সুস্থ থাকতে থাকতেই বিদায় নেবো ভেবেছিলাম…

মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে তখন পৃথিবীর সবাই তার আগমনে খুশি হয়। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সবার মন। পৃথিবীটাও তখন তার আগমনে খুশি হয়। কিন্তু যখন আস্তে আস্তে সেই মানুষটি পৃথিবীর গর্ভে চলতে থাকে। পৃথিবীর আলো, বাতাস সহ সব কিছু ব্যবহার করতে থাকে। আর যখন সে তার ভাগের যত কিছু ব্যাবহার করে শেষ করে দেয় তখন পৃথিবীর আলো, বাতাস, মাটি, পানি সব কিছু তার থেকে বিদায় নিতে চায়। তাকে এটাই বুঝাতে চায় তোমার সময় শেষ। কিন্তু মানুষ তো দুনিয়াপ্রেমী। কেউ চায় না সুন্দর এই ভূবন ছেড়ে চলে যেতে। চায় না সে স্মৃতি বা ইতিহাস হয়ে থাকতে। সে চায় জীবন নিয়ে সবার সাথে চলতে। কিন্তু নিয়তি তাকে সময় দিতে চায় না। এমনই একজন গুণী মানুষ সুজেয় শ্যাম। যে থাকতে চায় পৃথিবীর মানুষের সাথে। চলতে চায় চেনা সেই পথে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম ক্যান্সারে আক্রান্ত। সম্প্রতি ভারতের একটি হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য গেলে তার প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। দূরারোগ্য এই রোগের চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে এরই মধ্যে আর্থিক সংকটে পড়েছেন এই কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক। তাই নিজের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সুজেয় শ্যাম বলেন, সুস্থ থাকতে থাকতেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারবো বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে একটা সংবাদে সব ওলটপালট হয়ে গেলো। আমি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে অসম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার পাশে দাঁড়ালে বিধাতার কৃপায় হয়তো এই রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

তিনি জানান, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বায়োপসি (কোষের বিশেষ পরীক্ষা) করাতে আবারও ভারত যাবেন। সেই রিপোর্ট পেলে জানা যাবে ক্যান্সার কোন ধাপে আছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং স্বাধীনতার প্রথম গানের সুরস্রষ্টা সুজেয় শ্যাম। ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’, ‘আয়রে মজুর কুলি’, ‘আহা ধন্য আমার জন্মভূমি’, ‘রক্ত চাই রক্ত চাই’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’সহ বহু দেশাত্ববোধক গান লিখেছেন তিনি। কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে গত বছর মুক্তিযোদ্ধা সনদ পান সুজেয় শ্যাম। ২০০৪ সালে স্বাধীনতা দিবসে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠানের সঙ্গীতায়োজন করেন এই গুণী ব্যক্তি। ২০০৯ সালে ইউনিলিভারের প্রযোজনায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৫০টি গান করেন এই প্রজন্মের শিল্পীরা, যার সঙ্গীত আয়োজনেও ছিলেন সুজেয় শ্যাম। আমরা তার অবদান ভুলতে পারবো না। সুনামধন্য এই সুরস্রষ্ঠার জীবন বাচাঁতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিৎ। সৃষ্টিকর্তা তার সুস্থতা দান করুক এই কামনা। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: