Press "Enter" to skip to content

শুভ জন্মদিন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর…

দেশীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী গায়ক এন্ড্রু কিশোর। তাকে প্লেব্যাক সম্রাট বলেও ডাকা হয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সঙ্গীতের ভুবনে তার পদচারণা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছেন আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী গুণী এই কণ্ঠশিল্পী। আজ ৪ নভেম্বর এন্ড্রু কিশোরের ৬৩তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে তার জন্ম। কোনো গানে এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠ মানেই যেন তা সুপারহিট। এখন পর্যন্ত অগণিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার গাওয়া বহু জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, সবাইতো ভালোবাসা চায়, জীবনের গল্প
আছে বাকি অল্প, বেদের মেয়ে জোসনা, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, সব সখিরে পার করিতে, আমার সারাদেহ, আমি একদিন তোমায় না দেখিলে, পড়ে না চোখের পলক ইত্যাদি।

এন্ড্রু কিশোরের প্লেব্যাক অভিষেক হয় ১৯৭৭ সালে। সে বছর মেইল ট্রেন ছবিতে ব্যবহৃত আলম খানের সুরে অচিনপুরের রাজকুমারী গানে কণ্ঠ দিয়ে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এন্ড্রু কিশোর। চলচ্চিত্রে তার কণ্ঠের দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী ছবির ধুম ধারাক্কা। এন্ড্রু কিশোর বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া এ জে মিন্টুর প্রতিজ্ঞা ছবির এক চোর যায় চলে গানে কণ্ঠ দিয়ে। ১৯৮২ সালে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কথায় আলম খানের সুর করা বড় ভালো লোক ছিল ছবির হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস গানে কণ্ঠ দিয়ে প্রথম বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এন্ড্রু কিশোর। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন গুণী এই শিল্পী।

জন্মদিনে এন্ড্রু কিশোরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তার অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু কোনোকিছুর মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। কারণ সম্প্রতি কিংবদন্তী ব্যান্ড তারকা ও দীর্ঘদিনের বন্ধু আইয়ুব বাচ্চুকে হারিয়ে তার মন খুব খারাপ। এখনো বন্ধুকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। তার কথায়, প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে চলে গেলো। তার এই চলে যাওয়া আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। সে আমার খুব ভালো একজন বন্ধু ছিলো। দীর্ঘ সময় আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি। এমন কাছের একজন মানুষ হঠাৎ করে চলে যাওয়ায় বুকের ভেতর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে বলে মনে হয় না।
জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে এন্ড্রু কিশোর বলেন, বরাবরের মতো এবারও জন্মদিন নিয়ে আমার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিটি মানুষের জীবনে জন্মদিন আসে আবার চলেও যায়। প্রকৃতির নিয়মেই এমনটা ঘটে। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ির পক্ষপাতী আমি নই। তারপরও জন্মদিনকে ঘিরে কাছের মানুষদের আবদার মেটানোর চেষ্টা করি। তারাই সব আয়োজন করে। আমি শুধু তাদের সঙ্গে থাকি। তবে এবার আমার শাশুড়ি অসুস্থ। তাই আমার জন্মদিনের কোনো আয়োজন থাকছে না।
সম্প্রতি আলম খানের সুর ও সঙ্গীতে প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের লেখা শেষ তিনটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। নতুন গান রেকর্ডিং ছাড়াও আসছে ডিসেম্বরে কলকাতার নজরুল মঞ্চে গান গাইবেন তিনি। জন্মদিনে গুণী এই শিল্পীকে সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। – মরিয়ম ইয়াসমিন মৌমিতা

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *