Press "Enter" to skip to content

শেয়ার করে লাখ লাখ সদস্য ও ভিউ…

– সালমা আক্তার।
তিন অক্ষরের একটি শব্দ, খুব চেনা, খুব জানা, তবে ভীষন দামী। দামী হবেই না কেন ? ওটা ছাড়া অনেকেই অচল। ‘শেয়ার’ করা, কি খুব পরিচিত নয় কি ? হ্যাঁ সত্যিই শেয়ার করা ছাড়া আমাদের কাজগুলো থমকে থাকছে এক স্থানে। সঙ্গীত কিংবা সঙ্গীত বিষয়ক যাই বলি শেয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে সবার কাছে, পৌঁছে যাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত ? ফেসবুকে, পেজে, গ্রুপে যেখানেই কিছু শেয়ার করতে গেলে দেখা যায় কোথায় এপ্রূভ হবার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়, কোথাও এপ্রূভ করার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এপ্রূভের জন্য অপেক্ষা করাটা যদিও বিরক্তিকর তবুও বলা যায়, এটার কোন না কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ রয়েছে। এপ্রূভ না করার পেছনে কারণ অনেক হতে পারে, হুট-হাট করে কিছু শেয়ার করার পর দেখা গেল অশ্লীল ও অর্থহীন মিউজিক কিংবা গান তৈরি করে শেয়ার করে দিয়েছে, এটা সুস্থ বিবেকবানের নিকট খুবই লজ্জ্বাজনক ব্যাপার, তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে অনেকেই না বুঝে শুনে এপ্রূভ করে ফেলে, লাখ লাখ লাইক, ভিউ ও কমেন্টও সেখানে দেখা যায়! যারা না বুঝেই এপ্রূভ করছে তাদের ফেসবুক, পেজ, কিংবা গ্রুপে সদস্য সংখ্যাও বেশি। এ ক্ষেত্রে কে দায়ী ?, যিনি তৈরি করছে কাজটা ? না কি যে এপ্রূভ করে শেয়ার করছে ? না কি সেসব শ্রোতারা যারা এ এমন নির্মাণে লাইক, কমেন্ট করে সাড়া দেয় ? সঙ্গীত তো খুব গভীরের বিষয় প্রযুক্তির আবিষ্কারে সঙ্গীত চর্চা একটা খেলার মত হয়ে উঠে, একটা মোবাইল বা ক্যামেরা, একটা কন্ঠ বাহ তৈরি হয়ে যাচ্ছে গান! ভাবতে অবাক লাগে সংগীত সাধনা এখন ছেলে খেলার মত হয়ে গেছে, অনেকের ইচ্ছের স্বীকার হয়ে উঠেছে। তবে কি প্রযুক্তি আমাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ? নাকি আমাদের বিবেক আর চেতনা বোধ দিন দিন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। শেয়ারে সঙ্গীত যতই দূর দূর পৌঁছে যাক না কেন, স্রোতে ভেসে আসা শ্রোতা, স্রোতের সাথে মিলিয়ে যায়। কালজয়ী গান সৃষ্টি না হলে অমর সৃষ্টি হয় না। অমর সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন সাধনা, অধ্যাবসায়, প্রবল ইচ্ছাশক্তি। সঙ্গীতাঙ্গন মনে করে সঙ্গীতের সাথে যারা সম্পৃক্ত গীতিকবি, সুরকার, শিল্পী, সংগীত পরিচালক, ভক্ত শ্রোতা প্রত্যেকের উন্নত ভাবনার মানুষ হওয়া উচিত। ভাব-ভাবনা যখন উন্নত হবে সৃষ্টি হবে অমর সঙ্গীত।

গান প্রাণের কথা হলে, সুর মনের খোরাক হলে, সংগীত ভাবের রস হলে, সত্যিকারের সাধক রূপী কন্ঠ শ্রমিক অর্থাৎ কন্ঠ শিল্পী বেড়িয়ে আসবেই ভক্তদের মনে ভালোলাগার শিহরণ যোগাতে। সঙ্গীতাঙ্গন সে সব শেয়ার কর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে যারা বুঝে শুনে শেয়ার করে, কিংবা করতে ভালবাসে। সঙ্গীত শেয়ার হোক, ফেসবুক, পেইজ, গ্রূপে, ইউটিউবে চ্যানেলে, হোয়াটস আপ, ইনস্ট্রাগ্রাম, টুইটার যে কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তবে তা হোক সত্যিকারের শুদ্ধ সঙ্গীত।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *