দেশে ফিরেই রিজিয়া পারভীন এর গান নিয়ে ব্যস্ততা…

বাংলা সঙ্গীতের জনপ্রিয় একজন সঙ্গীতশিল্পীর নাম রিজিয়া পারভীন। সঙ্গীত জগতে দীর্ঘদিন তার বিচরন। এই দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বাংলা সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন প্লেব্যাক ও অডিও এ্যালবামের মাধ্যমে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে। তিনি কিশোরগঞ্জ জন্মগ্রহন করলেও বেড়ে উঠা রাজশাহীতে। পড়াশোনা করেন রাজশাহী মহিলা কলেজে। ১৯৯৩ সালে তার প্রথম এ্যালবাম ‘চুরালিয়া’ প্রকাশিত হয়। তারপর একের পর এক করে ২৭টি সলো এ্যালবাম এবং ১৬৫টি ডুয়েট এবং মিক্সড এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। আজহারুল ইসলাম খানের তালাক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম প্লেব্যাকে করেন।

জনপ্রিয় এই কন্ঠশিল্পী বর্তমান সময়ের বেশীর ভাগ সময় কাটান দেশের বাহিরে। দেশের বাহিরেও প্রবাসী বাঙ্গালীদের আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় গানের বিভিন্ন স্টেজ শো আর কনসার্ট নিয়েই। সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই সঙ্গীতপ্রেমী কন্ঠশিল্পী। ঢাকায় ফিরে রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে অংশগ্রহন করেন কনসার্টে। গত ৩০শে আগষ্ট রাত ১১.০০ টায় এনটিভির লাইভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে গান শোনান। কথা হয় সঙ্গীতাঙ্গনের সাথে কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীনের –

শত ব্যস্ততার মাঝেও জানতে চাই কেমন আছেন ?
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহপাক আপনাদের দোয়ায় ভাল রেখেছেন। দেশের বাহিরে বেশ সময় অতিবাহিত হলেও দেশের মাটি ও মানুষকে অনেক মিস করি। তবে সেখানেও প্রবাসী বাঙ্গালীদের আয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান নিয়ে ব্যস্ত থাকি।

দেশে ফিরে গান নিয়ে ব্যাস্ততা কেমন যাচ্ছে ?
গত ২০শে আগষ্ট দেশে ফিরেছি। দেশে ফিরেও রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কনসার্ট করেছি। অল্প সময় দেশে থাকা হয় তাই নতুন করে গানের কাজে হাত দেয়া হয় না। তবে নতুন গানের এ্যালবামের কাজ চলছে।

বাঙ্গলা সঙ্গীতপ্রিয় শ্রোতারা আপনার নতুন এ্যালবামের গান কবে শুনতে পারবে বলে আশা করা যায়?
আশা করি শ্রোতারা আগমী ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে নতুন এ্যালবামের গান শুনতে পারবে। নচিকেতা দা গানগুলো নিয়ে কাজ করছে। এ্যালবামটি ১০টি গান দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা আছে।

এখনতো ইউটিউবের জগতে সবাই একটি করেই গান প্রকাশ করে। আপনি ১০টি গানের একটি এ্যালবাম করার পরিকল্পনা হাতে নিলেন, উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কি ? জানতে পারি।
এটা সত্য যে সবাই এখন একটা করেই গান প্রকাশ করে থাকে। এ্যালবামের ট্রেন্ড এখন আগের মতো নাই। কিন্তু আমি করতে চাই। আমি মনে করি এ্যালবামের মাধ্যমে গান সংরক্ষনের হয়। তাই খুব যত্ন সহাকারে সময় নিয়েই কাজটা করতে চাই। আর এটা হবে আমার ২৮তম একক এ্যালবাম।তবে আমি মনে করি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এ্যালবামও প্রকাশ করা উচিত। কারন গানের এ্যালবামের সৌন্দর্য় হচ্ছে ক্যাসেট বা সিডিতে, অন্যকিছুতে নয়।

সবেমাত্র দেশে ফিরলেন, সাম্প্রতি দেশের বাহিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে পারি?
আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর আমেরিকাতে যাচ্ছি এবং ১৯শে সেপ্টেম্বর আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়াতে যাবো। সেখানে কয়েকটা স্টেজ শো আছে।

বর্তমান সঙ্গীত জগত এবং নতুনদের নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই –
বর্তমানে অনেক ভাল গান হচ্ছে। নতুনরা ভাল করছে। তবে নতুনদের বলবো, তারকা বা খ্যাতির পিছনে নয় বরং গানকে ভালবেসে গানের বিভিন্ন বিষয়গুলো শিখে গানের পিছনে ছুটতে হবে। খ্যাতি এমনিতেই চলে আসবে। নিজের গলার সুর ধরে রাখতে হবে, নিয়মিত গানের রেওয়াজ করতে হবে। সিনিয়রদের উচিত তাদেরকে সহযোগীতা করা এবং উৎসাহ প্রদান করা। তবে সঙ্গীত জগতে নতুনদের মাঝে সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধার খুবই অভাব। তরুনদের উচিত সিনিয়রদের যথাযথ সম্মান দেয়া। কারন, তারাও একদিন সিনিয়র হবে। ভাল মানুষ হওয়া খুবই জরুরী।

সঙ্গীতাঙ্গনকে সময় দেয়ার জন্য সঙ্গীতাঙ্গন পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনকে এবং সঙ্গীতাঙ্গন পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। – রবিউল আউয়াল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: