Press "Enter" to skip to content

‘ফোর ডিকেডস অব ফিডব্যাক’ কনসার্ট ২০১৯…

– সালমা আক্তার।
ফিডব্যাক ফিডব্যাক ফিডব্যাক… শিউরে উঠা শরীর আর চমকে উঠা প্রাণে প্রাণ সঞ্চার করতে চার দশক উদযাপনে মঞ্চে ঝড় তুলে ফিডব্যাকের স্বপ্নময়ী কনসার্ট। সবার অন্তরে এক চাওয়া ফিডব্যাক, নতুন পুরনো চাওয়ার তৃষিত মনোভাবের মিশ্রণ নিয়ে হাজার হাজার সঙ্গীতপ্রেমী উপস্থিত হয়েছিলেন ‘ফিডব্যাক’ দলটির সাথে তাদের চার দশক উদযাপন করতে। সঙ্গীতানুরাগীরা সার্থক আজ অনুরাগ অনুসন্ধানী ক্ষণের তপস্যায়। সব সঙ্গীতপ্রেমীরা যারা এই কনসার্টে অংশ নিতে পেরেছেন তারা নিজেদের স্বার্থক ভাবতে পেরেছেন, কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও ফিরে পেয়েছেন তাদের তারুণ্যে ফেলে আসা দিনগুলো স্মৃতিতে নিজেকে নতুন করে হারিয়ে। তেতাল্লিশ বছর অতিক্রম করা ব্যান্ড, খুব কমেই হবে। এ নিয়ে ব্যান্ডের সাবেক সদস্য ও বর্তমান ঢাকা ব্যান্ডের দলনেতা মাকসুদুল হক বলছিলেন, বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে সত্তর দশকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইংরেজি গানে যাত্রা শুরু করেছিল একদল যুবককের, ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি নামে, ১৯৮০ সালে নাম বদল করে তারা হয় ফিডব্যাক। খোকা ভাই ও হাফিজুল আলম ভাইয়ের ধারের টাকায় গুটি গুটি পায়ে এগিয়েছে দলটি। সময়ের আশ্চর্য খেলায় একসময় হয়ে উঠে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ফিডব্যাক। নিজেদের মৌলিক গান ধীরে ধীরে শুরু করে ফিডব্যাক, চলতে থাকে পথ চলা, চলতে চলতে তেতাল্লিশ বছর গত ফিডব্যাকের পথ চলা, এই পথ চলা ভক্তদের মনোরঞ্জনের জন্য, এই পথ চলা সঙ্গীত পিয়াসি মনের তাগিদে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির রাজদর্শন মিলনায়তনে ছিল ফিডব্যাকের চার দর্শক পূর্তি কনসার্ট ‘ফোর ডিকেডস অব ফিডব্যাক’। অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে ফিডব্যাক মঞ্চে এসেছিল পুরনো সদস্যদের নিয়ে যারা একসময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইংরেজি গান পরিবেশন করতেন তারা হলেন – বাবু, রুমি, জাকির, রোমেল, খোকা, সেলিম ও মাকসুদ। পরিবেশন করেন কিছু ইংরেজি গান ও প্রথম রেকর্ড করা গান ‘এইদিন চির দিন’, গেয়ে শুনিয়েছেন মাকসুদুল হক। আশির দশকের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে গানটি ভক্ত শ্রোতাদের মনে। পুরোনো ও নতুন ফিডব্যাকের গানে গানে মুখরিত মঞ্চ ভক্তদের উৎসাহ ও ভালোলাগা অনুরাগের ফুল ফোটায় আত্মায় আত্মায়।
চল্লিশ বছর পার করেও ফিডব্যাক চলছে দুর্বার গতিতে। ফিডব্যাকের সম্মানে কনসার্টে গান করে ওয়ারফেজ ‘মৌসুমী ২’ শিরোনামের গানটি, মাইলস শোনায় ‘টেলিফোনে যখন ফিসফিস’ আরও গান পরিবেশন করেন আর্টসেল ‘জন্মেছি এই বাংলাদেশে’, দলছুট পরিবেশন করে ‘চিঠি’। অতিথি ব্যান্ডের পরিবেশনার সময় ফিডব্যাকের সকল সদস্য স্টেজের সামনে উপস্থিত হয়ে তাদের পরিবেশনা উপভোগ করেন আনন্দ নিয়ে। সবাই জমজমাট পরিবেশনা উপহার দিয়েছেন ফিডব্যাকের এই মহোৎসবে তাদের গান পরিবেশন করে সন্মান দেখিয়ে। উচ্ছ্বাসে মুখরিত অনুষ্ঠানে ওয়ারফেজের শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, আমাদের অনুপ্রেরণা ফিডব্যাক। মাইলসের শাফিনের থাকে শুভেচ্ছা বার্তা ফিডব্যাকের জন্য এবং বলেন, যেখান থেকে যাত্রা শুরু ফিডব্যাকের মাইলসেরও ঠিক সেইসময়। ফিডব্যাকের গিটারিষ্ট লাবু রহমান বলেন শ্রোতাদের কারণেই আজ এতদূর পর্যন্ত পথ চলা, ফোয়াদ নাসের বাবু দলের সবটুকু কৃতিত্ব দেন ভক্তদের। ফিডব্যাকের জনপ্রিয় গান মৌসুমী’র গীতিকার কাউসার আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন উক্ত কনসার্টে। শরীর অসুস্থ থাকার কারনে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেননি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন এলিটা করিম ও মাকসুদ। মাকসুদ মাঝে মাঝে স্টেজে উঠে পুরোনো দিনের গল্প দর্শকদের উপহার দিয়েছেন, বিভিন্ন গানের পূর্বে সেই গানের ইতিহাস কিছু জানিয়েছেন। এবং তাদের সন্মানে পারফর্ম করতে আসা ব্যান্ডের স্টেজে আসার অনুরোধ করেন এবং অকপটে সেই ব্যান্ড সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত ভালবাসার কথা উল্লেখ করে দর্শকদের আনন্দ উপহার দিয়েছেন।

মঞ্চে গানের ঝড় তোলে বর্তমান সময়ের ফিডব্যাক। কন্ঠের জাদুকরী ছোঁয়ায় ঝড় তোলে লুমিন, রায়হান আল হাসান, ফোয়াদ নাসের বাবু, লাবু রহমান ও টন্টি। রায়হান ও লুমিন গেয়ে শুনিয়ছেন ‘ভীরু মন’, ‘এই পথ গেছ তুমি’ সহ বেশ কিছু গান। ফিডব্যাক ব্যান্ডের প্রথম ক্যাসেটের শিল্পী রোমেল গেয়ে শোনান – এই দিন চিরদিন, দেখো ময়ূরী খোলা আকাশ, একঝাঁক প্রজাপতি ও জানালা। ফিডব্যাকের দলনেতা ফোয়াদ নাসের বাবু তিনি অনুরোধ করেন লাবু রহমানকে ‘বিদ্রোহী’ গানটি পরিবেশন করতে। অপ্রস্তুত থাকার পরও দলনেতার অনুরোধে পরিবেশন করেন। কনসার্টের সেরা মুহুর্ত ছিল ফিডব্যাকের সঙ্গে মাকসুদের নতুন ব্যান্ড ঢাকা ও মাকসুদ এর একত্রে মঞ্চে অবস্থান নেয়া। মাকসুদের কন্ঠ ভেসে উঠে – চিঠি, মৌসুমী, মাঝি, ভিরু মন, গোধূলি মত জনপ্রিয় গানগুলো। সবার শেষে ফিডব্যাকের সাথে মঞ্চে আসেন অন্যান্য সন্মানিত সব ব্যান্ড দলগুলো এবং একত্রে ‘মেলায় যাইরে’ গানটি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।
‘ফোর ডিকেডস অব ফিডব্যাক’ এই কনসার্টটির পিছনে যিনি সবচেয়ে বেশী অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, যিনি পেছনে থেকে ফিডব্যাককে উৎসাহ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে করতে সাহায্য করেছেন তিনি হচ্ছেন এইচএসবিসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহবুব রহমান। এবং এই মহোৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড প্রান গ্রুপ। কনসার্টের ডিজিটাল পার্টনার ছিলেন মুঠোফোনে সেবাদাতা বাংলালিংক। ইভেন্টস ম্যানেজমেন্টে ছিলেন ‘এ ফর এ্যাকশন’। মিলনায়তনের প্রবেশ মুখে ছিল বিশাল এলইডি টিভি, সেখানে লাইভ কনসার্ট দেখছিল সিকিউরিটি চেকের জন্য সারিতে অপেক্ষারত দর্শকরা। প্রবেশ মুখে ছিল প্রান গ্রুপের স্ন্যাকস স্টল, বিনামুল্যে প্রানের তৈরি নতুন চিপস সবাইকে টেস্ট করানো হয়। এ ফর এ্যাকশন থেকে ‘ফোর ডিকেডস অব ফিডব্যাক’ মুদ্রণে ছিল টি-শার্ট যা সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়। আরও ছিল দেয়ালচিত্র প্রদর্শনী, যেখানে স্থান পেয়েছে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২পর্যন্ত সংগ্রহে থাকা ফিডব্যাকের ব্যান্ডের ছবি তবে এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ফিডব্যাক বাকি ছবি খুঁজে পাওয়া গেল না। এছাড়া কনসার্টে সাউন্ড সিস্টেম খুব অসন্তোষজনক ছিল, মাঝে মাঝেই ভোকালের সাউন্ড চলে যাচ্ছিল যা দর্শকদের শ্রবণে আনন্দ নষ্ট করে দেয়। সাউন্ডতো বিভিন্ন ধরনের ভেলকি দেখিয়েছে যা স্বয়ং ভোকালিস্ট মাকসুদ মজা করে বলেন, কনসার্ট করছে ফিডব্যাক তো তাই সাউন্ডও ফিডব্যাক করছে।

এমনি করে শ্রোতাদের ভালোলাগে, ভালবাসা কুড়াতে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে চার দশক পার করে চললো ফিডব্যাক। নিজেদের মৌলিক গান ধীরে ধীরে শুরু করে ফিডব্যাক, চলতে থাকা পথ চলা, চলতে চলতে তেতাল্লিশ বছর গত করে ফিডব্যাকের পথ চলা। এই পথ চলা ভক্তদের মনোরঞ্জনের জন্য, এই পথ চলা সংগীত পিয়াসি মনের ভালোবাসার তাগিদে, মন প্রাণ শিহরিত করতে এভাবেই ফিডব্যাক আরও পঞ্চাশ, আশি ও একশত বছর বেঁচে থাকুক সকল শ্রোতাদের মাঝে ভালোবাসার নিয়ে এই কামনায় আরও দীর্ঘ হোক পথ চলা।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *