আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি – এ্যান্ড্রু কিশোর…

সৈয়দ শামসুল হক বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে সক্রিয় একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়।
২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলে তাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়। লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে পরীক্ষায় তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেয়। চার মাস চিকিৎসার পর ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামীকাল দুই বছর পূর্ণ হবে। সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক মৃত্যুর দু’দিন আগে হাসপাতালের কেবিনে প্লে-ব্যাক সম্রাট এ্যান্ড্রু কিশোরকে তার অপ্রকাশিত কিছু গানের দায়িত্ব দিয়ে যান এবং গানগুলো সুর করার জন্য আলম খানের কথা বলেন। সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আলম খান ও এ্যান্ড্রু কিশোর সৈয়দ হকের অপ্রকাশিত গানগুলো শ্রোতাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তাদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পাশে রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ‘অপ্রকাশিত সৈয়দ হক-১’ প্রকাশ হবে। এরইমধ্যে একটি গানের রেকর্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। গানের কথা হচ্ছে ‘ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাবো তোমার রুমালে’। গানটি প্রসঙ্গে আলম খান বলেন, আমি সম্পূর্ণ আবেগ দিয়ে গানটির সুর-সঙ্গীতায়োজন করেছি। গানটির মুখ আমি বেশ কয়েক রকমের করেছি। সেখান থেকে একটি রেখেছি। অন্তরায় প্রথম লাইনের পর দ্বিতীয়বারের সুরটি ইমপ্রোভাইজ করা যা আমার জীবনে প্রথম। এই গানে যখন এ্যান্ড্রু কণ্ঠ দিয়েছে তখন আমি সেই কিশোরকেই খুঁজে পেয়েছি যাকে আমি শুরুতে পেয়েছিলাম। অসাধারণ গেয়েছে এ্যান্ড্রু। আমার সুর করা কোনো গানই আমি এতবার শুনিনি কখনো। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমি এই গানটি শুনে তারপর ঘুমাই। হক ভাইয়ের লেখা গান ও কবিতা নিয়ে আমার এবং এ্যান্ড্রু কিশোরের এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। এ্যান্ড্রু কিশোর বলেন, হক ভাই মারা যাওয়ার দু’দিন আগে আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানেই তিনি তার লেখা কয়েকটি গান আমাকে গাইতে বলেন এবং গানগুলোর সুর করার জন্য আমার গুরু আলম ভাইয়ের কথা বলেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই গান করতে গিয়ে বারবারই মনে হয়েছে হক ভাই আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। হক ভাইয়ের লেখা গান বুঝতে হলে অনেক সময় লাগে। কয়েকবার পড়ার পর তা বোঝা যায়। হক ভাইকে দেয়া কথা আমি রাখতে পেরেছি এটাই অনেক ভালোলাগার বিষয়। কারণ তার লেখা ‘হায়রে মানুষ’ গানটি গেয়েই আমি জীবনে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই। আমার গাওয়া গান আমি নিজে এতবার শুনিনি এই গানটি যতবার শুনেছি। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা আলম খানের সুরে এ্যান্ড্রু কিশোরের বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে – ভুলি নাই তোমাদের মতো, হায়রে মানুষ, চাঁদের সাথে আমি দেবো না, কারে বলে ভালোবাসা, আমি চক্ষু দিয়া, তোরা দেখ দেখ ইত্যাদি। আজ আমাদের মাঝে সৈয়দ শামসুল হক নেই। আছে তার কথা ও কর্ম। শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি তাকে। সেই সাথে শ্রদ্ধেয় আলম খান ও এন্ডুকিশোরকে। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: