আমার বুকে ছিল জাতীয় পতাকা এবং পতাকার উপর ছিল পবিত্র কোরান…

বাংলাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব গীতিকার, সুরকার আহম্মদ ইমতিয়াজ বুলবুল বলেন আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই সবকিছু শুরু হয়েছিল। আমার বুকে ছিল জাতীয় পতাকা এবং পতাকার উপর ছিল পবিত্র কোরান।
দেশ বরেণ্য এ সংগীতশিল্পী গত ৬ জুন নিজের সুস্থতা কথা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা করে ও NICVD এর সকল ডাক্তার এর সর্বাত্মক সহযোগীতার কথা স্মরণ করে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন –
(মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ আমি মহান আল্লাহ্‌র রহমতে অনেক সুস্থ এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য আমার আজীবন প্রার্থনা) আমি ইচ্ছা করলেই দেশের বাহিরে গিয়ে আমার হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে পারতাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগও আমাকে দিয়েছিলেন।
কিন্তু আমার দেশপ্রেম আমাকে দেশ ত্যাগ করতে দেয়নি।
আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই সবকিছু শুরু হয়েছিল। আমার বুকে ছিল জাতীয় পতাকা এবং পতাকার উপর ছিল পবিত্র কোরান। (আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৬মে দেওয়া তাঁর এক ফেসবুকের স্ট্যাটাসে বলেন আমি শুধু অপারেশনের আগে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা আর কোরআন শরিফ রাখতে চাই।)

তিনি তার ফেসবুকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর সকল ডাক্তার এর সর্বাত্মক সহযোগীতার কথা স্মরণ করে বলেন। আমি এনআইসিভিডি এর সকল ডাক্তার এর সর্বাত্মক সহযোগীতা পেয়েছি… যা ভাষায় বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে তাদের স্বরণ করছি।
এবং তিনি তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসের সমাপ্তি করেন তার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে।
বন্ধুরা,
আমার এই হৃদরোগ চিকিৎসাটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, তাই আমার নিকটস্থ আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, শিল্পী, সাংবাদিক ও অনেক কাছের শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও কিছু বলে যাইনি। আমি অন্তর থেকে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম।
আহম্মদ ইমতিয়াজ বুলবুল বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

৫ জুন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে বাসায় ফিরেন, বুলবুল জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. অধ্যাপক আফজালুর রহমান। সকাল নাগাদ তাকে হাসপাতালের ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। চিকিৎসক আফজালুর রহমান বলেন, ‌আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সাহেবের হার্টে দুটি রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়েছে। প্রথমে খুবই জটিলতা ছিল। রক্তনালীর অবস্থাও বেশ খারাপ ছিল। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় রিং পরানো হয়। সব মিলিয়ে তিনি এখন ভাল আছেন। স্বাভাবিক কাজকর্ম এখন থেকে করতে পারবেন। তবে তাকে সাবধানে থাকতে হবে। কারণ তার হার্টের অন্যান্য ব্লক পর্যবেক্ষণে রাখা খুব জরুরি।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের একমাত্র ছেলে সামির আহমেদ বলেন, চিকিৎসার জন্য বাবাকে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে শনিবার তাঁর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট পরানো হয়।
সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি আগের মতো আবারও গানে ব্যস্ত হতে পারেন। বাবার সবকিছু এখনো গানকে ঘিরেই।
দেশ বরেণ্য এ সংগীতশিল্পী গত ১৬ মে নিজের অসুস্থতা নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন। যা দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই পোস্ট নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরপর প্রধানমন্ত্রী গুণী মানুষটির চিকিৎসার যাবতীয় দায় ভার নেন। -সরদার জিল্লুর রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: