Press "Enter" to skip to content

বিশ্ব সেরাদের বিশ্ব চুরি…

– মোশারফ হোসেন মুন্না।
চুরি কথাটার সাথে সবাই খুব বেশি পরিচত। তবে চুরির ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যেম আছে। গরিব চুরি করলে হয় চোর। মধ্যবিত্ত চুরি করলে ডাকাত। নেতারা চুরি করলে হয় দুর্নীতি। আর গায়ক গায়ীকা চুরি করলে হয় নকল। হাস্যকর কথা হলো এটাই আমাদের সমাজ। বিশ্ব সেরা যারা হয়েছে তারাও যদি চুরি করে হয় তাহলে কি বলবেন ? কথায় বলে ‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা’। তবে ধরা কিন্তু পরে। ওরা বিশ্ব চোর বলে কেউ বলে না বা বলার প্রয়োজন মনে করে না অন্যথায় ভয়ে প্রকাশ করেনা। আর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কম-বেশি সবার গানের লিরিক কিংবা সঙ্গীতায়োজনে কিছুটা হলেও সাদৃশ্য থাকে। কখনো সেটা অনিচ্ছাকৃত, কখনো বা আবার ইচ্ছাকৃতভাবেই। কিন্তু আজ এমনকিছু ব্যান্ড ও সঙ্গীতশিল্পীদের খবর জানাবো যারা অন্যের গান নকল বা বলা যায় চুরি করেই হয়ে গেছেন বিখ্যাত।

এন্ড্রিউ লয়েড ওয়েবার –
থিয়েটার দুনিয়ার সুপারস্টার বলা হয় এন্ড্রিউকে। এতো ভুরি ভুরি দারুণ কাজ পেয়েছেন, যা তার সমকালীন সময়ে রেকর্ড বলা যায়। ৬টি টনি এ্যাওয়ার্ড, ৩টি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড ও ১ বার অস্কার পেয়েছেন তিনি। কিন্তু হয়তো এর একটিরও যোগ্য প্রাপক নন তিনি। কারণ তিনিও তার অধিকাংশ গান চুরি করেছেন। তার ‘ফেন্টম অফ দ্যা অপেরা’ তো পিংক ফ্লয়েডের ‘ইকোস’ থেকে চুরি করা কিংবা নকল করা। ভাবা যায়! তাহলে কি বিশ্ব সেরা বিশ্ব চুরিতে হইনি ?

দ্য ব্লাক আইড পিয়াস –
তারপর আসুন জেনে নেই আরেক বিশ্ব সেরার কথা। যাকে চেনে না এমন মানুষ খুব কমই।
দ্য ব্ল্যাক পিয়াস -এর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে বলা হয়, এই ব্যান্ডের সম্পর্কে আপনার জানা না থাকলে হয় আপনি আদ্যিকালের মানুষ, নয় তো কিছুক্ষণ আগে কোমা থেকে উঠেছেন! হিপহপ মিউজিকে এই ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান অনেক। কিন্তু তার মধ্যে চুরি করা গানের সংখ্যাই বেশি। ‘বুম বুম’ কিংবা ‘পার্টি অল টাইম’ -এর মতো গানগুলোও বিভিন্ন শিল্পীর গান থেকে চুরি করে নেওয়া। কি বুঝলেন ? বিশ্ব সেরা সঙ্গীতের মুকুট পরলো বিশ্ব সেরা চোরের খাতায় নাম এলোনা।

ডিপ পার্পেল –
আহ্ মনটা রয়ে যায়রে গানের লাইনে।
‘স্মোক অন দ্য ওয়াটার’ গানের শুরুতে গিটারের যে অসামান্য কাজ দেখিয়েছে ডিপ পার্পেল তা ভোলা সত্যি কষ্টকর। এতো সুন্দর কাজ খুব কমই হয়েছে, কিন্তু যদি বলি এটাও অন্য গান থেকে চুরি করা ? মনে খটকা লাগতেই পারে যে, কো ইন্সিডেন্স হতেই পারে। ডিপ পার্পেলও বলেছিল এই কথা। কিন্তু কো ইন্সিডেন্স একবার হয়, বারবার নয়। এদের বিখ্যাত গান ‘ব্ল্যাক নাইট’, ‘বার্ন’, ‘চাইল্ড ইন টাইম’ -এর মতো গানগুলোর কিছু অংশ কিংবা প্রায় পুরোটাই অন্যদের গানের থেকে নেওয়া। বিশ্বাষ হচ্ছে না ? গান গুলো শুনে দেখেন। এরাই হলো বিশ্ব সেরা।

লেড জেপলিন –
লেড জেপলিন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে মূলত দুটি কারণে – ‘দ্য মুড শার্ক’ প্রচার করে এক গোষ্ঠী নতুন এক নাচের ক্রেজকে দেশকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে ও তৎকালীন সময় অন্যদের থেকে বেশি রকিং মিউজিক করে। কিন্তু তাদের এই রকিং মিউজিকের অধিকাংশই ছিল অন্যের গান থেকে চুরি করা। এমন কি তাদের বিখ্যাত গান ‘ড্যাজড অ্যান্ড কনফিউজড’ও চুরি করা গান। কিন্তু তারাই যে সেরা। কি হবে এমন সেরা সেজে ?

মেটালিকা –
গত ৩০ বছরে রক মিউজিকের সবচেয়ে আলোড়িত ব্যান্ড মেটালিকা। যে ব্যান্ডের নামেই মেটাল সেখানে বুঝতে হবে কতোটা রক পাগল তারা। নিজেদের স্বকীয় গান দিয়ে যেমন তারা বিখ্যাত তেমনি সমালোচিতও, কিছু কিছু চুরি করা গানের জন্য। তাদের ‘ওয়েলকাম হোম’, ‘মাই অ্যাপোকেলিপস, ‘দ্যা ইন্ড অফ দ্যা লাইন’ কিংবা ‘দ্যা ডে দ্যাট নেভার কামস’ -এর মতো জনপ্রিয় গানও চুরি করা। বিশ্ব সেরাদের বিশ্ব চুরির খবর তো জানলেন। অপেক্ষাতে থাকুন তার প্রমাণ আসছে আগামী প্রতিবেদনে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *