Press "Enter" to skip to content

এলআরবি ছিলো, আছে, থাকবে…

– মোশারফ হোসেন মুন্না

১৯৯০ সালের ৫ এপ্রিল এলআরবি প্রতিষ্ঠা করেন আইয়ুব বাচ্চু। শুরুতে এই ব্যান্ডের নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’ (এলআরবি)। ১৯৯৭ সালে নাম বদলে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি)। সেই এলআরবির লিজেন্ডার না ফেরার দেশেচলে গেলেন। গত বছরের ১৮ অক্টোবর সকালে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এলআরবি খ্যাত আইয়ুব বাচ্চু। তার মৃত্যুতে এলআরবির সদস্যদের মাঝে তৈরি হয়েছে একটা হতাশ আর নিরাশ মনোভাব। সব শেষে ভালোই চলছিলো এলআরবি। কিন্তু হঠাৎ আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আপত্তি করে বলেন এলআরবি নামটি আর কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।
নদীর স্রোতের মত এলআরবির ভেঙে যাওয়ার খবরটি ভক্তদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবির অসংখ্য ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁরা ব্যান্ডটিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত আবারও বিবেচনার আহ্বান জানান। আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে কঠিন অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি এলআরবির সদস্যদেরও আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ব্যান্ডটি পরিচালনার জন্য অনুরোধ করেন। কিছু ভক্ত ব্যান্ডটির ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার আর এলআরবির সদস্যদের নানা ধরনের হুমকি দেন।

পরিবারের আপত্তি আর এলআরবির নতুন নামকরণের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব। তিনি লিখেছেন, আমার বাবা আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। তিনি আমার বোনেরও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তাঁর গানগুলোর ভেতর দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। এলআরবি অথবা বালাম অ্যান্ড দ্য লিগ্যাসির (তারা এখন এই নামে গান করতে চান) সদস্যদের বলতে চাই, তাঁরা চাইলে এলআরবি নামে গান করতে পারেন। এ নিয়ে আমাদের কোনো বাধা নেই। প্রাথমিকভাবে তারা যেভাবে এলআরবি নামে গান করতে চেয়েছিলেন, সেভাবেই গান চালিয়ে যেতে পারেন। তাদের জন্য শুভকামনা রইল। আশা করি, তারা সফল হবেন এবং বাবার গান নিয়ে এগিয়ে যাবেন। আমার চাওয়া, এলআরবি সব সাফল্য অর্জন করবে।
গতকাল শামীম আহমেদ বলেছেন, বস যখন ছিলেন, তখনো তাজওয়ার এলআরবিতে বাজিয়েছে। ও খুব মেধাবী আর ভালো মিউজিশিয়ান। পাশাপাশি পড়াশোনাতে ও খুবই ভালো। বস কখনো চাননি তাঁর ছেলে গান করুক। তিনি চেয়েছেন, তাজওয়ার আগে পড়াশোনা শেষ করুক। আমরাও তা-ই চাই। ও যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই এলআরবিতে আসবে। আমরা এখন পাঁচজন আছি, ও এলে ছয়জন হবে। গতকাল ফেসবুকে ও যে স্ট্যাটাস দিয়েছে, তা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের সহায়তা করেছে। আমি বলব, বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে আমরা সবাই রক্ষা পেয়েছি। এটা একদিকে আমাদের ব্যান্ডের জন্যও যেমন ভালো হলো, তেমনি বসের পরিবারের জন্যও তা ভালো হবে।
শামীম আহমেদ জানান, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলআরবি এখন যে আয় করবে, তা থেকে একটা অংশ পাবে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এলআরবির কনটেন্ট থেকে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার যা পাচ্ছে, তা তারা পাবে। সব শেষে সিদ্ধান্ত হলো এলআরবি ছিলো আছে ও থাকবে। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে এলআরবির জন্য শুভ কামনা।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *