Press "Enter" to skip to content

দেশ নেতা কি জানেন কিভাবে ঠকছে বাংলার সাধারণ মানুষ ?…

– সালমা আক্তার।
বাহির চোখে যা দেখা যায়, তা ভাঙ্গার শব্দতো শোনা যায় কিন্তু যেটা বাহির চোখে দেখা যায় না, সেটা ভাঙ্গার শব্দ কি শোনা সম্ভব ? মোটেই না। আবার সম্ভবও বটে! প্রতিদিন প্রতিক্ষণে স্বপ্ন ভেঙে চূরচূর হচ্ছে, ভাঙ্গনের আওয়াজ কেউ শুনতে পায় না, কেন শুনতে পায় না! তবে কি পথিকের থমকে দাঁড়াবার সময়ের অভাব ? হ্যাঁ সঙ্গীতাঙ্গন সে স্বপ্ন ভাঙ্গার আওয়াজ শুনেছে, প্রতিনিয়ত শুনতে পায়, সঙ্গীতের স্বপ্ন ভাঙ্গার ধ্বনি! সঙ্গীতাঙ্গন সন্মূখে পড়া যাত্রীকে এই বলতে চায়, তুমি কি সঙ্গীতের স্বপ্ন ভাঙ্গার ধ্বনি শুনতে পাও ? চিৎকার করে বলতে চায়, কেন শুনতে পাও না, ঘুমিয়ে গেছে কি তোমার বিবেকবোধ! জানি বিবেকবোধ ঘুমিয়ে নেই, হয়তো আমরা অলস হয়ে গেছি একটু ফিরে তাকাতে। গুণীজনদের বানী সঙ্গীত মনের খোড়াক, সঙ্গীত মনের খোড়াক হলে আমাদের খবরা খবরের মাধ্যমগুলোতে তাঁর বিশেষ খবর কোথায় ? কোন কোনায় ? জীবনতো মনকে ছাড়া কল্পনাতীত তবে মনের খোড়াক যোগাতে কেন এতো অবহেলা ? কেন নেই সঙ্গীত নিয়ে পত্রিকার পাতায় উৎসাহ, উদ্দীপনা, কেন কখনও প্রথম পাতায় আসে না মনের খোড়াকের কথা, সঙ্গীতের কথা ? কত টেলিভিশন, কত অনুষ্ঠান, অথচ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান গুলোর সময় যেন নির্ধারিত হয় ঘরে পড়ে থাকা বৃদ্ধার মতো! না পাড়ি ফেলতে, না পাড়ি গিলতে। কোন রকমে দ্বায় সারতেই যেন সঙ্গীতানুষ্ঠানের প্রচার সময়। উঁকি মারা ভোর নয় তো মাঝ নিশীথি। ভাগ্যিস সংগীত প্রেমিকা সত্যিকারের অন্ধ প্রেমিক নইলে সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করার পথই বা কোথায়! প্রেম না কি অন্ধ, হ্যাঁ অন্ধ বলার কারণ ঐ একটাই প্রেমে মন ডুবে গেলে মানুষ সব কিছু তুচ্ছ করে ফেলে দিয়ে ছুটে যেতে চায় প্রিয়মুখের কাছে, সংগীত প্রেমিক অনেকটা তেমন অন্ধ, অবহেলা, অনাদর, অবিচার কিছুই বোঝে না, ঐ এক টানে! নইলে জাতীয় প্রচার মাধ্যম, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন একজন গীতিকবি, সুরকার, শিল্পী ও সংগীত পরিচালককে কতটা সম্মানি দেয়, তাদের কর্ম ও সাধনার জন্য। বেসরকারি টেলিভিশনে সঙ্গীতানুষ্ঠানের সময় দেখে মনে হয়, দ্বায় ঠেকে সিডিউল ঠিক করা হয়েছে, পত্র-পত্রিকাতো পারলে আনাচে-কানাচে খবর ছেপে দিয়েই দ্বায় সাড়া, কেন এমন ব্যবস্থাপনা ? কেন অন্ধ দু’চোখ ? সত্যি আমরা বড় অভিনয়ে পারদর্শী সব কিছুর পরও ভালোবাসি সঙ্গীত জোড় গলায় দাবি করি। শরীরের খোড়াক যোগাতে কত কি খবরা-খবর নিয়ে ছুটে চলি পথ, অথচ
মনের খোড়াকের প্রয়োজন সেটা আমাদের জানাও নেই। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ওটা না কি কলার শিল্প, কলা ষোলো কলা নিয়ে, ষোলো কলার বাইরেও এখানে কলা আছে, আর সেটা বাইরে এক ভেতরে আরেক, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে থীম সং পত্রিকায় আহ্বান করা হয়েছে! বাহ চমৎকার উদ্যোগ! চমৎকার তো সামনে আরো বাকি গীতিকবিতা প্রেরণের পর, গীতিকবির উপর এবার দ্বায় ঠেকে পড়েছে, গীতিকবিতা সুর ও মিউজিক করে পাঠাতে হবে, ঐ যে বলে ছিলাম অন্ধ প্রেম, হ্যাঁ অন্ধ প্রেমে কেউ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবেসে, কেউ গীতিকবিতাকে ভালোবেসে নিজ উদ্যোগে তাও করে পাঠিয়ে দিয়েছে কিন্তু আমরা যে অভিনয়ে পারদর্শী কৌশল অবলম্বনে, আর সে কারণেই নির্দিষ্ট দিন চলে যায়, পনেরোই আগষ্ট এসে চলে ও যায়, অথচ কোন ফল আসে না, দেশটাকে গালি দেই, এই দেশ এমনই। কষ্ট পেয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলি দেশ নেতা কি আদৌ জানেন কিভাবে ঠকে বাংলার সাধারণ মানুষগুলো ? কীভাবে জাতীয় পিতার নামে আশাবাদী করে ছুঁড়ে ফেলা হয় স্বপ্নকে? আমরা খুব সহজ-সরল তাইতো আবার ভুলেই যাই অবহেলা, অনাদরের কথা, ধুঁকে ধুঁকে কাটিয়ে দেই জীবন, স্বপ্ন ভাঙ্গার ব্যথা বুকে নিয়ে!

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *