গুনগ্রাহী ভক্ত শিষ্য ও বন্ধুসূলভ সবাই। তাদের মধ্যে একজন অন্যতম ভক্ত ও শিষ্য কাজী তিতাস। যিনি স্নেহের পুরোটা আকুতি ও আবেগের সবটুকু ভক্তি দিয়ে মনে করছেন তার প্রিয় মানুষটির কথা। বিদেশের মাটিতে থেকেও সঙ্গীতের সূতোয় বেধে দিয়েছেন তার সঙ্গীত চর্চার অনুভূতি। এবং গানের মাধ্যমে মনে করেছেন তার গুরুজন লাকী আখান্দকে। লন্ডনে থেকে তিনি প্রচুর সাধনা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে লাকী আখান্দ স্মরণে তৈরী করেছেন ‘তোমার যত গান’ শিরোনামে তিনটি গান। যার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র ভালোবাসার সুক্ষ অনুভূতি গুলো। তিনটি গানই পরিচালনা করেছেন কাজী তিতাস এবং গান গুলো তাদের ইউটিউব চ্যানেল বাংলা সুপার ভূবন থেকে প্রকাশিত। প্রথম গানটি ‘আমায় ডেকো না’। গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন বিজয় মামুন এবং সঙ্গীতায়জনও করেছেন তিনি। দ্বিতীয় গানটি গেয়েছেন প্রিন্স মাহফুজ ‘আজ আছি কাল নেই’ সঙ্গীতায়জন করেছেন মির মাসুম। শেষ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন এ আই রাজু। ‘যেখানেই সিমান্ত তোমার’। গানটির সঙ্গীতায়জন করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু। তিনটি গানেরই পরিচালনায় ছিলেন কাজী তিতাস ও ট্যালেন্ট এন্ড ক্রিয়েটিভিটি। এ সম্পর্কে কাজী তিতাস বলেন, আমরা লন্ডনের একটি জনপ্রিয় চ্যানেল রিল্যাকস্ রেডিওতে এ বিষয়ে ২ ঘন্টা লাইভ অনুষ্ঠান করি। এবং আই ও এন টিভি স্কাই চ্যানেলে ৮৬২ তে ট্রিবিউট শো করি। এটাও পরিচালনায় ছিলাম আমি এবং ট্যালেন্ট ক্রিয়েটিভিটি।

গান গুলো খুব সুন্দর কম্পোজার হয়েছে। গায়কীতেও নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সবাই। আমার পক্ষ থেকে সবাই কে অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে একটা কথা না বললেই নয়, লাকী ভাই পৃথিবীতে একটাই আর কোন লাকী ভাই জন্ম নেবে না। তাকে হারানো মানে সঙ্গীতকে হারানো। আমার খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন কাছের মানুষ ছিলেন। আমি তার রুহের মাঘফেরাতকামনা করি। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: