Press "Enter" to skip to content

আমার সঙ্গীত জীবনের বড় অবদান! কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর – গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিন…

– কবি ও কথাসাহিত্যিক রহমান ফাহমিদা।
এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষের কাজের পেছনে কারো না কারো অনুপ্রেরণা অথবা অবদান থাকে। সঙ্গীত জগতে তেমনি একজন জনপ্রিয় শিল্পী শফিক তুহিন। যে কিনা একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক এবং যার ব্যক্তিগত ঝুলিতে আছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কার। তিনি সহস্রাধিক গান রচনা করেছেন এবং দুই শতাধিক গানের সুরারোপ করেছেন। শফিক তুহিনের এই সঙ্গীত জীবনে সবচেয়ে বেশী যার অবদান! সে হল বাংলাদেশের রক ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর। আজকে এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। জনপ্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই কিংবদন্তির স্মরণে এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপনের উদ্দেশে তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের সাথে সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে রহমান ফাহমিদার আলাপচারিতা তুলে ধরা হল। –

– আপনি সম্প্রতি কিংবদন্তি ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে একটি গান করেছেন, সেই গানটির ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন!
– শ্রদ্ধেয় আইয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের সাথে আমার গানের শুরু। বেসিক্যালি উনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন গীতিকার হিসেবে। যার ফলে আমি ঐ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁর বেশ কিছু এ্যালবামের অনেকগুলো গান লিখেছিলাম। মূলত তাঁর ঐ এ্যালবামের সফলতাই আমাকে গানের জগতে নিয়ে এসেছে। আমি আজ প্রফেশনালই মিউজিক নিয়ে কাজ করছি, সঙ্গীত নিয়ে কাজ করছি, সেটা তাঁরই বিরাট অবদান। সেজন্যে আমি তাঁর কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ। ওনার মত একজন কিংবদন্তি এবং এই উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রক ব্যান্ড শিল্পী, যার হাত ধরে আমার সঙ্গীত জগতে উত্থান হয়েছে এবং আমি আজ যে কাজগুলো করছি বা করতে পারছি সেইজন্যে আমি চিরকৃতজ্ঞ এবং তাঁর কাছে ঋণী। সে কারণে তাঁকে উৎসর্গ করে এবং ওনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি গান করেছি ‘গিটার জাদুকর’। ‘গিটার মানেই তুমি আর তুমি মানেই গিটার,তোমাকে ছাড়া তারুণ্য উন্মাদনার মূল্য আছে কী তার’ -এভাবেই লেখা হয়েছে কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে। গানটি আজ ১৮ তারিখেই রিলিজ হবে। এই গানের মধ্যে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এবং ভালোলাগার বিষয়টি রয়েছে। আবারো বলছি, যার জন্য আমি মিউজিক শুরু করেছি এবং মিউজিক নিয়ে কাজ করতে পেরেছি সেই কারণে তাঁকে গানের মাধ্যমে স্মরণ করে আমার আজন্ম ঋণ আর কৃতজ্ঞতা কিছুটা হলেও প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। তিনি সুযোগ না দিলে এবং ওনার সাথে কাজ করার
সুযোগ না পেলে তো আমার এতদিন মিউজিক নিয়ে কাজ করা হতোনা! এই আরকি।

– আপনার নিজস্ব মতামতের ভিক্তিতে, আপনি তাঁকে মানুষ হিসেবে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
– মানুষ হিসেবে উনি অসাধারণ বন্ধুবৎসল একজন মানুষ ছিলেন। সব সময় নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতেন। যাদের মধ্যে যোগ্যতা থাকতো তাঁদেরকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। সে একজন আমুদে মানুষ ছিলেন। সবার সাথে আড্ডা মারতেন। অনেক আনন্দ নিয়ে কাজ করতে উনি পছন্দ করতেন। সেটা আমরা দেখেছি তাঁর স্টুডিও এবি কিচেনে সবসময় মিউজিশিয়ান, সাংবাদিক এবং তাঁর কলিগদের ভীর লেগেই থাকতো। সবাইকে খুব উৎসাহ দিতেন এবং সবার সাথেই খুব আন্তরিক, ভালোবাসার এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল তাঁর। আমরা নতুন প্রজন্ম তাঁর কাছ থেকেই ম্যানারস শিখেছি। শিখেছি সিনিয়রদের কিভাবে সম্মান করতে হয়।
– বর্তমানের মিউজিক নিয়ে তিনি কি কখনো কোনো হতাশার কথা আপনার সাথে শেয়ার করেছেন ?
– না,কখনোই করেননি। ওনারা তো রিয়েল টাইম মিউজিক করেছেন! ওনাদের তো সেশন প্লেয়ার বলে। সো ওনারা রিয়েল টাইম মিউজিক করে এসব মিউজিক তাঁরা খুব সিনথেটিক মিউজিক হিসেবেই তাঁরা ভাবতো। কারণ এখন যেসব মিউজিক এরেঞ্জমেন্ট হয় বা মিউজিক করে তাঁরা সেই মিউজিক করে সস্থি বা আনন্দ কোনটাই পায়নি। তাই এখনকার যে মিউজিক আছে তা নিয়ে তাঁদের কখনোই তৃপ্তির জায়গাটা ছিলনা। কারণ যারা রিয়েল মিউজিক করে তাঁরা রিয়েল মিউজিক করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বা পচ্ছন্দ করেন।
– কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর সাথে কি আপনার এমন কোনো স্মৃতি আছে, যা কখনো কারো সাথে শেয়ার করেননি ?
– আসলে অনেক স্মৃতিই তো শেয়ার করা হয়ে গেছে। তারপরেও একটি স্মৃতির কথা বলি, যেমন – আমার লেখা একটি গান ‘তুমি কি আমায় আগের মত বাসো ভালো’ – অনেক জনপ্রিয় একটি গান। এইটা আইয়ুব বাচ্চুর সুরে আমার লেখা একটি গান ছিল। তাঁর ‘মন জ্বলে’ এ্যালবামের গান। একদিন সকালে আমি যখন গানটি তাঁর হাতে দিলাম সে চার লাইন পড়ে উনি স্টুডিওতে ঢুকে লাইন লাইন ধরে গিটারে তুললেন তারপর রেকর্ডার অন করে ফাস্ট টু লাস্ট সমস্থ গানের একবারে সুর করল। একজন মানুষ কতটা মেধাবী হলে এই কাজ করতে পারে! চারটা লাইন পড়ে পুরো সুরটা রেকর্ডিং করে এবং পরবর্তীতে মিউজিক করে গানটি গাওয়ানো হল। এটা একটা স্পেশাল স্মৃতি তাঁর সাথে আমার।
– এখন তাঁর অবর্তমানে আপনি কেমন ফিল করছেন ?
– অবশ্যই তাঁকে সবসময় ফিল বা মিস করি। আমি শুধু নাহ! বাংলাদেশের শিল্পী, তাঁর ভক্ত শ্রোতারা সবাই ওনাকে মিস করছেন। এমনকি পরের প্রজন্মও তাঁকে মিস করবে কারণ তিনি এমন কিছু রেখে গেছেন যেমন মিউজিকটাকে লেশনের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাই ওনাকে শিল্পী মিউজিশিয়ান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তাঁকে মনে রাখবে এবং তাঁর গান সবার মুখে মুখেই থাকবে।
– আপনি কি পরবর্তীতে ওনার গান নিয়ে আরও কিছু করতে চান ?
– হ্যাঁ, কিছু করার তো অবশ্যই ইচ্ছে আছে। আসলে উনার গান নিয়ে শুধু আমার না, সারা বাংলাদেশের মানুষেরই কিছু করার ইচ্ছে আছে। যেমন, যেখানেই স্টেজ পারফর্ম হচ্ছে সেখানেই ওনার গান বেশী গাওয়া হচ্ছে। উনি চলে যাবার পর বাংলাদেশের প্রজন্ম অনেক বেশী মিস করছে। বরং উনি না থেকেও আরও বেশী করে থেকে গেছেন এবং আজন্ম থেকে যাবেন। এটাই একজন শিল্পীর বিশাল প্রাপ্তি। যে না থেকেও আরও বেশী করে মনে জুড়িয়ে থাকে, প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং তাঁকে ঘিরে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকে, তিনিই তো কিংবদন্তি শিল্পী! শ্রদ্ধেয় কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু সব সময়ই থেকে যাবেন মানুষের অন্তরে, মানুষের ভেতরে, বাহিরে সবখানেই উনি রয়ে যাবেন।
– আপনার এত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেয়ার জন্য আপনাকে সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ এবং কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে আল্লাহ্‌ যেন জান্নাতবাসী করেন তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে এটাই কামনা। আর আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
– আপনাকে এবং সঙ্গীতাঙ্গনকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই।

One Comment

  1. jbovnd.com jbovnd.com November 15, 2019

    That is a great tip particularly to those fresh to the
    blogosphere. Brief but very accurate info… Many thanks for sharing this one.
    A must read post!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *