Press "Enter" to skip to content

সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী স্মরণে…

– মোশারফ হোসেন মুন্না।
সুরের ভূবন গড়ে,
কেন গেলিরে চলে ?
তোর গানে, মনে প্রাণে
ডাকব বারে বার ফিরে আয়
ফিরে আয় সুরের আঙ্গিনায়।
নতুন একটা গানের কথা আছে
সুর করা গেয়ে দিবি আয়!আড্ডা দিবো আজ তোকে নিয়ে
অপেক্ষায় আছি সবাই।
তোর দেওয়া গানেরই সুর
স্মৃতিতে ধরে রাখি…..
ভাবিনিরে এভাবে যাবি চলে
আমাদের দিবি ফাঁকি।।

সুবীর নন্দী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার সহশিল্পী, বন্ধু-বান্ধব, তাকে মনে করে মনের বিশেষ আবেগ দিয়ে। তার চলে যাওয়া একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা বুজতে পারে তার কাছের মানুষ গুলো। তারা ভাবতে পারেনি এমন করে নিজের মতো করে চলে যাবেন একাই ঐপাড়ে। সুন্দর একটা সুরের রাজ্যে, কন্ঠের যাদুকরী মাধূর্যে মাতিয়ে রাখতো বিনোদনের মহনায়। গানের কন্ঠে ছিলো পাগল করা সুর। হাসি কান্নায় মিলিয়ে যেতো তার গান। কিন্তু আজ আমাদের মাঝে নেই সেই গানের মানুষটি। আছে তার রেখে যাওয়া গান আর সুর। এমনই ভাবে কথা গুলো বললেন শিল্পী লীনু বিল্লাহ। তিনিও ভাবতে পারেননি সুবীরের হঠাৎ চলে যাওয়াটা। তিনি বলেন মানুষ মরণশীল মরতে হবে। তবে এমন কিছু মৃত্যু আমাদের দৃষ্টিতে পড়ে যা মানাতে পারিনা মনকে। তার মধ্যে সুবীরের মৃত্যুটা। ব্যাদনার কন্ঠে কথা গুলো বললেন শিল্পী লীনু বিল্লাহ। তার চলে যাওয়ার ব্যাথাতুর বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তাকে নিয়ে আয়োজন করা হয় স্মরণ সভার। শ্রদ্ধা জানান গানের ভুবনের মানুষটিকে। স্মরণ সভার অতিথিরা বলেন, সুবীর নন্দীর কথা, স্মৃতি কথনে উঠে আসে তার ফেলে আসা দিনের গল্প। মূল্যায়ন করেন গানের মানুষ, ব্যক্তি মানুষ সুবীর নন্দীকে। গাওয়া হয় সুবীর নন্দীর জনপ্রিয় গানগুলো। গত শুক্রবার বিকেলে ৪টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিমে একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী স্মরণে স্মৃতি চারণ এই সভার আয়োজন করেন ঢাকাস্থ হবিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন।
উক্ত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা ডা. সি এম দিলওয়ার রানার সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক প্রধান বিচাপতি জে আর মোদাচ্ছির, জাকারিয়া খান চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসাইন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমান, ওয়ারী জোনের এডিসি নুরুল আমিন, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াত সুবীর নন্দীর স্ত্রী পূরবী নন্দী, মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী। জনপ্রিয় সুরকার শেখ সাদী খান। শিল্পী আব্দুল হাদী ও দরদী কন্ঠের শিল্পী লিনু বিল্লাহ। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। স্মরণ আলোচনা অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই পর্বে গান পরিবেশন করে কণ্ঠশিল্পী লীনু বিল্লাহ, কনক চাঁপা ও এস ডি রুরেল।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, সুবীর নন্দী শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন না, একজন ভালো মনের মানুষও ছিলেন। খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। আমাদের বাংলাদেশের গানের জগতকে তিনি করে গেছেন সমৃদ্ধ। তার কণ্ঠের মধ্য যেন এক বিশেষ জাদু ছিল। আর তাই গান দিয়ে জয় করে গেছেন এদেশের কোটি মানুষের মন। এ জন্য জাতি তাকে চিরদিন মনে রাখবে। আমরা স্মরণে রাখতে চাই শিল্পী সুবীর নন্দীকে চিরদিন। বেঁচে থাকবেন তিনি যুগ যুগান্তর গানের মাঝে মনের মাঝে, দেশ ও দেশের মানুষের মাঝে।

ছবি – সংগ্রহ

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *