Press "Enter" to skip to content

শিল্পী গড়ার কারিগর মিল্টন খন্দকারের পথচলা…

– সালমা আক্তার।
আলোকিত কর্মের রশ্মি ছড়িয়ে যখন মানুষ কর্ম সাধনা দিয়ে এগিয়ে যায় তখন মানুষ হয়ে ওঠে অনেক বড়ো মনের মানুষ, মহৎ ব্যক্তিত্ব। এমনই এক মহৎ ব্যক্তিত্ব জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকার, তাঁর নাম নিতেই কানে ভেসে আসে হৃদয়ের কথা, অনুরাগের কথা, ভেতরের চাওয়া-পাওয়ার কথা। সৌভাগ্যক্রমেই দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব গীতিকবি ও সুরকার মিল্টন খন্দকারকে খুব কাছে থেকে দেখেছি।
১৯৬৭ সালের ২৫শে জুন জন্ম নিয়ে বাংলার সঙ্গীত ভুবনকে চিরঋণে বেঁধে নিয়েছেন। কুষ্টিয়ার গর্বিত সন্তান মিল্টন খন্দকার। আট ভাই বোনের মধ্যে তিনি ৭ম। বাবা ছিলেন একজন সৎ পুলিশ অফিসার, মা দ্বায়িত্বশীল সুগৃহিনী।
১৯৮৪ সালে গান পাগলা মিল্টন খন্দকার ঢাকা মিউজিক কলেজে ভর্তি হন। গুণীদের জীবনধারা অনুসন্ধান করলে সহজে অনুধাবন করা যায় শিক্ষার কোন শেষ নেই, ভালো কিছু সৃষ্টির জন্য। কৈশরে গান করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েন কিশোর মনের চাওয়ার টানে।
বোধন থিয়েটারে তিনি অভিনয় শুরু করেন।
সঙ্গীতাঙ্গনে তাঁর সৃষ্টকর্মগুলোতে ভেতরের ইচ্ছাশক্তিই বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১৯৮৬ সালে প্রথম অডিও এ্যালবামে কাজ করেন। এ্যালবাম প্রকাশিত হতে যদিও প্রতিবন্ধকতা আসে তথাপি সে প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে প্রকাশিত হয় এ্যালবাম। সে সময়ের উল্লেখ্যযোগ্য জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে ‘সেই তুমি এই আমি নেই আগের মতো’, ‘খুব কাছাকাছি তুমি আমি আছি , নি:শ্বাসে খুঁজে পাই বিশ্বাসের ছোঁয়া’। এত সুন্দর সৃষ্টির পর আর পিছিয়ে থাকেননি মিল্টন খন্দকার। সঙ্গীতকে ভালোবেসে সৃষ্টি করে যান একের পর এক চমক।
মিল্টন খন্দকারের অপূর্ব সৃষ্টি ডলি সায়ন্তনির গাওয়া ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা, জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা’ শিরোনামের গানটি দর্শক মহলে বেশ সাড়া জাগায়। অসংখ্য গনের কথা ও সুরস্রষ্টা মিল্টন খন্দকার মনে প্রাণে ভালোবাসেন সঙ্গীতাঙ্গনকে, বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রকে আপন সাধনায় উপহার দিয়েছেন অমর সৃষ্টি। তাঁরই হাত ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অনেক শিল্পী।
মিল্টন খন্দকারের হাত ধরে তারকা খ্যাতি অর্জন করেছেন মনির খান, বাদশা বুলবুল, মনি কিশোর. ডলি সায়ন্তনি সহ আরো অনেকেই। ১৯৯৭ সালে ১ ডিসেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গীতিকাব্য চর্চা কেন্দ্র’। বর্তমানে তরুন প্রজন্মের অনেকেই এই গীতিকাব্য চর্চা কেন্দ্রের সদস্য। তিনি ভালোবাসেন নবীনদের আলোর পথ দেখাতে। তাঁর চিন্তায় সঙ্গীতানুরাগ ফুটে ওঠে অনায়াসে। ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন দুই কন্যা শ্রেষ্ঠা ও জারাকে কেন্দ্র করে। হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসেন ভালোবাসার মানুষ কন্যা সঙ্গীত সাধনার সহযোদ্ধাদের। গান শুনতে ভালোবাসেন, উল্লেখযোগ্য শিল্পী লতা মঙ্গোশকর, মান্নাদে, ভূপেন হাজারিকা। অবসরে প্রচুর গান শোনেন , নতুন প্রজন্মদের সব সময় গান শুনতে উৎসাহিত করেন। তাঁর দৃষ্টিতে যে যাই করুক সেটা শিখে করুক এটাই হৃদয়ের চাওয়া।
১৯৯৫ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির দেওয়া সম্মানসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ২০১২ সালে ‘খোদার পরে মা’ চলচিত্রের ‘মা তুমি আমার আগে যেও না গো চলে’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। প্রায় ৪০০০ গান উপহার দেন বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, অডিও এবং ভিডিও অঙ্গনকে।
১৯৯৬ সালে অডিও বাজারে বিষ্ময়কর ভাবে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসেন মনির খানকে। ‘তোমার কোন দোষ নেই’ এ্যালবাম সুপার হিট হয়ে সাড়া জাগায় সংগীতাঙ্গনে। অঞ্জনা শিরনামের গান বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে শ্রোতামহলে। তাঁর অসংখ্য সৃষ্টি সঙ্গীতের ভূবনকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁরই স্নেহাশীষে আলোর পথ দেখেন শিল্পী পলাশ, এস ডি রুবেল, পলি সায়ন্তনি, সাজু, মহসিন খান, রোখসানা মমতাজ, সুমন বাপ্পী, শশী জাফর, জাফর ইকবাল আকাশ সহ আরোও অনেকেই।
সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত প্রথম বাবা হবার অনুভূতি। আনন্দে আত্নহারা হয়ে যান প্রথম কন্যার কান্নার আওয়াজ শুনে। জীবনের একটা চরমপূর্ণতা এনে দেয় সন্তানের বাবা ডাক শব্দটি। সঙ্গীতের মতোই মধুর লাগে সে ধ্বনি।
প্রিয় রং নীল । নীল আকাশ দেখে দেখে বহু রচনায় উৎসাহ পেয়েছেন। খুব কাছের মানুষগুলোকে নীল রংয়ে সাজতে দেখে খুশি অনুভব করেন। নীল আকাশ, নীল সাগর, নীল প্রজাপতি তাঁর সঙ্গীত প্রেরণার এক বিশাল অংশ।
অসংখ্য জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দেন শ্রোতাদের মন জয় করতে, উল্লেখযোগ্য গান গুলোর মধ্যে ‘আমি পাথরে ফুল ফোটাব’, ‘খুব কাছাকাছি তুমি আমি আছি’, ‘আমি যে তোমার কে কাছে এসে নাও জেনে নাও’, ‘তোমার কোন দোষ নেই আমারি তো দোষ’, ‘চাল নেই চুলো নেই’, ‘লাল বেনারসি’, ‘ও প্রিয়জন বড় আয়োজন করে’, ‘সবুজের বুকে লাল উড়বেই চিরকাল’, ‘তোমরা কাউকে বলো না’, ‘সুখে থাকা হলো না আমার’, ‘ও সাথীরে যেও না কখনও দূরে’, ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা ‘মা তুমি আমার আগে যেও নাগো মরে’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটারে’ ইত্যাদি।
নিজে স্বপ্ন দেখেন, ভালোবাসেন অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে। প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে জানেন দেশ বরেণ্য গীতিকবি মোহম্মদ রফিকউজ্জামানকে, খন্দকার নূরুল আলম, চাষী নজরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন আলী সহ অনেক গুণীদের। কন্ঠ সাধনার পথে পাড়ি জমান ওস্তাদ খন্দকার মিজানুর রহমান বাবলুর হাত ধরে। গুণীর প্রতি সম্মান ও ভক্তি দেখানো ছেলে বেলার অভ্যেস। নবীনদের কাছেও তিনি এই প্রত্যাশা করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকারের জন্মক্ষণ চিরস্মরণীয় হয়ে থাক অনন্ত কাল।

3 Comments

  1. capsa game online capsa game online July 7, 2019

    I’m not that much of a online reader to be honest but your sites really nice, keep it up!
    I’ll go ahead and bookmark your website to come back later on. All the best http://1.capsaonline.net

  2. Iron ThundeR Iron ThundeR July 7, 2019

    It’s going to be ending of mine day, however before finish I am reading this fantastic piece of writing to improve my experience.

  3. Vendor Marketing Vendor Marketing July 7, 2019

    I got this web site from my pal who told me regarding
    this site and now this time I am browsing this web site and
    reading very informative posts here.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *