Press "Enter" to skip to content

আগে এত আড়ম্বর নিয়ে জন্মদিন হতোনা! – সঙ্গীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নি…

– কবি ও কথাসাহিত্যিক রহমান ফাহমিদা।
বর্তমান সঙ্গীতজগতে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী সঙ্গীতের বিভিন্নদিকে তাঁর প্রতিভার বিকাশ করে চলেছেন। দেশ বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি আধুনিক, দেশাত্মকবোধক, লালনগীতি ও হারানো দিনের গান পরিবেশন করেন তাঁর ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী। সেই সাথে তিনি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সঙ্গীত বিষয়ক উপস্থাপনার পাশাপাশি নিজেও টিভিতে লাইভ শো করছেন গান নিয়ে। রেডিও টিভি ছাড়াও তিনি ফিল্মে নিয়মিত গান করেন। দিনাত জাহান মুন্নী চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেই বেশী পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গীতিকার কবির বকুলের সহধর্মিণী। তাঁদের দুটি কন্যা এবং একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। মেয়েদের নাম যথাক্রমে প্রেরণা ও প্রতিক্ষা, ছেলের নাম প্রচ্ছদ। ৩০আগস্ট চাঁদপুরে দিনাত জাহান মুন্নীর জন্ম। আজ তাঁর জন্মদিন। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষথেকে এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। সেই সাক্ষাৎকারে শিল্পী তাঁর জন্মদিন কিভাবে পালন করা হয় তাই নিয়ে কথা বলেন।
– ছোটবেলায় আপনার জন্মদিনটি কিভাবে পালন করা হত ?
– এখন যেরকম অনেক বেশী আড়ম্বর নিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়, ছোটবেলায় কখনো বাবা মা এভাবে পালন করেননি। আমার মা স্কুলটিচার ছিলেন আর বাবা ছিলেন চেয়ারম্যান। আমরা তিন ভাইবোন ছিলাম। আমার দুই ভাই আর আমি। আমাদের সবার জন্মদিনেই মা বাবা কোরআন খতম আর দোয়া পড়িয়ে দিতেন। তেমন একটা আয়োজন হতোনা।
– আপনার মা নিশ্চয়ই সেইদিন অনেক মজার মজার রান্না করতেন ?
– হ্যাঁ, মা সবসময় আমাদের পচ্ছন্দমত রান্না করতেন। তবে তেমন ঘটা করে জন্মদিন পালন হতো না।
– সেইদিন স্কুল খোলা থাকলে কি করতেন ?
– স্কুল খোলা থাকলে অবশ্যই স্কুলে যেতে হতো। তখন জন্মদিনের ব্যাপারটা তেমন করে বুঝতে দেয়া হয়নি। আমরা আসলে সেভাবে পালনও করিনি। আজকাল হয়তো অনেকভাবে জন্মদিন পালন করতে দেখা যায় তবে আমাদের ওভাবে পালন করা হয়নি। ছেলেবেলার জন্মদিনের কথা খুব একটা মনে পড়েনা। তবে যখন কলেজে উঠেছি তখন বান্ধবীরা উৎযাপন করতো, মজা করতাম সবাই মিলে।
– আপনার ভাইয়েরা আপনাকে কিভাবে সারপ্রাইজ দিয়ে থাকেন ?
– ভাইয়ারা সাধারণত আমার স্পেশাল যে কোনো দিনেই সারপ্রাইজ দেন। মনে পড়ে বড় ভাই যখন প্রথম জব পেল তখন মনে হয় আমিও প্রথম কলেজে যাব! এরকম সময় বড় ভাই আমার জন্য রজনীগন্ধার স্টিক নিয়ে এসেছিল। তখন আমার রজনীগন্ধা খুব প্রিয় ছিল। সেটা আমি কোনোদিন ভুলবোনা। ভাইয়ার একটি বাইক ছিল। সে আমাকে সেই বাইকে চড়িয়ে ঘুড়তে যেতে পচ্ছন্দ করতো। আর ছোট ভাই দেশের বাইরে থাকতো। তারপরেও ওর সাথে সাইকেল চালানোর অনেক স্মৃতি আছে। আমরা ভাইবোন মিলে একসাথে ছবি দেখতাম, ঘুড়তে যেতাম এবং সবাই মিলে অনেক ফান করতাম।
– আপনার আব্বা আম্মা কি এখনো বেঁচে আছেন ?
– আমার বাবা মারা গেছেন গত ছ’বছর হল! মা আছেন।
– আপনার আব্বার কথা শুনে ভীষণভাবে দুঃখিত! আল্লাহ্‌ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।
– বকুল ভাই আর আপনাদের বাচ্চারা কি করেন আপনার জন্মদিন উপলক্ষে ?
– এখন যেটা হয়! ওরা কেক, ফুল, গিফট কিনে রেখে লুকিয়ে রাখে এবং বারটা এক মিনিটে আমাকে সারপ্রাইজ দেয় সেগুলো দিয়ে। আবার কখনো কখনো দেখা যায় আমার কাছের যারা সঙ্গীতের যেমন ক্লোজআপের ছেলেমেয়েরা আসে আমার বাসায়। সবাই একসাথে মিলে বারটার সময় আমাকে সারপ্রাইজ দেয়। গত বছর দেশে ছিলাম না। দেশের বাইরে ছিলাম, আমেরিকাতে। আমার সাথে আমার পরিবারের সবাই ছিল কিন্তু ওরা ত্রিশ তারিখের আগে দেশে চলে আসবে। যেহেতু আমার জন্মদিন ত্রিশ তারিখে তাই ওরা পঁচিশ তারিখে আমার জন্মদিন পালন করে আমাকে সারপ্রাইজ দেয়। সেখানে তখন শিল্পী টুটুল ভাই, বাদশা বুলবুল ভাই ওরাও ছিল কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি ওদের সহ প্রায় পচিশ ত্রিশ জন গেস্টকে আমার ননদের বাসায় দোতালায় লুকিয়ে রেখে পরে আমাকে নিয়ে সারপ্রাইজ পার্টি দেয় সবাই মিলে। ওটা আমার জন্য খুব ইন্টারেস্টিং ছিল। এর আগের বছর আমার বাসায় সাব্বির, পুলক, জয়, মুন, শফিক তুহিন ওরা সবাই মিলে বারোটা এক মিনিটে এসে সারপ্রাইজ দিয়েছে। এইরকম প্রতি জন্মদিনেই কিছুনা কিছু সারপ্রাইজ থাকে এখন।
– জন্মদিনের সকাল বেলায় কি আপনার মা বাবার কথা মনে পড়ে ?
– আসলে আমার যেটা হয়! এখন যখন জন্মদিন আসে তখন দেখা যায় কি! সকাল থেকে মিডিয়াতে দৌড়াতে হয়। হয়তো আরটিভি নয় তো চ্যানেলআই। নয় তো রাতেরবেলায় আয়োজন করে সবাই। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় যে, জন্মদিন্টা আজকে স্পেশাল হতো না যদি বাবা মা আমাকে এই জায়গায় নিয়ে না আসতেন! তাঁরা জন্ম না দিতেন। আবার জন্মদিন হয়তো স্পেশাল হতোনা যদি না ধরেন যে, আপনাদের ভালোবাসা যদি না পেতাম। প্রতিটি মানুষেরই জন্মদিন আসে কিন্তু ঘটা করে তখনি হয়, যখন সেই মানুষটাকে ঘিরে অনেক ভালোবাসার মানুষ থাকে। আমি মনে করি যে, এটা আমার সৌভাগ্য যে অনেক মানুষ আমাকে ভালোবাসে এবং আমার জন্মদিন মনে রাখে। আমাকে উইশ করে, ভালোবাসে আমার ভক্তরা যারা আমাকে পছন্দ করেন, যারা আমার কলিগরা রয়েছেন, আত্মীয়স্বজনরা রয়েছেন সবাই ভালোবাসা দিয়ে এতটাই ভড়িয়ে ফেলেছেন যে, জন্মদিনটা উল্লেখযোগ্য হতোনা যদি না মানুষগুলো আমাকে এভাবে না আকড়িয়ে থাকতেন।
– আপনার জন্মদিনকে মনে রেখেই সঙ্গীতাঙ্গন-র এই আয়োজন। আপনার জন্য রইল সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা।
– আমার জন্মদিন মনে রেখে এই যে, আমার সাথে কথা বললেন! আমার জন্মদিন কি জন্মদিন হত যদি আপনাদের সাড়া না থাকতো! সঙ্গীতাঙ্গনের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *