Press "Enter" to skip to content

লুঙ্গি মাথায় বেঁধে বিশাল বিল পাড়ি দিয়ে গান শুনার নেশা…

পুরাতনী বাংলা গান নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন পণ্ডিত রামকানাই দাশ। এই গানগুলোকে নাগরিক শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করতে তিনি ভূমিকা রাখেন। দেশে ও বিদেশে তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তিনি ছিলেন সঙ্গীত পরিষদ সিলেট সংগঠনের অধ্যক্ষ। তিনি গঠন করে গেছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতিষ্ঠান ‘গুরু পরম্পরা’। নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বিনে পয়সার পাঠশালা’য় তিনি দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া ও ছিন্নমূল শিশুদের গান শেখাতেন। তার জীবনের স্মৃতিচারণায় আমরা দেখতে পারি তার গানের প্রতি কতটা টান ছিল। কতটা ভালোবাসা ছিল গানের প্রতি তার। সেই ভালোবাসার একটি নিদর্শন দিলে সহজেই অনুমান করতে পারবেন। তার একটি মজার ঘঠনার মাধ্যমে তার গানের প্রতি ভালোবাসাটা প্রকাশ পাবে।

একদিনের ঘটনা, তখন তার বয়স হবে বারো কি তেরো বছর। আগের দিনে গ্রামে প্রায় সময়ই যাত্রাপালা গান হতো। রাম কানাই তো গানের কথা শুনে পাগল হয়ে গেলো। সে দেখতে যাবেই। তার গ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় মাইল দূরের গ্রামে যাত্রা দেখতে চলে গেলেন। মজার ব্যাপার হলো আশ্বিনের অন্ধকার রাত, বিশাল বিল সাতরে পার হয়ে গেলেন তিনি গান শুনার জন্য। তখন সেই বিলে সাপের ভয় ছিল। কিন্তু সাপের ভয় তাকে তো গানের টান থেকে দূরে রাখতে পারেনি। সে লুঙ্গি আর জামা মাথায় বেঁধে কেবল ছোট প্যান্ট পরে কোমরজল, গলাজল, অথৈ জল পেরিয়ে, কচুরিপানা-ঝোঁপঝাড় পেরিয়ে নন্দকুমার দাশ আর মহারাজ রায় নামের দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রাগান শোনার জন্য ছুটে গেলেন। এই যে দুর্নিবার আকর্ষণ, একসময় তাকে করে তুলেছে বাংলাগানের এক প্রবাদপুরুষে। আজ তা ইতিহাস হয়ে আছে আমাদের মাঝে। তার জন্য প্রার্থনা করি স্বর্গীয় হোক। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: