চতুর্থ জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত সম্মিলন ২০১৮…

যদি সঙ্গীত একটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয় তাহলে যন্ত্র সঙ্গীতশিল্পীগণ হবে এই মানুষটির প্রাণ। তাই সঙ্গীতের এই প্রাণ বাঁচিয়ে রাখা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) সঙ্গীতের এই প্রাণকে বাঁচানোর জন্য ২০১৫ সাল থেকে সংগ্রাম করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ বারের মত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় যন্ত্র সঙ্গীত সম্মিলন ২০১৮।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে হাজারো যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পীদের শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু করে জাতীয় যন্ত্র সঙ্গীত সম্মিলন। তিন পর্বে বিভক্ত সম্মিলনটি দুপুরে সাংগঠনিক অধিবেশন শেষে সন্ধ্যায় সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। এবং প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৌতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের মহা পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল।

আয়োজনের প্রথমে দেশের বরেণ্য প্রবীন এস্রাজশিল্পী ওস্তাদ ফুলঝুড়ি খাঁন ও বেহালা বাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল দত্তকে মরোণত্তোর সম্মাননা পুরুস্কার প্রদান করা হয় এবং পারকেশান শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদকে বিএমএফ সম্মাননা পুরুস্কার প্রদান করা হয়।

আলোচনা পর্বে সম্মানিত অতিথি ও বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন এর প্রদান উপদেষ্টা মোঃ আকবর হোসেন বিএমএফ এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন। এবং তিনি বলেন একটি গানকে জনপ্রিয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন মিউজিসিয়ান্স। তাই তাদের ধরে রাখার জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে যাবেন। এবং তিনি বিএমএফ এর জন্য একটি ভবন তৈরি করে দেবার ঘোষনা দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি গাজী আব্দুল হাকিম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে একজন যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পীর সৃষ্টি হলেও তারা অনেক বেশী অবহেলিত। এবং তিনি সকল শ্রোতা সুধীমহলদের যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পীদের অসম্মান ও অবহেলা না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল বলেন, একটি গানের পরিপূর্নতা অর্জন করতে মিউজিসিয়ান্সদের অবদান অনেক। তবে তারা তাদের সেই ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত। তিনি বর্তমান সঙ্গীতের বিকৃত পরিস্থিতির সমালোচনা করে ফিউশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের কাছে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত উদ্বোধক বর্তমান সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর দুঃখ প্রকাশ করে যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পীদের অহবেলার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীগণ মেধা, শ্রম, ধৈর্য্য সহযোগে একটি অনুষ্ঠানকে মনমুগ্ধকর করে তোলেন। কিন্তু তারা তাদের সেই সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তবে বর্তমান সরকার সংস্কৃতি অঙ্গনে ব্যাপক অবদান রাখছেন। তিনি আরও বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি প্রতিটি স্কুলে সাংস্কৃতিক শিক্ষা দেয়ার চেষ্ঠা করা যায় কিনা ? এর ফলে যেমনি সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরী হবে তেমনি মিউজিশিয়ানসদের কর্মক্ষেত্রও তৈরী হবে।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম যন্ত্র সঙ্গীতদের প্রশংসা ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের মেধা, মনন ও আন্তরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিটি পরিবেশনা দর্শক ও শ্রোতার নিকট আরো প্রাণবন্ত করে তুলে। বাংলাদেশর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণ আন্দোলনে যার অসংখ্য উদাহরণ বিদ্যমান। তবে বর্তমানে এই শিল্পীগন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এই শিল্পীদের ধরে রাখতে ব্যাপক অবদান রাখছেন বিএমএফ।

অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি পর্বে বাঁশি বাদক ও মহান মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুল হাকিম তাঁর মনমুগ্ধকর বাঁশির সুরে সকলকে বিস্মিত করে তুলেন। এরপরে একে একে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীগণ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ জাতীয় যন্ত্র সঙ্গীত সম্মিলন সমাপ্ত করা হয়। – নোমান ওয়াহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: