Press "Enter" to skip to content

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এর স্মৃতিচারণায় ওরা চারজন...

মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। রাতে তার মরদেহ রাখা হয় বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে। বুধবার সকাল ১১টায় মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান চলে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত ও শিল্পাঙ্গনে। তার অকালে চলে যাওয়া সহকর্মীদের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। শোকে স্তব্ধ অনেকেই।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের এ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।
সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর গাওয়া বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে তার নিয়মিত গান করা। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন। তার সম্পর্কে শিল্পীদের সাথে কথা হয় সঙ্গীতাঙ্গনের। জনপ্রিয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে কথা বলে জানা গেলো, তিনি বলেন, একজন মানুষ চলে গেছে তা নয় শুধু সঙ্গীতের একটা মহা মানব চলে গেছে। একাত্তুরের একজন স্বাক্ষী চলে গেছে। একজন তরুণ যোদ্ধা চলে গেছেন। সবাই আজ আমরা বিমুগ্ধ চিত্তে স্মরন করি। গতকাল যিনি আমাদের সাথী আজ সে ইতিহাস। তার গান গাওয়ার মত সৌভাগ্য আমার হয়ে ছিলো। বিশেষ করে দেশের গান। দেশের গান যে এভাবে প্রাণ ছুঁয়ে যেতে পারে- তা বুলবুলের গান গাওয়ার সুযোগ না হলে উপলব্ধি করা সম্ভব হতো না। তিনি পৃথিবীর নিয়মে চলে গেছেন, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। বাস্তব হলেও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে মহান মানুষটি আজ আমাদের মাঝে নেই। এই মূহুর্তে মনে পড়ে যাচ্ছে তার সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা। মনে পড়ে যাচ্ছে সেই মুছে না যাওয়া গানগুলোর কথা। আহ্ কি গান এখনও শরীরের লোম গুলো দাড়িয়ে ওঠে সেই গানটার কথা মনে হলে- সব কটা জানালা খুলে দাওনা, আমি গাইবো গাইবো বিজয়েরই গান। গানগুলো যেমন ইতিহাসে অম্লান ও স্মরনীয় বরনীয় হয়ে থাকবে তেমনি এই গানই থাকে সব সময় প্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখবেন এই পৃথিবীর বুকে। আমি আমার পক্ষ থেকে বুলবুলের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করি এবং রুহের মাঘফেরাত কামনা করি।

আমাদের সঙ্গীত জগতের আরেক জনপ্রিয় শিল্পী যাকে গান সঙ্গীতের মুকুট বলে ভাবা হয়। তিনি হলেন সুরের আর কন্ঠের যাদুকর এন্ড্রোকিশোর দাদা। যিনি বুলবুলের অনেক জনপ্রিয় গানে কন্ঠ দিয়েছেন। তার সাথে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, যারা এখনও বেঁচে আছি, যারা ভবিষ্যতে আসবেন; তাদের দায়িত্ব হল আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সৃষ্টিকর্মকে বাঁচিয়ে রাখা। তার গান আর সুরের সৃষ্টিকর্ম যেন বেঁচে থাকে প্রতিটা শিল্পী মনের গহীনে। তার অনেক গান আমি গেয়েছি। গান গাইতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কত কথা বলেছি। কত এক সাথে হেসেছি, চলেছি খেয়েছি। কিন্তু আজ সবাইকে একা করে বুলবুল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কষ্ট হলেও মেনে নিতে হচ্ছে প্রকৃতির ইশারাকে। এই মূর্হুতে তার একটা গান মনে পড়ছে। যা আমি খুব পছন্দ করে হৃদয় থেকে গেয়েছিলাম। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ফিরে ফিরে আসি এ্যালবামের একটি গান। এই গানে সুর দিয়েছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং কন্ঠ দিয়েছিলাম আমি গানটি ছিলো “জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প” এটি একটি হৃদয় বিদারক গান। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনের চরম সত্যটি প্রকাশ পেয়েছে। যাই হোক, তৎকালীন সময়ে গানটি আমাকে বিশেষ সুনাম এনে
দিয়েছিল। আমি এখন সেই গানের কথা মনে করছি এই জন্যই যে গানটিতে জীবনের শেষ সময়ের কথা বলা হয়েছে। জীবনের গল্প একদিন শেষ হয়ে যাবে। যেমন করে মঙ্গলবার শেষ হলো এই গানের সুরকার বুলবুল এর। আমি তার জন্য দোয়া করি। যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। ঈশর তার মঙ্গল করুক।
কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, সঙ্গীতের একজন মহীরুহ, একজন মহাজন হারিয়ে গেলেন। শত জনমেও সঙ্গীতের এ শূন্যতা পূরণ হবে না। আমরা তার জন্য দোয়া করি। খোদা যেন তার ভালো করেন।

শিল্পী মনির খান বলেন, আমি তার বেশ কিছু গান গাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। আমার সাথে তার অনেক স্মৃতি বিজড়িত কথা আছে। বিশেষ করে ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে’ গানটি করতে গিয়ে সুরের সৃষ্টিকর্ম আমার এতোটাই পছন্দ হয়েছিলো যে ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এই গানটি ঐ সময় সর্বস্তরের মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছিলো। আজও গানটি অনেক সময় শোনা যায়। তার আরেকটি গান ছিলো ‘আট আনার জীবন চার আনা গুনে’ এই গানের সাথে আমার একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করেছিলো। এখনো কোন অনুষ্ঠানে গেলে এই দুটি গান আমি গাই। আমার খুব ভালো লাগে। এই গানের সুরকার আজ আমাদের ছেড়ে অনেক দুরে চলে গেছেন আল্লাহ তার মঙ্গল করুক এই কামনাই করি।
সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এর জন্য দোয়া ও রুহের শান্তি কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: