মাহমুদুন্নবী স্মরণে এ্যালবাম ‘আমার গানের প্রান্তে’…

বাংলা সঙ্গীতে আধুনিক বাংলা গান ও চলচ্চিত্রের গানে নতুন মাত্রার সঞ্চার করেছিলেন জনপ্রিয় ও নন্দিত শিল্পী মাহমুদুন্নবী (১৯৩৬-১৯৯০)।
আসছে ঈদ উপলক্ষে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিবেদন করছে এই খ্যাতিমান শিল্পীর গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে নির্বাচিত কালজয়ী কয়েকটি গান নিয়ে তাঁরই স্মরণে আধুনিক বাংলা গানের এ্যালবাম ‘আমার গানের প্রান্তে’। মাহমুদুন্নবী স্মরণে এ্যালবামের গানগুলোতে কন্ঠ দিলেন তাঁরই দুই কন্যা, কৃতী শিল্পী ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী। পারিবারিক ঋদ্ধ সাঙ্গিতিক ঐতিহ্যে লালিত শিল্পীদ্বয়ের কণ্ঠমাধুর্যে নতুন প্রাণ পেল মাহমুদুন্নবীর অমর গানগুলো। ‘আমার গানের প্রান্তে’ এ্যালবামে মোট গানের সংখ্যা ১০টি।
এ্যালবামটিতে ফাহমিদা নবী কন্ঠ দিয়েছেন যে গানগুলোতে সেগুলো হলো –
১। মনে মনের যে কথা
২। তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছ
৩। তোমার দুহাত দিয়ে অন্ধ করে দাও ও
৪। বড় একা একা লাগে
এবং সামিনা চৌধুরী গেয়েছেন
১। ওগো মোর মধুমিতা
২। আমি আগুনকে ভয় পাই না
৩। অনেক সেধেছি সুর
৪। তুমি যে আমার কবিতা’ গানগুলো এবং দ্বৈতকণ্ঠে তাঁরা নিবেদন করেছেন ‘দিয়েছি মায়ের স্নেহ’ এবং ‘সুরের ভুবনে আমি আজও পথচারী’ গান দুটি। গানগুলোর যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন আশু চক্রবর্তী। বাবা মাহমুদুন্নবী ও তাঁর গান নিয়ে দু’বোনের মন্তব্য এ্যালবাম কভারে মুদ্রিত হয়েছে –

ফাহমিদা নবী বলেন, কিংবদন্তি শিল্পী মাহমুদুন্নবীর গান গাওয়া অনেক বড় দায়িত্বের তারপর তিনি আমার বাবা। তার প্রতি ভালোবাসা ভক্তকুলের অন্যরকম, বুঝতে পারি তখনই যখন আমাদের দেখলেই তাঁরা বলে ওঠেন, বাবার কন্যারা কেমন আছো? তোমার বাবার মতো কণ্ঠ আজো তো পেলাম না ! তিনি বড় ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর প্রতিটি গান ভালোবাসায় লালিত শ্রোতার অন্তরে। এমনকি নতুন প্রজন্মের কাছেও নতুন করে বারবার বাবা ফিরে আসেন তার সোনালি কণ্ঠের মাধুরীতে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে সম্মান জানাই। তাদের জন্য আমরা দুই বোন বাবার কিছু গান শ্রোতার কাছে তুলে দিলাম। বাবার মতো গাইতে পারিনি, চেষ্টা করেছি মাত্র। এ্যালবামটি সংগ্রহে রাখার মতো শ্রোতা আজো আছে, থাকবে বিশ্বাস করি, যারা গান ভালোবাসেন তাদের জন্য আমাদের দুই বোনের ক্ষুদ্র প্রয়াস, আশা করি বাবাকে খুঁজে পাবেন গানে গানে।

সামিনা চৌধুরী বলেন, নিজের বাবার কথা লিখতে বলা হলে যেমন অনেক লিখতে মন চায়, ঠিক তেমনিভাবেই, কী লিখবো, বাবার কোন কথা রেখে কোন কথাটুকু লিখবো, তা বুঝে উঠতে হিমশিম খেতে হয়। কত কথা, কত স্মৃতি তা তো শেষ হবার নয়। তাঁর গান আমাদের কণ্ঠে ধারণ করে তাঁর মতো বিশাল সমুদ্রসম কণ্ঠের পরিধি জানাবার ভাষা অন্তত আমার জানা নেই। আমার শোনা একটি কণ্ঠ যাঁর কথা বলা এবং গাইবার আওয়াজ এক। তাই তাঁর গায়কীতে ফুটে উঠতো সহজ সারল্যে ভরা একটি চরিত্র। একই সাথে তাঁর গায়কীতে ছিল নৈপুণ্য, যা তিনি সাবলীলভাবে তাঁর গুণ দিয়ে গেয়ে মানুষের মনে চিরদিনের মতো গেঁথে দিয়ে গেছেন। সেই গাঁথা ভেঙে বেরোনো অসম্ভব। তারপরও মাহমুদুন্নবীর গান গাইবার লোভ বা সাহস যাই বলি না কেন, তা করলাম দু’বোন মিলে শুধু বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সুন্দর একটি ইচ্ছাপূরণ করতে। আব্বার স্বর্ণখচিত হাজারো গান থেকে কিছু গান প্রিয় শ্রোতাদের
হাতে তুলে দেবার দুঃসাহস করলাম। বাবার গান এবং মানুষ মাহমুদুন্নবীকে যাঁরা ভালোবাসেন, তারাও যে আমাদের কাছে আবদার করেছেন তাঁর গান আমাদের কণ্ঠে ধারণ লালন করতে। তো সেই সাহসটি আবারো করলাম। কাজটি কঠিন, তবে অনেক ভালোবাসায় ভরা, অনেক আবেগময় আর স্মৃতিময়। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন বাবার গানগুলো শুদ্ধভাবে গেয়ে যেতে পারি এবং তাঁর পথ ধরে শুদ্ধ ও সঠিক সংগীতের পথে হাঁটতে পারি।

জনপ্রিয় এই শিল্পী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আজও বাংলা ভাষাভাষি অগণিত সঙ্গীতপ্রিয় শ্রোতাদের হৃদয়কে দোলা দিয়ে যায় তাঁর গান। তিনি আমাদের মাঝে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্ম বা সৃষ্টির মাধ্যমে। – রবিউল আউয়াল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: