Press "Enter" to skip to content

গানে গানে গুনীজন সংবর্ধনায় আলাউদ্দীন আলীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সিটি’র…

গত ৩০শে নভেম্বর ২০১৮, রোজ শুক্রবার সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশ আয়োজন করেন গানে গানে গুনীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। এক সুন্দর নান্দনিক পরিবেশে রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে গানে মুখরিত সন্ধ্যাটি উপভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আয়োজিত গানে গানে গুনীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাদের বাংলা সঙ্গীতের জীবন্ত কিংবদন্তী সুরকার আলাউদ্দীন আলীকে এই সন্মাননা সংবর্ধনা জানানো হয়। সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশ এর আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিলো ১৪তম আসর। এই আসরেই লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে ভূষিত হলেন সুরকার আলাউদ্দীন আলী। তাঁকে স্মারক, সন্মাননা চেক ও একটি চিত্রকর্ম তুলে দেন দেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার ও সর্বশ্রদ্ধেয় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুস্তাফা মনোয়ার অনেক স্মৃতিচারণ করেন। আলাউদ্দীন আলীকে অনেক অজানা কথা বলেন। আলাউদ্দীন আলীর শুরুটা তুলে ধরেন সকলের সামনে। মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, টিভি শুরু হবার পর একটি ছোট ছেলে এসেছিলো আমার কাছে। সে খুবই সুন্দর সুর করতো। তাকে আমি সুরকার হিসেবে কাজ দিলাম। তবে তার নির্দেশনা মানতে চাইলো না ওই সময়ের নামকরা যন্ত্রশিল্পীরা। অথচ কি আশ্চর্য তিনি আর কেউ নন। আজকের আমাদের দেশের প্রথিতযশা সুরকার আলাউদ্দীন আলী। এ সময় উপস্থিত সকলে হাততালি দিয়ে মুস্তাফা মনোয়ারের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আলাউদ্দীন আলী আমাদের দেশের গর্ব। তিনি বাংলা গানের সেরা সুরকার। তার সুরে রয়েছে কালজয়ী কিছু গান। যা আগামীদিনে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। সেই সাথে বেঁচে থাকবে আমাদের বাংলা গান। আজ তাকে সংবর্ধিত করে আমরাও সন্মানিত হলাম। বেঁচে থাকা অবস্থায় সন্মাননা জানানো হলে সংবর্ধিত ব্যক্তি দেখে যেতে পারেন তার কাজের মূল্যায়নের স্বীকৃতি। এই ধারা সর্বত্র চালু হওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে খুবই আবেগ আপ্লুত হয়ে তার বক্তব্য রাখেন বাংলা সঙ্গীতের জীবন্ত এই কিংবদন্তী সুরকার আলাউদ্দীন আলী। তিনি কৃতঞ্জতা জানান আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশকে। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা গানে সব সময়ই এক অন্যরকম আবেদন আছে, যা আমাকে আনন্দ দেয়। আমি এই নিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। পেরেছি কি না জানিনা তা আপনারা বিচার করবেন। আমি শুধু চেষ্টা করে গেছি। আজ আমি আনন্দিত। আমাকে যে সন্মাননা দেয়া হলো তার জন্য। আমি আমার সঙ্গীত জীবনে বড় বড় শিল্পীকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এতেই মনে হয় তাদের সহযোগিতায় আপনাদের কিছু উপহার দিতে পেরেছি। আজ আমাকে যে পুরস্কারে ভূষিত করা হলো দেশের অন্য শিল্পীদেরকেও জানানো উচিত বলে মনে করি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের পরিচালক ও বিনিয়োগ প্রধান শামস জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এন রাজা শেখর। তাঁকে সন্মান জানাতে এন্ডু কিশোর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সেলিম আশরাফ, লীনু বিল্লাহ প্রমুখ শিল্পীর প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে তারার মেলায় পরিণত করেছিল। প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী বাংলা গানের সুরকার আলাউদ্দিন আলী ইতোমধ্যে সুরকার হিসেবে ৭ বার, গীতিকার হিসেবে ১ বার জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলাউদ্দীন আলীর অনুরোধে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বরেণ্য কন্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, তার সহধর্মিণী ফারজানা আলী মিমি এবং এই প্রজন্মের সম্ভাবনাময় শিল্পী আরিফ। – রবিউল আউয়াল

 

ছবি – সংগ্রহ

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *