সঙ্গীতের সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে সঙ্গীত পরিষদ গঠন…

সঙ্গীত হচ্ছে দুনিয়ার সাথে অন্তরের গভীরতম অনুভূতির যোগাযোগমাধ্যম। এটা হচ্ছে বিমূর্ত, অপ্রকাশিত ও অব্যক্ত অনুভূতির সুনিপুণ এক বহিঃপ্রকাশ। যেমন সন্তান-সন্ততিদের প্রতি মায়ের নিঃশর্ত ভালবাসা, যেটা বলে বোঝানো সম্ভব না, কিন্তু অনুভব করা যায়। এই সঙ্গীত হচ্ছে আমাদের এইসব অনুভূতির মতই। শুধুমাত্র অভিব্যক্তি প্রকাশ আর লয়ের ব্যাপার। কন্ঠসাধন হচ্ছে আবেগ প্রকাশের এমন এক বাহন যা খুব গভীরে গিয়ে আমাদের স্পর্শ করে। সঙ্গীতকে মানুষ অন্তরে লালন করে। এই সঙ্গীতের প্রেম সঙ্গীত প্রেমীরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হৃদয়ে ধারন করে। সেই সঙ্গীতকে ভালোবেসে সঙ্গীতের সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে সঙ্গীত প্রেমীরা কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। তবে এবার সঙ্গীত প্রেমীকেরা সঙ্গীত ও শিল্পকলা মানোন্নয়ন এবং দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনের অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ সঙ্গীত পরিষদ গঠন করেছেন। “অভিষেক ২০১৮” শিরোনামে তাদের কাজের লক্ষ্য স্থীর করেছেন। সেই শুবাদে গত ১৮ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাবে সঙ্গীত শিল্পীদের একটি মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত মিলনমেলায় গণ্যমান্য সঙ্গীত প্রেমীকেরা উপস্থিত হন।

বাংলাদেশের মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সঙ্গীতের মুলধারাকে সংরক্ষণ, উজ্জীবন, প্রচার এবং সঙ্গীতের সুস্থ ধারার সঙ্গে সম্মিলন ঘঠানোর প্রয়াসে তাদের এই যাত্রা। সঙ্গীতের বর্তমান মন্থর অবস্থাকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে, সঙ্গীতের বর্তমানকে প্রভাহিত রাখা ও সঙ্গীতের ভবিষৎ নির্মান করাই তাদের কাজ। সঙ্গীত প্রেমীরা চায় যেন, সঙ্গীতের বিভিন্ন গভেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ হোক, এই লক্ষ্যে কাজ করতে চান সঙ্গীত পরিষদ। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ঠ সঙ্গীতব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে সঙ্গীত বিষয়ক সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা তাদের একটা কাজের লক্ষ্য। অন্যান্য দেশের মত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সঙ্গীতের আদান -প্রদান, শিল্পী বিনিময়ের মাধ্যেমে বিশ্ব সঙ্গীতের অংশীদার হিসেবে অবস্থান গ্রহণ করার চেতনা লালন ও বাস্তবে রুপ দিতে চান সঙ্গীত পরিষদের সঙ্গীত প্রেমীরা। তাদের লক্ষ্য অর্জন – বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রভূতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীত বিষয়ক কার্যপ্রণালী নির্ধারনে এবং জাতীয় পর্যায়ে যে কোন পুরুষ্কার কমিটিতে ও বিদেশে সাংস্কৃতির দল পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিষদের প্রতিনিধিত্ব অর্জন করতে পারে। তারা চান যে, সঙ্গীতের একটা রুপরেখা প্রণয়ন হোক, বাংলাদেশে সঙ্গীতের জন্য একটা নিজস্ব ভবন তৈরি হোক এবং নিয়মিত সঙ্গীতানুষ্ঠানের জন্য একটি মিলনায়তন কার্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক। সেখানে সঙ্গীতের সাথে জড়িত থাকা ব্যাক্তিবর্গ যেন একটি পরিবারের মত থাকে এবং সেই পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতিভা বিকাশের সহায়তা প্রদান করা ও জটিলতা নিরসনে কাজ করা। কল্যান তহবিল গঠন ও সঙ্গীত পরিষদের পুরুষ্কার নীতিমালা প্রবর্তন করা হবে বলে লক্ষ্যস্থীর করেন। আমরা সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে তাদের মহৎ এই উদ্দেশ্য সাধনের সুফলতা অর্জন হোক আশা করি। তাদের সঙ্গীতের চর্চা চলুক যুগের পর যুগ ধরে। সেই শুভ কামনায়। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: