Press "Enter" to skip to content

জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র সম্মাননা পেলেন শিল্পী কামাল আহমেদ...

“হৃদয় আমার চায় যে দিতে,
কেবল নিতে নয়…”
– রবীন্দ্রনাথের থেকে আমাদের প্রাপ্তির শেষ নেই। কিন্তু সেই পাওয়াকে আপনার করে অপরের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষমতা সকলের থাকেনা। কামাল আহমেদ কেবল একজন শিল্পিই নন, বরং রবীন্দ্রনাথের গান তার ধ্যান, জ্ঞান এবং গবেষণারও বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, রবীন্দ্রনাথের গানকে সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়ে যিনি বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি শিল্পী কামাল আহমেদ। নিঃস্বার্থ প্রয়াসের নিরলস কাজ স্বীকৃতির আশায় থাকে না। তবে এমন কাজের স্বীকৃতি মিলবেই। সঙ্গীত ও গণমাধ্যমে অবদানের জন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সঙ্গীত শিল্পী জনাব কামাল আহমেদকে ‘জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র’ সম্মাননা প্রদান করা হল। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি খুলনা উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনার নগরপিতা মাননীয় মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক শিল্পী কামাল আহমেদের হাতে এ সম্মানা স্মারক তুলে দেন।
শিল্পীর হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী, গবেষক ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাধন রঞ্জন ঘোষ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ বশির উদ্দিন, বিশিষ্ট সঙ্গীতঙ্গ ওস্তাত শেখ আলী আহমেদ, বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন খুলনার চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্রীড়া ভাষ্যকার ড. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার উপ-মহাব্যবস্থাপক শেখ জাকির হোসেন ও বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার অশোক কুমার দে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র খুলনা শাখার সভাপতি জনাব নাজমুল হক লাকি।

সন্ধ্যা ৬টায় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি দর্শক শ্রোতায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং ৬:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রথমেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সঙ্গীত শিল্পী কামাল আহমেদসহ প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। বিশেষ অতিথিগন সঙ্গীত শিল্পী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কামাল আহমেদের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর শিল্পী কামাল আহমেদ’র হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মেয়র কামাল আহমেদের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, বিশেষ করে কামাল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালী সংস্কৃতি যেভাবে ধারণ করেছেন তা অনুসরন করার জন্য নতুন প্রজন্মকে আহবান জানান। সবশেষ অনুষ্ঠানের সভাপতি নাজমুল হক লাকি অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

এরপর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী কামাল আহমেদ কর্তৃক একক সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শিল্পী কামাল আহমেদের পরিবেশনার মাধ্যমে এক মোহমায় সুরের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দর্শক শ্রোতারা কামাল আহমেদের পরিবেশনায় মুগ্ধতায় আপ্লুত হয়। শিল্পী কামাল আহমেদের ১২টি গান পরিবেশনার কথা থাকলেও এই ১২টি গান ছাড়াও অনুরোধের আরো ৪টি গান পরিবেশন করতে হয়। শিল্পী কামাল আহমেদ সর্বমোট ১৬টি গান পরিবেশ করেন। যে গান গুলো পরিবেশন করেন তা হলো প্রভু আমার প্রিয় আমার, রাত্রি এসে যেথায় মেশে, দিনের শেষে ঘুমের দেশে, নিশি না পোহাতে, আসা যাওয়ার পথের ধারে, দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না, এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে, যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা, এই করেছে ভালো নিঠুর হে, মেঘ বলেছে যাব যাব, তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, যদি তারে নাহি চিনিগো, আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান, আমার পরান যাহা চায়, মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে ও ভরা থাক স্মৃতিসুধায়।
পিনপতন নিরবতায় অসীম মুগ্ধতায় দর্শক শ্রোতারা কামাল আহমেদের একের পর এক গাওয়া ১৬টি গান উপভোগ করেন। কামাল আহমেদ পরিবেশিত এই একক সঙ্গীতানুষ্ঠান খুলনার দর্শক শ্রোতাদের মনের মুকুরে চিরদিন অসীম মমতা, ভালবাসা ও মুগ্ধতায় জাগরিত থাকবে। গানের মানুষ প্রাণের মানুষ মাটির সুরের মানুষ কামাল আহমেদ। তার সু-দীর্ঘ জীবন কামনায় সঙ্গীতাঙ্গান। – মোঃ মোশাররফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: