Press "Enter" to skip to content

লতা মঙ্গেশকর এর জন্মদিনে গাইলেন আফসানা রুনা…

আফসানা রুনা একজন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। কবি নজরুলের গানকে ভালোবেসে তিনি ধারণ করেছেন। আফসানা রুনার জন্ম নীলফামারিতে। পিতা আতিয়ার রহমান এবং মাতা তাসকিনা রহমান এর সুযোগ্য কন্যা তিনি। যার প্রমান তার গায়কীর কন্ঠে পাওয়া। সুন্দর ও প্রাণবন্ত গান তিনি উপহার দিয়ে থাকেন। তিনি মূলত গান শিখেছেন ওস্তাদ আনোয়ার হোসেন, ওস্তাদ ছাইমুদ আলী খান ও ওস্তাদ রবিউল হুসাইনের কাছে। এরপর নজরুল সঙ্গীতের তালিম নেন ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনে। শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং অসিত দে’র কাছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের ওপর বিশেষ তালিম নেন। আফসানা রুনা বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারের একজন নিয়মিত শিল্পী। শুধুই যে নজরুল সঙ্গীত করেন, তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি তিনি আধুনিক গানও পরিবেশন করেন। বাংলাদেশের সবক’টি টিভি চ্যানেলে শিল্পী আফসানা রুনা নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকেন। যার সুনাম আছে সারা দেশেই।

ইতোমধ্যে শিল্পীর আধুনিক ও মিশ্র গানের এ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। শিল্পী সিনেমার প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। শাহ আলম কিরণের ‘একাত্তরের মা জননী’ মান্নান হীরার ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ এর মধ্যে অন্যতম। রুনার গান শুনলে উপস্থিত দর্শক বিমোহিত হয়ে উপভোগ করেন। তার প্রমাণ বহুবার তিনি দিয়েছেন। এবার ভারতীয় নাইটিঙ্গেল শিল্পী লতা মুঙ্গেশকরের ৮৯তম জন্মদিনে গাইলেন তিনি। তবে এবার নজরুল সঙ্গীত নয়, ভালোবেসে গাইলেন লতার গানই।
দিনটি উপলক্ষে ‘লতা মুঙ্গেশকর জন্মদিন উৎসব’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন সাংস্কৃতি সংগঠন। ২৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায় কুশলী ভবন, আগারগাঁও লতা মঙ্গেশকরের ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘শুদ্ধমঞ্চ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে লতার গাওয়া ২৫টি গান গেয়ে শুনান জনপ্রিয় আফসানা রুনা।
এসময় সংগঠনের মহাসচিব ও বিশিষ্ট উপস্থাপক মসিউদ্দিন খান সমীর উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আফসানা রুনার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। ‘মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে’ লতার গাওয়া জনপ্রিয় এই গানটি দিয়ে শুরু করেন তার পরিবেশনা। এরপর একে একে লতার জনপ্রিয় নিঝুম সন্ধ্যায়, ও বাঁশি, যারে উড়ে যারে পাখি, পা মা গা রে স -সহ ২৫টি গান পরিবেশন করেন তিনি। এই সময় দর্শক মনোমুগ্ধ পরিবেশে আকুল নয়নে,আগ্রহের সেতুবন্ধন গড়ে শোনতে থাকেন তার পরিবেশনা। সর্বশেষ ‘আজ তবে এই টুকু থাক, বাকি কথা পরে হবে’ গানটি পরিবেশনের মধ্যেদিয়ে শেষ হয় লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন উৎসব।

এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী ও মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব গৌতম কুমারসহ সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তোজ জোহরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানালেন সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তোজ জোহরা। অতিথিরা আফসানা রুনা গান শুনে তার গায়কীর প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, সঙ্গীতে ভেজালের এই সময় শুদ্ধমঞ্চের এই আয়োজন সত্যিই শুন্ধ। রুনার গান ভালো লেগেছে। রুনার জন্য দোয়া রইলো।

এদিকে যে মানুষটিকে নিয়ে তিনি গান করলেন, তিনি হলেন ভারতের নাইটিঙ্গেল লতা মঙ্গেশকর। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানের তালিকা করে শেষ করা যাবে না! রূপালি পর্দায় অনেক অভিনেত্রী যেসব জনপ্রিয় গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন সেসবের বেশির ভাগের নেপথ্যে আছে তার মধুর কণ্ঠ। ৭০ বছর ধরে বলিউডের অন্যতম সম্পদ এই গায়কী। ২৮ সেপ্টেম্বর ৮৯ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন তিনি।
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের ইন্দোরে মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লতা মঙ্গেশকর। তার বাবা পন্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা। মা শেবান্তি ছিলেন গৃহিণী। লতা তিন ছোট বোন আশা ভোঁসলে, ঊষা মঙ্গেশকর ও মীনা মঙ্গেশকর এবং ছোট ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর। ১৯৪২ সালে বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে ১৩ বছর বয়সী লতাকে পরিবারের জন্য আয়ের হাল ধরতে হয়। এজন্য গান গাওয়া ও অভিনয়ের পথে পা বাড়ান তিনি।
লতা মঙ্গেশকর প্রথম গান গেয়েছিলেন মারাঠি ছবি ‘কিতি হাসাল’-এর জন্য। দুঃখজনক ঘটনা হলো, চূড়ান্ত সম্পাদনায় বাদ দেওয়া হয় ‘নাচু ইয়া গাদে, খেলু সারি মানি হাউস ভারি’ কথার গানটি। ১৯৪৮ সালে ‘মজবুর’ ছবিতে প্রথম বড় সুযোগ পান লতা মঙ্গেশকর। এ ছবিতে ‘দিল মেরা তোড়া’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন তিনি। তবে তার প্রথম তুমুল জনপ্রিয় গান হলো ‘মহল’ ছবির ‘আয়েগা আনেওয়ালা’। সবার সুন্দর সুস্থ জীবন কামনা করি। ভালো থাকুন বাংলা সঙ্গীতের সাথে থাকুন এই কামনায়। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: