Press "Enter" to skip to content

সাধনতত্ত্ব আধ্যাত্মিক গানের সাধক “ফকির লালন সাঁই”…

” অসময়ে কৃষি কইরে
মিছা মিছি খেইটে মরে,
গাছ যদিও হয় বীজের জোরে
ফল ধরেনা, তাতে ফল ধরে না;সময় গেলে সাধন হবে না”।– ফকির লালন সাঁই, নামটি শুনলেই দেহ মনে এক অজানা শিহরণ জেগে উঠে। সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে বাংলার বুকে এই সাধকের জন্ম। মহান প্রভু লালনকে দিয়েছিলেন সাধন জ্ঞান। আর সেই জ্ঞানের প্রদীপ লালল জ্বেলে রেখে গেছেন এ দেশের বুকে তা আজও জ্বলছে সারা বিশ্বভবে। অনেকের মতে তিনি আল্লাহ্‌র অলি। অনেকের মতে বাউল, আবার অনেকে বলে ফকির। কতটা সাধন ভোজন হলে এমন কথার মালা গাঁথা হয়?
লালল এমন কিছু কথা এ মানব কূলে রেখে গেছেন তার অর্থ শত সাধনার বলেও কেউ মেলাতে পারেনি। আজ তার গান নিয়ে সাধন চর্চা হয় বিশ্বব্যাপী। লালনের গান গেয়ে আজ প্রজন্ম সফলতার মালা ঝুলিয়েছে গলায়। কত জনাই খ্যাঁতি অর্জন করেছেন, লালন কন্যা বা লালন সন্তান হিসেবে। কিন্তু লালন জীবিত অবস্থায় কি ছিলেন? কি পেয়েছিলেন? কি এ পৃথিবীকে বলে গেলেন? কি রেখে গেলেন?
“ফকির লালন সাঁই,  একজন সত্যিকার দার্শনিক।
একাধারে তিনি একজন সমাজ সংস্কারক, আধ্যাত্মিক সাধক, একজন বাউল, এবং অসংখ্য গানের গীতিকার ও সুরকার। লালনকে এদেশের বাউল গানের অগ্রদূতদের
অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি এদেশের বাউল শিল্পীদের মতে ‘বাউল সম্রাট’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ দেশের বাউল সম্প্রদায়ের এমন
কোন বাউল অনুষ্ঠান নেই যেখানে লালনের গান ছাড়া পরিপূর্ণ হয়। লালন ছিলেন মানব কল্যাণময় সাধক। তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। এবং মানব সম্প্রদায় কে সাধন করেই তিনি গান রচনা করেন। তার গানের কথায় বিস্মিত হয়ে দেশের বহু খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী সহ সবাই যুগের পর যুগ ধরে লালন কে লালন করে আসছেন।
লালনের সময় কালে যাবতীয় নিপীড়ন, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, লোভ আত্মকেন্দ্রিকতা সেদিনের সমাজ ও সমাজ বিকাশের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। সমাজের নানান কুসংস্কার কে তিনি গানের মাধ্যমে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। লালনের সঙ্গীত ও দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে। হাজার মায়া আর ভালবাসার মহা বন্ধন ছেড়ে ফকির লালন সাই এই ভুবন ছেড়ে চলে যান। তিনি পরলোক যাওয়া নিয়েও গান লিখেছেন, “কে তোমার আর যাবে সাথে, কোথায় রবে এ ভাই বন্ধু পরবে যখন কালের হাতে”। তার মৃত্যু দিবসে ছেউড়িয়া  আখড়ায় স্মরণ উৎসব হয়। দেশ-বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হইতে অসংখ্য মানুষ লালন স্মরণোৎসব ও দোল পূর্নিমায় এই আধ্যাত্মিক সাধকের দর্শন অনুস্মরণ করতে প্রতি বছর এখানে এসে থাকেন।
ফকির লালন সাঁই, আত্নতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, গুরু – মুর্শিদী, প্রেম-ভক্তি, সাধনতত্ত্ব, মানুষ-পরমতত্ত্ব, আল্লাহ্‌-নবীতত্ত্ব এবং আরও বিভিন্ন বিষয়ে গান লিখেছেন।
লালনের অসংখ্য গানের মাঝে কয়েকটি তুলে ধরা হলো।
১. আমি অপার হয়ে বসে আছি
২. সব লোকে কয় লালন কি জাত
৩. জাত গেলো জাত গেলো বলে
৪. খাঁচার ভিতর অচিন পাখী
৫. আপন ঘরের খবর নে না
৬. বাড়ির কাছে আরশি নগর
৭. আমার আপন খবর
৮. দেখ না মন
৯. সময় গেলে সাধন হবে না
১০. তিন পাগলে হল মেলা
১১. এসব দেখি কানার হাট বাজারে
১২. মিলন হবে কত দিনে
১৩. কে তোমার যাবে সাথে
১৪. আমি কোথায় পাবো তারে
১৫. সর্ব সাধন
১৬. আশা পূর্ন হলো না।
এছাড়া ও লালনের হাজার হাজার গান রয়েছে। ফকির লালন সাঁইয়ের গান কে লালিত করে আসছেন, লালন শিল্পী ফরিদা পারভিন। ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের সারা লালন শিল্পীদের একজন। এছাড়া যুগে যুগে অনেক বাউল শিল্পী লালন কে ভালবেসে লালনের গান করে আসছেন। ফকির লালন সাঁই এদেশের গর্বিত সুরের সাধক। আমরা তার বিদ্রোহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
অলংকরন – মাসরিফ হক…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: