Press "Enter" to skip to content

মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু’র আজ শুভ জন্মদিন…

জনপ্রিয় গানের গীতিকার ও মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ই জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জের চরনগর, নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। আজ ১৭ই জুলাই তাঁর শুভ জন্মদিন।
তাঁর বাবা নাম বজলুল কাদের এবং মায়ের নাম রেজিয়া বেগম।
১৯৮৪ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি শাহীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে নাজিয়া ও নাফিয়া।

“ডাকে পাখি খোল আঁখি
দেখ সোনালী আকাশ/ বহে ভোরের বাতাস”…

এই অসাধারণ গানের শিল্পীর নাম সবাই জানলেও সিংহভাগ মানুষ জানেন না গানের রচয়িতার নাম নজরুল ইসলাম বাবু। বাবু শুধু গীতিকবিই নন; একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। একাত্তরে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন সরকার আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর উপর গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলে তিনি আত্মগোপন করে চলে যান ভারতে। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি আবার লেখাপড়া, সাহিত্য ও সংগীত চর্চা শুরু করেন।

বৈরী পরিস্থিতির ভেতরও আশির দশকে আমাদের বাংলা সঙ্গীতে কয়েকজন গীতিকবি গান নিয়ে মেতে ছিলেন। তাঁরা নানাভাবে গানের ভুবনকে স্বচ্ছল করেছেন, সমৃদ্ধ করেছেন এবং নিজেরাও গীতিকার হিসেবে যথেষ্ট সন্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেন তারা হলেন- মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মুন্সী ওয়াদুদ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, নুরুজ্জামান শেখ, নজরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।
১৯৭৩ সালে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন এবং সেই বছরেই তিনি রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে সুরকার শেখ সাদী খানের সাথে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে গান লিখতে শুরু করেন। আঁখি মিলন, দুই পয়সার আলতা, মহানায়ক, প্রতিরোধ, উসিলা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, প্রেমের প্রতিদান-এর মতো দারুণ সব চলচ্চিত্রের দারুণ দারুণ গান রচনা করেছেন বাবু। ১৯৯১ সালে ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র ও বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতির পুরষ্কারে পুরষ্কৃত হন।

১৯৮৬ সালে যৌথ প্রযোজনায় সমষ্টি চলচ্চিত্রের ব্যানারে একটি চলচ্চিত্র তৈরিতে হাত দেন। তিনি এ ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গান রচনা করেছেন। একটি স্নিগ্ধ, শান্ত, শীতল, কোমল, মিষ্টি সকালের আমেজে, ভোরের গানের আড়ালে নিজের প্রতি যত্ন না করে হঠাৎ ১৯৯০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যান আমাদের থেকে “ডাকেপাখি খোল আঁখি, দেখ সোনালী আকাশ/ বহে ভোরের বাতাস” গানের জনক। তাঁর মৃত্যুর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মিরপুর শহীদবুদ্ধিজীবী গোরস্থানে কবর দেয়ার জন্য তৎকালীন মেয়র আবুল হাসনাত সহায়তা করেন। এখন সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত নজরুল ইসলাম বাবু।

শুধু নজরুল ইসলাম বাবু’র গানের ক্ষেত্রেই নয়; অধিকাংশ গানের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে। কবিদের যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং মূল্যায়ন করা হয়, গীতিকবিদের ক্ষেত্রে তা হয়না। তাই আমাদের অনেকেই গান লেখায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এখন গান লেখা সহজ এবং লিখে সন্মানীও মেলে। কিন্তু এক সময় রেডিও-টিভিতে গান লেখার জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ছিল বাঞ্চনীয়। তাই গীতিকার হতে হলে বাধ্যতামূলক পঁচিশটি গান জমা দিয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনের পর ‘ওয়ার্সি’ জুটতো। আর বেতারে এ বি সি গ্রেডের গীতিকারদের সন্মানি দেয়া হতো প্রতি গান যত বার বাঁজবে; তত বার এক, দুই, তিন টাকা করে।

নজরুল ইসলাম বাবুর গানের সংখ্যা দুই শতাধিকও নয়; মাত্র দেশেরর গান ১১৩, আধুনিক গান ৫২ এবং ধর্মীয় গান ৯টি। এই তালিকার বাইরে হয়তো আরো দু’চারটি গান রয়েছে। নিচে তাঁর জনপ্রিয় কিছু গানের কথা উল্লেখ করা হলো-

* দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল।
* কথা বলবো না/ বলেছি,
* কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত,
* কাঠ পুড়লে কয়লা হয়
* পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই,
* সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী,
* আমার গরুর গাড়িতে
* কত যে তোমাকে বেসেছি,
* আমার মনের আকাশে আজ,
* ডাকে পাখি খোলো আঁখি সহ অনেক গান।

তিনি নেই, আছে তাঁর হৃদয়ছোঁয়া গান, আছে তাঁর গানের অমর বানী যা আজো মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়।
আজ তার জন্মদিনে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। – রবিউল আউয়াল

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: