থ্রিয়েটিক্যাল ব্যান্ড ‘গানকবি’ প্রশংসিত লোকগানকে বিনোদনে আনবে পরিবর্তন…

বাংলা সংগীতের একটি প্রধান শাখা হচ্ছে লোকসংগীত। সঙ্গীতের যে শাখায় বাংলার মাটি ও মানুষের হাজারো স্মৃতি বিজোড়িত কাহিনী ছন্দ ও সুরে প্রকাশ করা হয় তারই নাম লোকসঙ্গীত। এক কথায় বাংলার প্রচলিত একটি সংগীতের নাম লোকসঙ্গীত।
এক সময় বাংলার মাঠে-ঘাটে, আনাচে-কানাচে, কৃষান-কৃষানী, জেলে-তাঁতীর কন্ঠে এই গানের সুর বেঁজে উঠতো। মনের আনন্দে কাজ করতো আর গাইতো বাংলা লোকগান। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে এক রকম বিলুপ্তিরর পথে বাংলার ঐতিহ্যের এই লোকসঙ্গীত। পশ্চিমা সাংস্কৃতির প্রভাবে এখন আর লোকসঙ্গীত খুব একটা শোনা যায় না। এখনি সময় বাংলার ঐতিহ্যের এই সঙ্গীতকে রক্ষা করা। এমনি ভাবনায় লোকসংঙ্গীতকে পুনরায় উজ্জীবিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ‘গানকবি’ নামের নতুন এই ব্যান্ডদল। তারা চায় বাংলার মানুষের মুখে মুখে আবারও লোকসঙ্গীতের সেই প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।

ব্যান্ডদল ‘গানকবি’র সাথে সঙ্গীতাঙ্গনের একান্ত আলাপচারিতায় দলের অন্যতম সদস্য আকাশ গায়েন বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ই জানুয়ারী আত্মপ্রকাশ করে আমাদের গানকবি। ছয় সদস্য নিয়ে আমরা আমাদের গানকবি ব্যন্ডদলের কাজ শুরু করি এবং আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা মূলত লোকগান করি। গানকবি দলের মূল উদ্দেশ্য বাংলার লোকসংঙ্গীত ও সাধকদের কর্মকান্ডে বা আদর্শকে মনে লালন করে তরুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে।

লোকগানকে বাঁচিয়ে রাখতে বাংলার মানুষকে লোকসংঙ্গীত সাধকদের সুরসাধনা ও তাদের কর্মকান্ড পরিচিতি বিস্তারিত তুলে ধরে, সাধকদের সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করা। তাদের সৃষ্টিতে সুর ও সাধনায় মাটি, মানুষ ও আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে কি নিখুঁত আলোচনা হয়েছে। লোকসংঙ্গীতের আদিগানই আমাদের প্রানের গান ও আসলগান। আমরা মনে করি লোকসংঙ্গীত আদিতে যেমন ছিলো তেমনটাই জানা ও গাওয়া উচিৎ এতে করে সৃষ্টি ও সাধকদের প্রতি সন্মানও বৃদ্ধি পাবে। গানকবির সদস্য সুদীপ্ত শাহিন বলেন, লোকগানের জন্য দূঃখজনক একটা ব্যাপার হলো, যেখানে আমাদের শতশত মানুষেরই গান শোনা হয় সেখানে কয়েকজন মাত্র চিনে আমাদের আদি লোকশিল্পীদেরকে, সাধকদের, এবং গীতিকবিদের। গানের স্রষ্টাকে চিনতে হবে এই ভাবনা থেকেই আমাদের মনে হয়েছে বাংলার লোকসংগীত, লোকসাধক ও তাদের গান নিয়ে কিছু করা উচিত। সেক্ষেত্রে আমাদের আগামী প্রজন্মকে লোকগান সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে ও এগিয়ে আসতে হবে তাঁরা যেনো, লালন সাঁইজি শাহ আব্দুল করিম, রাধারমন আব্দুল আলীম, আব্বাসউদ্দিন, মিনা বড়ুয়া, দীনোহীন এছাড়াও অসংখ্য লোকসংঙ্গীতের সাধক গুনীজন রয়েছে তাদের যেনো
আমাদের আগামী প্রজন্ম চিনতে পারে সেভাবেই সবাইকে সম্মিল্বিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

গানকবি’র সদস্য সোহান জানান, লোকগান আমাদের প্রানের গান এই লোকসঙ্গীতকে সম্মানীয় করতে প্রতিবছর আমাদের গানকবির দলের জন্মদিনে লোকসাধক সম্মামনা দেওয়া হয়। তাদের কাজের ব্যাপারে স্বীকৃতি জানিয়ে আমরা মানুষের সাথে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। গানকবির শিল্পী তিয়াস লোকসংঙ্গীত সম্পর্কে বলেন, আমরা আমাদের সৃষ্টি করাকে পছন্দ করি। এই আদি লোকগানগুলোকে বিকৃত করে গাওয়ার অধিকার কারো নেই। এ লোকসংগীত আমাদের দেশের সংস্কৃতি আমাদের সম্পদ। আর এই ভাবনা থেকে লোকগানকে নিয়ে আমাদের গানকবির প্রচেষ্টা ও জাগ্রত চেতনা। আমাদের সংস্কৃতি নিয়েই আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত নিজেদের পরিচয়টা ঠিক রাখতে হবে আমাদের সংস্কৃতির সৃষ্টি দিয়ে। আমাদেরকে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

পশ্চিমা বা ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে লোকগানের জন্য একটা প্লাটফর্ম দরকার। কিছু গনমাধ্যম আমাদের নিয়ে কথা বলেছে তবে প্রয়োজনের তুলনায় আমরা সেরকম প্লাটফর্ম পাচ্ছি না। গনমাধ্যমগুলোতে লোকগানের ব্যান্ডগুলোর সুযোগ খুবই কম, লোকগানের জন্য মিডিয়াতে আরও বেশী প্রচারনা প্রয়োজন।

লোকসঙ্গীতের দর্শকপ্রিয়তার কথা বলতেই, গানকবি সদস্য তরুন প্রতিভাবান শিল্পী তারেক হাসান বলেন, আমরা অনেক অনুপ্রানিত হচ্ছি ও দর্শকের ভালোবাসা সেইসাথে অনেক সাপোর্টও পাচ্ছি। তিনি আরও জানান,আমাদের গান কবির নিজস্ব সৃষ্টি ৪টি মৌলিক গান রয়েছে। জোছনা রাইতে ও হায়রে সহজ জীবন এ দুটি মৌলিক গান ছাড়াও আসন্ন ঈদে, আসমানের পঙ্খী ও গোলাপবালা , এ দুটি গান মিউজিক ভিডিওসহ রিলিজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করি গানকবি ভালো কিছু উপহার দিবে।

আমরাও চাই, গানকবি দল বাংলার লোকসংঙ্গীত এর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে তাদের সৃষ্টি ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে। গানকবি দলকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা লোকসংঙ্গীতের ঐতিহ্য ফিরে পেতে চাই। আমরাও গানকবি দলের সাফল্য কামনা করি। – রুপা মল্লিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: