Press "Enter" to skip to content

আজ সঙ্গীতশিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা’র শুভ জন্মদিন…

“যে দেশেতে শহীদমিনার ফেব্রুয়ারি আছে
সেই দেশেতে জন্ম আমার বলছি সবার কাছে,
যে দেশেতে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা আছে
সেই দেশেতে স্বপ্ন আমার বলছি সবার কাছে।
সাত জনমের ভাগ্য আমার জন্মে এমন দেশে
মরণ আমার হয় যেন এই সোনার বাংলাদেশে
ও মরণ আমার হয় যেন এই দেশকে ভালোবেসে।”
– হৃদয়ে যার সুরের দরিয়া, যার কণ্ঠে মহান আল্লাহ্‌ দান করেছেন অমৃত স্বরের শ্রুতি, যার গান শুনে জুরায় পরাণ তিনি বাংলা সঙ্গীতের মন ভরানো নাম রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে এক সুরেলা পাখী, অনেকে বলেন গানের পাখী, কোকিলা কণ্ঠ খ্যাত অনেক বিখ্যাত কালজয়ী গানের সঙ্গীত শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা।

আজ শ্রদ্ধেয়া রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার শুভ জন্মদিন। ১৯৬৯ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি সহ প্রায় সবধরনের গানে তিনি সমান পারদর্শী। বর্তমানে প্লে-ব্যাক সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২৭ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে সমানতালে কাজ করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রকাশিত হয়েছে ৩০টি একক গানের এ্যালবাম। চলচ্চিত্রের গান নিয়ে তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত এ্যালবাম ‘আবার এসেছি ফিরে’। গানের পাশাপাশি লেখক ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে।

আজ রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার জন্মদিনে সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ওনার দীর্ঘায়ত ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। জন্মদিন উপলক্ষে আজ তিনি তাঁর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস লেখেন পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো –

প্রতিটি কর্মদিবসই আমার জন্মদিন। কাজের মাঝেই এবং কাজের জন্যই আমার জন্ম। আমি একজন আপাদমস্তক কন্ঠশ্রমিক।

জন্মদিন! সবাই একটা নির্দিষ্ট তারিখে জন্ম নেয়। কারো বাবা-মা সে তারিখ মনে রাখে, কারো বাবা-মা জন্ম দিয়ে বাচ্চা লালন করার তাগিদে সেই তারিখ ভুলে যান। আমি সৌভাগ্যবান কারণ আমার বাবা সে তারিখটি সযত্নে নিজ ডায়েরির পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সেই তারিখে কেক কেটে মোম জ্বালিয়ে স্বজনদের দাওয়াত করে উৎসব পালনের রেয়াজ আমাদের পরিবারে ছিল না। যখন কিশোরী হয়ে উঠছিলাম তখন দুয়েক বছর বান্ধবীদের ডেকে মা পায়েস চানাচুর কেক নুডলস কলা দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন বটে। এর পরই বিয়ে হয়ে গেলো সেই কিশোরী থাকতেই। স্বামী একজন মিউজিক ডিরেক্টর। বলা যায় দুজনই বেকার। গান গাওয়ার জন্য বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারে যাওয়ার রিক্সা ভাড়া জোটানোও ভয়াবহ কঠিন কাজ ছিল! জীবন বাঁচাতে জীবিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে এই কিশোরী তখন দুবাচ্চার মা। তবুও গান গেয়ে যেভাবে মানুষের মনে নিজ পরিচয় নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম তাতে এখনকার যুগ হলে স্টার হয়ে যেতাম। ইউটিউব এ ভিউ কোটির ঘর ছাড়িয়ে যেতো কিন্তু কখনোই বুঝতে সক্ষম হইনি যে আমার গান মানুষ শোনে বা আমি জনপ্রিয় কেউ!  চুরাশি সালে পয়লা ছবির গান গাইলেও নব্বই দশকে ছবির গান গাওয়া নিয়মিত হল। তখন থেকেই জীবন আর আমার হাতে রইলো না। এবং জন্মদিন ভুলেই গেলাম। কত জন্মদিন মঞ্চে রেকর্ডিং স্টুডিওতে পার করেছি ইয়ত্তা নেই। কেউ জানতোও না মাইক্রোফোন এ দাঁড়ানো কন্ঠশ্রমিকের আজ জন্মদিন। যাদের আন্ডারে অর্থাৎ যে মিউজিক ডিরেক্টরদের সুরে গান গাইতে সারাদিন সারামাস স্টুডিওতে কাটিয়েছি, অথবা এফডিসির কেউ, তাঁরাও বলতে পারবেন না আমার জন্মদিন কবে। কখনো কোন পেপার পত্রিকার কাছ থেকে শুভেচ্ছা শুভকামনা পাইনি। ঘরের মানুষ ও প্রায় বছরই ভুলে গেছেন একথা। ভুলে যাওয়াটা নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই হয়েছে। কত জন্মদিন ফ্লাইট এ কাটিয়েছি, ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী বলে ফ্লাইটের তরফ থেকেও সে শুভাশিষ পাইনি। ছেলেমেয়ে মেয়ে জামাই, আমার অনলাইন স্কুলের সন্তান সম ছাত্রছাত্রীরা , তারা যদিও জন্মদিন পালন করে এখন খুব আগ্রহভরে। কিন্তু এখন আর এইসব সেভাবে আমাকে টানে না।
যে মহামানব হযরত মুহাম্মাদ সঃ এর জন্য এই পৃথিবীর জন্ম তাঁর জন্মদিন মৃত্যু দিবস পালন যেখানে নিয়ম নাই সেখানে আর কারো জন্মদিবস পালন অর্থহীন। যদিও সেপ্টেম্বর মাস এবং এগারো সংখ্যা আমার খুবই প্রিয়। হাজার হলেও আমি মানুষ, নিজেকে ভালবাসি, তাই হয়তো এর বাইরে যাওয়ার সাধ্য আমার নাই। তবে আমি কখনোই আমার জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন পালন করা হোক এ আমি চাইনা।

এ বছর আমি উনপঞ্চাশ এ পা রাখবো। কর্মহীন দীর্ঘজীবন আমার খুবই অপছন্দ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে চাই, সুরের সাথে ন্যায়ের সাথে ভালো কাজের সাথেই থাকতে চাই। আরো ভালো কিছু কাজ করতে চাই। এই আমার বড় ইচ্ছা।মৃত্যুর পর শহীদ মিনারে যেতে চাইনা একদমই। এটাও আমার বড় ইচ্ছা, মসজিদের পাশে কবর চাই এটাও আরেকটি সুপ্ত ইচ্ছা।

সত্যিকার অর্থেই জন্মদিন এর প্রতি আলাদা কোন দুর্বলতা আমার নেই একথা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই। আর আমি কোন সেলিব্রিটি বা তারকা নই যে আমার জন্মতারিখ কাউকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতি করার জন্য আমি গান গাইনি, আমি গান গেয়েছি নিজের জীবিকার তাগিদে তাই দেশের মানুষের কাছে সুশীল সমাজের কাছে, সরকারের কাছে আমার কোনই চাওয়া নেই, আক্ষরিক অর্থেই এক ফোঁটাও চাওয়া পাওয়া নেই। জন্মদিন তো দুরের কথা। – রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: