Press "Enter" to skip to content

কণ্ঠসৈনিক তিমির নন্দী’র ৫০বছর পূর্তিতে সঙ্গীত সন্ধ্যা…

– কবি ও কথাসাহিত্যিক রহমান ফাহমিদা।
যে বয়সে শিশুরা মায়ের কোলে বসে খেলা করে এবং দাদীর কোলে বসে গল্প শুনে সেই বয়সেই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তিমির নন্দী মাত্র তিন বছর বয়সে নিজে নিজে তবলা বাজাতে শিখেছেন। সেই সময় থেকেই বোনদের সাথে ফাংশনে তবলা বাজাতেন। যেহেতু সে খুব ছোট ছিলেন তাই তবলা হাতের নাগালে পেতেন না, ফলে তাঁর জন্য জলচৌকির ব্যাবস্থা করা হত। জলচৌকির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি তবলা বাজাতেন। সেই সময় রেওয়াজ ছিল যারা ভাল গান করতেন, তবলা বাজাতেন, নাচ করতেন তাঁদেরকে গোল্ড মেডেল দেয়া হত। তখন থেকেই তাঁর গোল্ড মেডেল পাওয়া অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। তিমির নন্দী’র যখন পাঁচ/ছয় বয়স, তখন থেকেই নিজে নিজে হারমোনিয়াম বাজাতে শুরু করেন। সে যখন ক্লাস থ্রিতে পড়েন তখন তিনি তবলা বাজাতেন, হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানও করতেন এবং সেই সাথে ব্যাঞ্জোও শিখেছিলেন। সে ব্যাঞ্জোও বাজাতেন। ১৯৬৯ সালে রেডিও ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্তি শিল্পী হিসেবে তিমির নন্দীর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিমির নন্দী যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের বৃত্তি পেয়ে তিমির নন্দী মিউজিকে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাশিয়ায় চলে যান। সেখান থেকে মিউজিকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিমির নন্দী বাংলাদেশের প্রথম শিল্পী, যিনি ইউরোপ থেকে সংগীতে মাস্টার্স করেছেন। আধুনিক গানের পাশাপাশি তিনি নজরুল সংগীত, উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং বিদেশী ভাষায়ও গান করে থাকেন। তাঁর বেশ কয়েকটি একক, দ্বৈত ও যৌথ গানের ক্যাসেট ও সিডি প্রকাশিত হয়েছে।

বেশ কিছুদিন আগে হয়ে গেল এই স্বনামধন্য গায়ক এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক তিমির নন্দীর সঙ্গীত জগতে ৫০বছর পূর্তি প্রথম সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল এন্ড কলেজ এক্স স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন, সংক্ষেপে LEXSA. ২৯শে মার্চ ২০১৯, বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে নয়টায় শেষ হয় অনুষ্ঠান। এই শিল্পীর ৫০বছর পূর্তির দ্বিতীয় অনুষ্ঠানটি হতে যাচ্ছে ১১ই অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে, আমরা সূর্যমুখি। আয়োজনের সাথে যারা জড়িত আছেন, তাঁরা হলেন-বোরহান জাহেদ, ফারুক শিকদার, চন্দন ভৌমিক, হেদায়েতুল ইসলাম শুভ। সম্মানিত অতিথি মণ্ডলীর মধ্যে যারা থাকবেন, তাঁরা হলেন-লে.জে.হারুনুর রশীদ বীর প্রতিক ও সাবেক সেনা প্রধান। নাট্যজন পীযুষ বন্দোপাধ্যায় সাবেক মহাপরিচালক, বিএফডিসি। সাদিয়া আফরীন মল্লিক কণ্ঠশিল্পী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানটিতে সূচনা বক্তব্য রাখবেন-শফিকুল ইসলাম সেলিম নির্বাহী পরিচালক, আমরা সূর্যমুখি।
সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তিমির নন্দীর জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা ও অভিনন্দন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *