Press "Enter" to skip to content

আজ ৬৪তম জন্মবার্ষিকী শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এর…

১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এর জন্ম। দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে প্রায় চার দশক ধরে বাংলা গানের বিভিন্ন ধারার নানান গান যেমন, উচ্চাঙ্গ ধ্রুপদ, লোকসঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্র মিশ্র আঙ্গিকের সুরে শিল্পীর অবাধ যাতায়াতে সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন-এর খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। সব ক’টা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাড়িয়া দে, সুন্দর সুবর্ণ-এ ধরনের অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী তিনি। ছায়াছবিতে ১২ হাজারের মতো গান করেছেন তিনি। অসংখ্যবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। তার জন্মদিনে কথা হয় সঙ্গীতাঙ্গনের। এ সময় তিনি বলেন আমার জন্ম ৪ সেপ্টেম্বর। পৌত্রিক বাড়ি সাতক্ষীরায়। আমার পিতার নাম লুতফর রহমান ও মাতার নাম বেগম মৌলুদা খাতুন। ৫ বোনের মাঝে ৪ বোনই আমরা গান করেছি। বাকিরা হলেন ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াসমিন। আমার বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন যখন দুর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে গান শিখতেন তখন আমি খুব ছোট। আপুর সাথে আমিও উপস্থিত থাকতাম গানে। পরবর্তীতে ওস্তাদ পি সি গোমেজের কাছে একটানা ১৩ বছর তালিম নিয়ে গান শিখি আমি। মাত্র ৭ বছর বয়সে আমি প্রথম স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেই। ছোটদের সংগঠন খেলাঘরের সদস্য হিসেবে রেডিও ও টেলিভিশনে গান করি নিয়মিত। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানটির মাধ্যমে আমি প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে গানের জগৎ-এ নাম লেখাই । তবে ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম গান করি আমি শিশু শিল্পী হিসেবে।

সাবিনা ইয়াসমিন যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভূবনে বিচরন করছেন-বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র রুনা লায়লা ছাড়া তার সমকক্ষ হয়ে আর কেউ বোধ হয় এত লম্বা সময় ধরে আধিপত্য বজায় রাখতে পারেন নাই। গত কয়েক দশকে তিনি সর্বমোট কত হাজার গান গেয়েছেন তার সঠিক হিসেব হয়ত সাবিনা নিজেও দিতে পারবেননা তবে মরমী শিল্পী সেই আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে একালের কোন উঠতি গায়কের সাথেও অবিরাম গেয়ে চলেছেন একের পর এক গান। সুযোগ পেয়েছেন উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার আর,ডি,বর্মণের সুরে গান গাওয়ার, বিখ্যাত কিশোর কুমারের ও মান্না দের সাথেও ডুয়েট গান গেয়েছেন তিনি। ১৯৮৫ সালে গানের জন্য ভারত থেকে ‘ডক্টরেট” ও লাভ করেছেন। সাধারণত চলচ্চিত্রের গানেই তিনি বেশী কন্ঠ দিয়েছেন। চলচ্চিত্রে প্রায় ১২ হাজারের মতো গান করছেন তিনি। দশবার জিতেছেন জাতীয় পুরস্কার। তিনি বলেন সঙ্গীতে অবদানের জন্য পুরষ্কৃত হয়েছি অনেক বার। যেমন – ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার,
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মোট ১০টি, বাচসাস পুরস্কার মোট ৬টি, ও বিএফজেএ পুরস্কার ১৯৯১ সালে। উত্তম কুমার পুরস্কার ১৯৯১ সালে, এইচ এম ভি ডাবল প্লাটিনাম ডিস্ক, বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ থেকে সঙ্গীতে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি, ১৯৮৪ সালে, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৭৫ সালে চলচ্চিত্র পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৯০ সালে শেরে বাংলা স্মৃতি পদক, ১৯৯২ সালে অ্যাস্ট্রোলজি পুরস্কার, ১৯৯২ সালে জিয়া স্মৃতি পদক এবং নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে পাই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ পুরস্কার। গান গাওয়ার জন্য সাবিনা ইয়াসমিন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন গানের জন্য আমি সফর করেছি – ইংল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, হংকং,আমেরিকা, বাহরাইন ইত্যাদি দেশে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানেও অনেকবার গান গাইতে গিয়েছি। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ভাষায়ও গান গেয়েছেন। সাবিনা ইয়াসমিন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘উল্কা’ নামের সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। তিনি ২০১০ সালে চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ নির্বাচনে একজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আজ তার শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা। ভালো থাকুক বাংলা গানের এই কিংবদন্তী শিল্পী। সুস্থ্য জীবন কামনায় – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: