Press "Enter" to skip to content

কণ্ঠসৈনিক তিমির নন্দী-র বলা না বলা কথা…

– কবি ও সাহিত্যিক রহমান ফাহমিদা।
কণ্ঠসৈনিক তিমির নন্দী, গানের জগতে তাঁর ৫০ বছর অতিক্রম করার অনুভূতি নিয়ে কথা বলার সময় সঙ্গীতাঙ্গন এর সাথে, সেতাঁর বলা না বলা অনেক কথা শেয়ার করেছেন। জনপ্রিয় শিল্পী তিমির নন্দীর ভক্ত শ্রোতাদের জন্য সেই আলাপচারিতা তুলে ধরা হল।

– জনপ্রিয় শিল্পী তিমির নন্দী তাঁর গানের শুরু এবং কার অনুপ্রেরণায় তাঁর এই গানের জগতে পদার্পণ, সে কথা বলতে গিয়ে বলেন –
– সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই আমার গান শেখা শুরু। বলতে গেলে, আমার পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকেই আমার গানের অনুপ্রেরণা। কারণ আমার মা, বোনেরা গান করতো। তাই বলা যায় সেখান থেকেই আমার রক্তে গান চলে এসেছে।
– ছোট বেলা থেকেই কি তাঁর স্বপ্ন ছিল গায়ক হবেন, না অন্য কোন স্বপ্ন তাঁর মনে বাসা বেঁধে ছিল। এ কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন –
– আমি যখন ছোট ছিলাম তখন তো আর ভাবিনি কি হবো! হয়তো আমার মা বাবা ভেবেছিলেন আমি গায়ক হবো। তবে আমি অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলাম। যাই হোক, মা বাবার কারণেই আমি আজ গায়ক আর এখনো সঙ্গীতের সাথেই যুক্ত আছি, এত বছর ধরে।

– ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানের সাথে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন –
– আমি তখন ক্লাস টেন-এ পড়ি। আমার সামনে মেট্রিক পরীক্ষা। আমি ১৯৬৯ সাল থেকে রেডিও পাকিস্তান ও পাকিস্তান টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করি। সেই সুবাদে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনেক শিল্পীই পরিচিত ছিল। ফলে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যাওয়াটা বোধ হয় আমার নিজের ইচ্ছায় না, আমার মায়ের ইচ্ছায় যাওয়া হয়েছিল। কারণ আমি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলাম। আমার শুরু হয় লাঠি হাতে যুদ্ধ করে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় কুড়িগ্রামের একটি গ্রামে ছিলাম। আমরা ঢাকার লালমাটিয়ায় সপরিবারে থাকলেও সেখানে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছিলাম। সেই সময়ে পাকিস্তানীদের এদেশীয় দোসর আলবদর, আল-শামসদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য লাঠি হাতে সারা রাত গ্রাম পাহারা দিতাম। আমি যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলাম বলে মা আমাকে বল্লেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গিয়ে কণ্ঠ দিয়ে যুদ্ধ করতে। আমি তখন মাকে বললাম, কণ্ঠ দিয়ে কিভাবে যুদ্ধ করা যায় ? আমি তো জানি অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু পরে তা জানলাম, কণ্ঠ দিয়ে, তুলি দিয়ে, কলম দিয়ে যুদ্ধ করা যায়।

– আপনারা তো প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তি যোদ্ধাসহ সবাইকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং উজ্জীবিত করেছেন। সে প্রসঙ্গে তিনি তখন বলেন –
– সেটা তো বটেই! স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রও মুক্তিযুদ্ধের একটা সেক্টর হিসেবে কাজ করেছে। সারা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এরকম নেই যে, একটি বেতার যন্ত্র কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে, উদ্ভুদ্ধ করেছে, সাহস জুগিয়েছে এবং উজ্জীবিত করেছে। তারপর বাঙালী যারা বাংলাদেশে ছিলেন তাঁদের সবাইকে উদ্ভুদ্ধ করেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান। যেমন – খবর, চরমপত্র, নাট্‌ক, গান সবকিছুই মানুষ তখন খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতো। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধারা আরও বেশী শুনতো।
বেতার কেন্দ্রটি ছিল ছোট্ট একটি ঘর। একটা মাত্র মাইক্রোফোন ছিল। একটা মাইক্রোফোনে আমরা হাফ সার্কেলের মতো হয়ে, একজনের ঘারে আরেকজন হাত দিয়ে গানগুলি করেছি। সেই সময় ঐ গানগুলি যে বুলেটের মত হয়েছে তার কারণ হলো আমাদের লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করার আর তখন সেই অনুভূতিটাই আমাদের গানে ছিল।
– তখনকার দিনে গান গাওয়ার সময় এমন কোনো স্মৃতি আছে কি, যা এখনো আপনার ভক্ত শ্রোতারা জানেন না ? স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন –
– আমাদেরতো বছরে দুইবার করে একই কথা বলতে হয়! তাই বেশীরভাগ স্মৃতিই সবাই জানে। তাছাড়া সঙ্গীতাঙ্গন থেকে আমার পাঁচটি ফাইল ইউটিউবে আছে। সেগুলি মোটামুটি সবাই জানে তারপরেও স্মৃতিগুলির মধ্যে দুটো স্মৃতি আপনাদের আমি বলেছিলাম কিনা জানিনা! আমার মনে খুব বেশী দাগ কেটে আছে এই স্মৃতি দুটো। তার মধ্যে একটি হোল – আমি সেই সময় একটি শিল্পী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিলাম, তার নাম ছিল শরণার্থী শিল্পী গোষ্ঠী। অক্টোবর মাসে পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠান ছিল, সেখানে আমি গান করেছিলাম। তখন কোলকাতার রেডিওতে স্বনামধন্য দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো অনুষ্ঠান করতেন, একটা সংবাদ বিচিত্রা আরেকটি সংবাদ পরিক্রমা।
সেদিন সকাল দশটায় ওনার অনুষ্ঠানে খবর পড়তে পড়তে আগের রাতের পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠানের কথা বলছিলেন যে, সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিল্পী গোষ্ঠী অংশ গ্রহণ করেছে এবং ওপার বাংলার শিল্পী ছিলেন তিমির নন্দী। আমার নামটা উচ্চারণ করে, আমার গাওয়া – ‘ধ্বংসের পরওয়ানার শোন কি’ গানের দুটো লাইন সে বাজায়। সেটা আমার জন্য অতটুকু বয়সে বিশাল ব্যাপার ছিল। দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে আমার নামটি উচ্চারিত হয়েছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা।
আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে, যেদিন ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হোল সেদিন আমরা একটা গান নিয়ে রেডিওতে ছিলাম। ঠিক ঐ সময় দুপুরবেলা খবর আসলো ঢাকায় পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করছে। ঐ সময় উল্লাসে ফেটে পড়লাম আমরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে যেমনি কেঁদেছি, তেমনি হেসেছি। আর আমরা যখন জয় বাংলা স্লোগান করছি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে, তখন কোলকাতার মানুষ সব রাস্তায় বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে, মিছিল করছে, আনন্দ করছে। এই জয়ের উল্লাস সবাই ভাগাভাগি করে নিয়েছিল তখন।

– আপনি তো দেশবিদেশে অনেক অনুষ্ঠান করছেন এবং ইউরোপ থেকে সঙ্গীতের ওপর মাস্টার্স করেছেন। সেই সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে,যদি বলতেন! –
– ১৯৭৩ সালে সঙ্গীত কলেজের ছাত্র অবস্থায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের বৃত্তি নিয়ে সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর করি। রাশিয়ায় যাওয়ার পর আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম এবং সব সময় ফার্স্ট হতাম। সবসময় ফার্স্ট হওয়ার কারণে পরবর্তীতে ওরা বল্ল যে, তিমিরকে আর প্রতিযোগিতায় নেয়া যাবেনা কারণ তিমির এত পপুলার যে, শ্রোতারা তা মেনে নিবেনা। তার চেয়ে বরং ওকে ষ্টেজ ছেড়ে দেও, ও কিছুক্ষণ গান করুক। তারপর থেকে এভাবেই গান করতাম। ওখানকার টেলিভিশন এবং ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনেও গান করেছি। ১৯৭৬ সালে ওখানে একটি বড় কনসার্ট হয় প্রায় ২৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল। সেখানে আমি গান করেছিলাম। আমি যেহেতু ওখানে মিউজিকের ওপর পড়াশুনা করেছি তাই অনেক ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখেছি স্টাফ নোটেশন দেখে পিয়ানো, গীটার, একোর্ডিয়ান, সিলভার ফ্লুট, দোমরা, বালালাইকা, ড্রামস্, মিউজিক কন্ডাক্টিং ইত্যাদি শিখেছি। ইত্যাদি।

২০১২ সালে ইটালির রোমে শহীদ মিনার উদ্বোধন উপলক্ষে ৩ টি ভাষার গানের স্টাফ নোটেশন করে দিই, যা দেখে ইটালিয়ালসরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্কেস্ট্রা বাজিয়েছিল। এবং একই সালে লন্ডন অলিম্পিকে আমি জাতীয় সঙ্গীতের’স্টাফ নোটেশন’ করেছি। এখন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটির স্টাফ নোটেশন করছি যেন সারা বিশ্বে গানটি ছড়িয়ে দিতে পারি এবং সবাই যেন নির্ভুলভাবে গানটি গাইতে পারে। স্টাফ নোটেশন হচ্ছে,আন্তর্জাতিক স্বরলিপি।

– আপনাদের সময়ে গানের ধারা আর বর্তমানে নতুন প্রজন্মের যে গানের ধারা চলছে! সে ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাইছি –
– এটা হোল যে, সময়ের তালে তালে এবং সময়ের বিবর্তনে সব কিছু বদলিয়েছে। আগে একটি গান সাতদিন প্র্যাকটিস হতো, তারপর সেই গান রেকর্ডিং হতো। এখন তো সফটওয়্যারে রেকর্ডিং হয়। ইচ্ছা করলে আপনি একদিন একটু ভয়েস দিলেন পরে আরেকদিন একটু ভয়েস দিলেন, এভাবে গানটিকে তৈরি করা হয়। সঙ্গীত এখন অনেক ইজি হয়ে গেছে। এখন ঘরে ঘরে স্টুডিও। আগে তো স্টুডিওতে যেয়ে একটা গান রেকর্ডিং করতে হতো।
– সঙ্গীত বা গান রেকর্ডিং ইজি বা সহজ হলেও আপনি কি মনে করেন আগের মত তেমন গান হচ্ছে বা আপনাদের মত মানের, আগের মত কোন শিল্পী তৈরি হচ্ছে ?
– না, সেরকম শিল্পী তৈরি হবেনা। কারণ সে সময় আর এ সময়ের অনেক তফাৎ। তখনকার দিনে গান শোনার মাধ্যম ছিল রেডিও। রেডিওতে গান গাওয়া মানে বিশাল বড় ব্যাপার ছিল তখন। যা তা শিল্পী নয়। অনেক সাধনা করেই শিল্পীরা এ পর্যায়ে পৌঁছেতেন। অত সহজ ছিল না ব্যাপারটা। আর এখন এত রেডিও চ্যানেল ও টেলিভিশন চ্যানেল হয়েছে যে, এখন গান গাওয়া তেমন কোনো ব্যাপার না! এটা এখন মামুলী ব্যাপার হয়ে গেছে। আসলে আগে যেমন প্রতিযোগিতা ছিল, অধ্যাবসায় ছিল, সাধনা ছিল এখন তেমন নেই! যার কারণে ভালো গানও সেইরকম হয় নাই। এখন যে গানগুলি শুনি সব যে খারাপ তা বলছিনা! যেমন আপনি যে প্রশ্ন করেছেন এটার কারণেই বলছি, এভারেজে আগের মত গান হয় না। এর কারণ হচ্ছে আগে গান যিনি লিখতেন গীতিকার, সে সাহিত্যচর্চা করেই গান লিখতেন। যিনি সুর করতেন, তিনি সঙ্গীত সম্পর্কে সাধনা করে সঙ্গীতটাকে জেনেই সুর করতেন আর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও তাঁর দক্ষতা ছিল। আর যিনি গান করতেন তিনিও সঙ্গীত সম্পর্কে জেনে এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চা করেই একজন শিল্পী হতেন। যার কারণে এত বছর ধরে যে গানগুলি শুনছেন সে গানগুলি বছর ধরে চলছে। আর বর্তমানে যেটা হচ্ছে, তা হোল নামের পেছনে ছোটা এবং দেখার বিষয়টা হয়ে গেছে আরও বেশী। শেষ পর্যন্ত আমি যদি বলি, মহিলা শিল্পীদের কথা! তাদের তো খুবই খারাপ অবস্থা! আমি তো তাদের গানের কোনো কিছুই পাইনা। যেখানে গান হওয়ার কথা, সেখানে ড্রেসআপ দেখে মনে হয় সব মডেল। গানের কোনো গভীরতা নেই, গানের কথা হালকা, সুর হালকা, গায়কীও হালকা। গানের কিছুই নেই।

– ভাইয়া, আপনি তো বিভিন্ন ধরনের গান করেন এমনকি বিদেশী ভাষায়ও গান করেছেন। আপনি কি ধরেনের গান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যদি বলতেন! –
– আমি তো আধুনিক গান করি তবে ছোটবেলায় মনে হয়না এমন কোনো গান ছিলনা যা আমি বাদ দিয়েছি। ছোট বেলা থেকেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখেছি, খেয়াল, রাগ, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, ভাটিয়ালী, মারফতি, ভজন, কীর্তন সবই গেয়েছি। ঐ যে বললাম আধুনিক গানে ফার্স্ট হওয়ার পর আধুনিক গানই গেয়ে যাচ্ছি। তবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে আমার মনে হোল দেশের গানগুলি বেশী করে গাওয়া উচিত। দেশের গান খুব কম হয়। সবাই তো নেম আর ফেম এর পেছনে ছুটছে, একটি এ্যালবাম হিট করতে পারলেই তো হল! এখন তো সেইভাবে এ্যালবাম হয়না, ইউটিউবে একটা একটা করে গান রিলিজ হচ্ছে। এভাবেই দিন দিন গানের অবস্থানটা অন্যদিকে চলে গেছে। আর সবচাইতে খারাপ লাগে যখন বেসুরো গানগুলি শুনি শিল্পীদের কণ্ঠে। এগুলো খুব মারাত্মকভাবে খারাপ লাগে। আমাদের পরের প্রজন্মই এখন এভাবে বেসুরো গান গায়! তারপরেরে প্রজন্মরা কি গান গাইবে ? এখনি এই অবস্থা! এখন চর্চা কম শুধু নামেরে পেছনে ছোটাছুটি।
– বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা পুরাতন গানগুলিকে রিমেক্স করছে। এই ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখছেন। –
– দেখেন, যদি আমি পার্শ্ববর্তী দেশের কথা বলি, তারা পুরনো গানগুলি নতুন করে রিমেক্স করে গাচ্ছে। এটা তো ঠিক, যে গান লতা মুঙ্গেশকর গেয়েছেন সেই গান যদি রিমেক্স করা হয় অন্যরা গাইলে তো সেই জিনিস বা সেই আবেগ তো থাকেনা! আরেকটু মর্ডানাইজ করে, রিদম বা অন্যরকম করে সেগুলো গাওয়া হয় কিন্তু যে গান কানে লেগে আছে তাতো সরানো যায় না। এ জিনিষটা নতুন প্রজন্ম হয়তো পছন্দ করে কিন্তু আমরা যারা পুরোনো প্রজন্মের মানুষ আমরা এই গান শুনেই অভ্যস্থ। কেউ যদি মান্নাদের গান রিমেক্স করে গাইতে চায় তাহলে সেটা তো শুনতে খারাপ লাগবে, বিকৃত হয়ে যাবে। সেই রকম আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলি যখন নতুন প্রজম্মের কেউ কেউ ব্যান্ডের আড়ালে ফিউশন করে গায় তখন আমি বলি, ভাই তোমরা এই গানগুলি ফিউশন করোনা কারণ এই গানগুলি ঐতিহাসিক গান! এগুলো নিয়ে এত রিসার্চ করার কিছু নেই। সুর তাল রয়েছে, কথা ঠিক রয়েছে যেভাবে আছে সেভাবেই তোমরা গাও, ভালো হবে,আমি এভাবেই বলি সবাইকে।

– পারিবারিকভাবে কে কে আছেন আপনার সাথে, তাদের মধ্যে কেউ কি গান করেন? আপনার গানের ব্যাপারে ভাবী কি রকম অনুপ্রেরণা দেন এবং বর্তমানে আপনি কি কাজ করছেন, তা যদি আপনার ভক্ত শ্রোতাদের জন্য জানাতেন! –
– পারিবারিকভাবে আমার সাথে আমার স্ত্রী, দিলারা তিমির। আর এক মেয়ে, হৃদি আহমেদ ইংরেজী গানের পাশাপাশি জাপানিজ গান করে। ওদের একটা ব্যান্ড আছে, নাম “কাওয়াই বাকা দেশু।” এছাড়াও মেয়ে “আজুরিয়া‌ অর্গানিক স্কিনকেয়ার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বত্বাধিকারী। তবে সম্প্রতি মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে রেডিওতে প্রোগ্রাম করে। আমার ওয়াইফ আমাকে সবসময়ই অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। তাঁর সহযোগিতা ছাড়া গান করা সম্ভব ছিলনা কারণ গানের জন্য আমাকে সবসময় বাইরে বাইরে থাকতে হয় তাই সংসারের সকল দায়িত্ব সে পালন করেন। আমি তাই এত বছর ধরে গান চালিয়ে যেতে পারছি। তাছাড়া সে যেমন আমার গানের প্রশংসা করেন তেমনি আমার লাইভ প্রোগ্রামগুলো দেখে কঠোর সমালোচনা করেন। কোন গান ভালো হয়েছে কোনটি হয়নি তা সরাসরি বলেন।
বর্তমানে আমি দুটো স্কুলে শিক্ষকতা করছি। সারা বছরই বাচ্চাদের নানান রকম অনুষ্ঠান থাকে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আর অন্যদিকে বাইরে আমার বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠান তো আছেই। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে।
– আপনার সাথে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে আমি রহমান ফাহমিদা আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং আমাদের নতুন নতুন গান উপহার দিবেন সেই আশা নিয়ে আজকের মত বিদায় জানাচ্ছি। শুভকামনা রইল।
– সঙ্গীতাঙ্গন ও আপনার জন্যেও রইল অনেক অনেক শুভকামনা।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *