Press "Enter" to skip to content

স্মৃতির চিহ্নে পপ সম্রাট আজম খান…

– সালমা আক্তার।
চিরাচরিত নিয়মে সবাই চলে যায়, শুধু রেখে যায় কিছু স্মৃতি, কিছু কর্মচিহ্ন! মূল প্রকৃতির ডাকে ৫ জুন ২০১১ চলে গেছেন জনপ্রিয় পপ ও ব্যান্ড সংগীতের অগ্রপথিক, ব্যান্ডের গুরু শিল্পী আজম খান। কিছু জমা হয় রোজ স্মৃতির পাতায়, এমনি করে আজম খানও স্মৃতির পাতায় চিত্র হয়ে আছেন। আজম খানের কর্মজীবনের শুরু প্রকৃত পক্ষে ষাটের দশকের শুরুতে, ১৯৭১ সালের পর তাঁর ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ দেশব্যাপী সঙ্গীতের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৭২ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয় ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে, চার কালেমা স্বাক্ষী দেবে’ গান দুটো প্রচারিত হয়। ১৯৭৪-১৯৭৫ সালের দিকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে’ গানটি গেয়ে সারা ফেলে দেন। গানকে কন্ঠ ধরে ভালো গায়কির চেষ্টা চালিয়ে যান সব সময়। উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান অভিমানী, আসি আসি, অনামিকা, আলাল ও দুলাল, ওরে সালেকা ওরে মালেকা অসংখ্য গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন মনোরঞ্জনের জন্য। সংগীত সাধক ছাড়াও তাঁর বিশেষ কর্মগুন ইতিহাস হয়ে আছেন বাংলায়। তিনি ছিলেন এক দেশ প্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধা। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় আজম খান পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে তিনি গণ সংগীত প্রচার করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সংঘঠিত কয়েকটি গেরিলা অভিযানে তিনি অংশ নেন। গান ছিল নেশা,
গান ছিল শিরায় শিরায়, সংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন। অমর শিল্পীর বিয়োগের এই দিনে সঙ্গীতাঙ্গন পরিবার শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি ও তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি, আমিন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *