Press "Enter" to skip to content

কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো নজরুল মেলা ২০১৮…

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর
টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিপুল বিস্তারে বিচরণ করেছেন সাহিত্যের ভুবনে। বিপ্লব, সাম্য, মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সমগ্র জীবনজুড়ে। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশ ও বিশ্বময় আজও প্রাসঙ্গিক কাজী নজরুল। দ্রোহের এই অনবদ্য সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা, তিনি একাধারে সৃজন করেছেন প্রেমের পংক্তিমালাও। চিন্তার বৈচিত্র্য আর বিস্তারে এভাবেই বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ক্ষুরধার লেখনীর আঁচড়ে যিনি সাহিত্যের ভুবনে বিচরণ করেছেন অনায়াসে। নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যুগে যুগে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। ইতিহাস ও সময় সচেতনতার প্রভাব রয়েছে তাঁর সৃষ্টি জুড়ে। বিশিষ্টজনেরা বলেন, বাংলা সাহিত্যে নজরুলের আগমন ধুমকেতু তুল্য। নজরুলের কবিতা, গানে ও অন্যান্য রচনায় বারবার উঠে এসেছে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা। তাঁর গান ও কবিতা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের ও প্রেরণার উৎস।

সেই প্রিয় কবি স্মরণে, ছায়ানট কলকাতার আয়োজনে, রাজারহাটের নজরুলতীর্থে, ১লা জুন থেকে ৩রা জুন অবধি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নজরুল মেলা ২০১৮। পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন কলকাতার সোমঋতা মল্লিক। দুই বাংলার দুই শতাধিকেরও বেশি শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন এই মেলাতে। প্রথম দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুশো কণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা পাঠের মাধ্যমে মেলার শুভ উদ্বোধন। এছাড়াও, কোয়েস্ট ওয়ার্ল্ড থেকে প্রকাশিত হলো ‘ইতি নজরুল’ অডিও-এ্যালবামটি, যেখানে দুই বাংলার ৪১ জন শিল্পী পাঠ করেছেন কাজী নজরুল ইসলামের ৫৭টি পত্র। মোড়ক উন্মোচিত হলো বিনোদ ঘোষালের লেখা নজরুল-জীবনীকে নিয়ে ‘বাজায় বাঁশি’। উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন দেবাশীষ সেন, প্রদীপ ঘোষ, রামানুজ দাসগুপ্ত, দেবাশীষ বসু, অনুপ মতিলাল, মল্লার ঘোষ, সুস্মিতা গোস্বামী, চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত, মধুমিতা বসু, বিনোদ ঘোষাল ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ফতেমা তুজ-জোহরা,
বুলবুল মহলানবীশ, নাশিদ কামাল, কামরুল ইসলাম, একরাম আহমেদ, রেজাউল হোসেন টিটো, প্রমুখ দুই-বাংলার অগণিত বিশিষ্ট মানুষরা। প্রথম দিনে শিল্পীরা ছিলেন গীতিকা গোষ্ঠী, সীমা ইসলাম, মুক্তধারা গোষ্ঠী, সুরঙ্গমা গোষ্ঠী, কথাশিল্পী গোষ্ঠী প্রমুখ। মেলাতে সঙ্গীত-কবিতাপাঠ-নৃত্যানুষ্ঠান ছাড়াও ছিলো চিত্র-প্রদর্শনী, সেমিনার ও সিডি-বইয়ের সম্ভার। এভাবেই সঙ্গীতকে লালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে সঙ্গীতপ্রেমীরা। সঙ্গীত চর্চার সঙ্গীত প্রেমীদের জানাই সঙ্গীতের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: