Press "Enter" to skip to content

ন্যান্সি-র জনপ্রিয়তাকে অপব্যবহার…

দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি ও তার ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সানির স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় এ মামলা করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর থানার সাতপাই এলাকার ন্যান্‌সির নিজ বাসা থেকে সানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ন্যান্সি বলেন, স্ত্রী আমার ভাইয়ের, সংসারও তার। তারা থাকে নেত্রকোণায় আর স্বামী সংসার নিয়ে আমি থাকি ঢাকা-ময়মনসিংহে। সংসার-গান নিয়ে নিজের মতো ব্যস্ত থাকি। আমার ভাইয়ের সংসারের ব্যাপারে খুব একটা কিছু আমি জানতাম না। কারণ অন্যের কিছুতে নাক গলানোর স্বভাব আমার নেই। মিডিয়াতে যারা আমাকে চেনেন তারা সেটা খুব ভালো করেই জানেন। আমার ভাই ও তার স্ত্রী প্রেম করে বিয়ে করেছিল। তাদের মধ্যে এমন সমস্যা আমি কী করে জানবো। কেউই আমাকে কখনো কিছু বলেনি।
তিনি বলেন, আমি কেবল জেনেছি গত ২৭ আগস্ট সানি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। এই তালাকের কাগজ এরই মধ্যে শানুর হাতেও পৌঁছেছে। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আমার সঙ্গে সানি কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করেনি। শানুও আমাকে কিছু জানায়নি। ও কখনো বলেনি যে ওর উপর সানি নির্যাতন করছে। তেমন কোনো আভাসও দেয়নি। ওরা ওদের মতো সংসার করেছে। যখন তালাক হয়ে গেল তখন সে দাবি করছে নির্যাতনের।

ন্যান্সি জানান, তিনি জেনেছেন সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য সানিকে চাপ দিচ্ছেন তার স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু। সানি তাতে রাজি নয়। সেই নিয়েই তাদের কলহ চলছিলো। এমনকি শানু তার ভাইয়ের বন্ধুদের দিয়ে সানির ওপর হামলাও করিয়েছে। তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বাধ্য হয়ে সানি তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। এখন শানুকে দিয়ে তার পরিবার মামলা করিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের একজন গায়িকা হিসেবে আমার সুনাম ও পরিচিতি রয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়ে মামলাটিকে আলোচনায় এনে বিশেষ ফায়দা লুটতে চাইছে তারা। তারা বুঝেছেন যে মামলায় আমাকে জড়ালে সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পাবেন। ফলে প্রশাসনও ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সবখানে সংবাদ হচ্ছে ন্যান্সির ভাই গ্রেফতার। এটাই সবার চোখে পড়ছে। কেউ কিন্তু বলছে না জনির ভাই (ন্যান্সির আরেক ভাই) বা অমুকের ছেলে গ্রেফতার।
শানুর পরিবারের উদ্দেশ্য এটাই ছিলো। অহেতুক হয়রানিতে আমার ইমেজের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে তারা। আমি নেত্রকোণার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি ঢাকায়। যেহেতু আমার মায়ের পেটের ভাই গ্রেফতার হয়েছে আমাকে তো যেতেই হবে। আইনিভাবেই মোকাবিলা করতে হবে মিথ্যে মামলাটির।

এদিকে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন খান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাদীর দাবিতেই ন্যান্সি ও তার স্বামীর নাম আসামি তালিকায় আছে। তারা নির্দোষ কী না দোষী সেটা আদালতে প্রমাণ হবে। আমরা কিছু বলতে পারবো না। এমন সংবাদই প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়া গনমাধ্যমে। – মরিয়ম ইয়াসমিন মৌমিতা

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: