গানের জগৎ-এ কার কত বেশি জনপ্রিয়তা জানেন ?…

বলা হয়ে থাকে, সঙ্গীতের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। এক দেশ থেকে আরেক দেশে তা ছড়িয়ে যেতে পারে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে যা বারেবারেই হয়ে এসেছে। কখনও পাশ্চাত্যের থেকে দু-হাত ভরে আধুনিকতা গ্রহণ করেছে প্রাচ্য, আবার কখনও বা প্রাচ্যের সৌন্দর্যে মোহিত হয়েছেন পাশ্চাত্যের শিল্পীরা। আর এভাবেই শিল্পের মাধ্যমে, জ্ঞানের মাধ্যমে বন্ধু হয়ে উঠেছে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির ধারা। সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও এই নিয়মের অন্যথা হয়নি। আজ আমরা বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু সঙ্গীত শিল্পীদের কথা জানাবো।

১। বিটলস

ষাটের দশকের মাঝামাঝি। ইউরোপে তখন প্রবল সাড়া ফেলেছে নতুন একটা গানের দল। বিটলস্‌। জন লেনন, পল ম্যাককার্টনি, জর্জ হ্যারিসন, টমি মুর, নর্ম্যান চ্যাপম্যান ও আরও কয়েকজনকে নিয়ে জমজমাট ব্যান্ড। এ্যালবাম প্রকাশ হওয়ামাত্রই সুপারহিট। শুধু ইউরোপে নয়, সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে বিটলস্‌-এর খ্যাতি। এর মধ্যেই, বিটলস্‌-এ লাগল ভারতের ছোঁয়া। সৌজন্যে, জর্জ হ্যারিসন। চমকে উঠল পাশ্চাত্য। ভারতীয় রাগসঙ্গীত সম্পর্কে এর আগে স্পষ্ট ধারণা ছিল না ওখানে। ১৯৬৫-তে, বিটলস্‌-রা একটা সিনেমা তৈরি করল। নাম ‘হেল্প’। সেই সিনেমার মিউজিকেই ভারতীয় সঙ্গীতের আবহ প্রয়োগ করলেন হ্যারিসন। অবশ্য এর আগে থেকেই তিনি অল্প-অল্প কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতি। ইংলিশ রক ব্যান্ড বিটলস। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। তাদের দলের সদস্যরা হল জন লেনন, পল ম্যাককার্টনি, রিঙ্গো স্টার এবং জর্জ হ্যারিসন। তাদের প্রথম এ্যালবাম বের হয় ১৯৬২ সালে। ১৯৭০ সালে তাদের দল ভেঙে যায়। ধারনা করা হয় এ পর্যন্ত তাদের ৬০০ মিলিয়নের উপর রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।

২। এলভিস প্রিসলি

এলভিস অ্যারন প্রিসলি সারা পৃথিবীতে যার পরিচয় দ্য কিং অফ রক এন রোল নামেই। জন্ম ১৯৩৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯৭৭ সালে। তিনি মূলত রক, পপ, ব্লুজ, কান্ট্রি ধরনের গান করতেন। ধারনা করা হয় তার বিক্রিত রেকর্ডের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়নের মধ্যে।

৩। মাইকেল জ্যাকসন

মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন সংক্ষেপে মাইকেল জ্যাকসন। বলা হয়ে থাকে সর্বকালের সেরা আর্টিস্ট সেরা পারফর্মার। তার মতো এতো ব্যাপক বিশাল জনপ্রিয়তা আজ পর্যন্ত কোন শিল্পী অর্জন করতে পারেনি। তাকে ভূষিত করা হয় কিং অফ পপ নামে। জন্ম ১৯৫৮ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং মৃত্যু ২০০৯ সনে। ছোটবেলা থেকেই প্রতিভার অধিকারী ছিলেন, তারা ভাই বোন মিলে একটি ব্যান্ড দল গঠন করেছিলেন যার নাম ছিল “জ্যাকসন ফাইভ”। ধারনা করা হয়ে থাকে তার বিক্রীত রেকর্ডের সংখ্যা ৩৫০থেকে ৪০০ মিলিয়নের মধ্যে।

৪। ম্যাডোনা

আমেরিকান সিঙ্গার, অভিনেত্রী, ব্যাবসায়ী। জন্ম ১৯৫৮ সালে আমেরিকার মিশিগানে। গায়িকা হিসাবে যেমন সফল তেমন অনেক বিতর্কেরও সৃষ্টিকারী তিনি। তিনি মূলত ড্যান্স, ইলেকট্রনিক, পপ ঘরানার গান করে থাকেন। তার বিক্রীত রেকর্ডের পরিমান ধারনা করা হয়ে থাকে ৩০০ থেকে ২৭৫ মিলিয়নের মধ্যে।

৫। এলটন জন

ইংলিশ সিঙ্গার, সং রাইটার, কম্পোজার। এলটন জনের জন্ম ১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডে। তিনি মূলত রক, গ্ল্যাম রক, সফট রক টাইপের গান করে থাকেন। তার বিক্রীত রেকর্ডের সংখ্যা ৩০০ থেকে ২৫০ মিলিয়নের মধ্যে।

৬। লেড জেপলিন

লেড জেপলিন পৃথিবীর সেরা দলগুলোর একটি। তারা মূলত ইংলিশ ব্যান্ড। অল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি দল। দলটির সৃষ্টি হয়েছিলো ১৯৬৮ সালে এবং ১৯৮০ সালে তা ভেঙে যায়। এরপরেও তারা কয়েকবার রিইউনিয়ন করেছে। লেড জেপেলীন মূলত হার্ড রক, হেভী মেটাল টাইপের গান করতো। ধারনা করা হয় তাদের বিক্রীত রেকর্ডের সংখ্যা ৩০০ থেকে ২০০ মিলিয়নের মধ্যে।

৭। পিংক ফ্লয়েড

ব্রিটিশ এই দলটির সৃষ্টি ১৯৬৫তে এবং তা ভেঙে যায় ১৯৯৫তে। তারা হয় মুলত প্রোগ্রেসিভ বা সাইকোডেলিক রক ঘরানার গান করে থাকেন। তাদের দলে আছে পৃথিবী বিখ্যাত অনেক শিল্পী এবং অন্যান্য দল এবং গানের চেয়ে তারা আলাদা ধাঁচের গান গেয়ে থাকেন। ২০০৫ দলটির একবার রিইউনিয়ন হয়েছিলো। ধারনা করা হয় তাদের বিক্রত রেকর্ডের সংখ্যা ২৫০ থেকে ২০০ মিলিয়নের মধ্যে।

৮। মারিয়া ক্যারি

আমেরিকান এই শিল্পীর জন্ম ১৯৬৯ সালে। তিনি একাধারে গায়িকা, অভিনেত্রী। তিনি মূলত হিপ হোপ, পপ, সোল এই ঘরানার গান গেয়ে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তিনি সঙ্গীত জগতে পদার্পণ করেন এবং এখনো সুনামের সহিত গান গেয়ে যাচ্ছেন। ধারনা করা হয় তার এ পর্যন্ত ২০০ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন মধ্যে রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।

৯। সেলিন ডিওন

ক্যানাডিয়ান সিঙ্গার সেলিন ডিওন এর কথা মনে পড়লে আমাদের টাইটানিক এর সেই বিখ্যাত গানটি মনে পরে যায়। এই শিল্পীর জন্ম ১৯৬৮ সালের ক্যানাডার কুইবেকে। তার মিষ্টি এবং অসম্ভব শক্তিশালী ভোকালের জন্য তিনি পৃথিবী বিখ্যাত। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে পপ, ড্যান্স, রক, অ্যাডাল্ট কনটেম্পোরারি ঘরানার গান গেয়ে থাকেন। তার বিক্রীত রেকর্ডের সংখ্যা ২০০ থেকে ১৭৫ মিলিয়নের মধ্যে।

১০। হুইটনি হাউস্টন

হুইটনি হাউস্টন আমেরিকান এই প্রতিভাবান শিল্পীর জন্ম ১৯৬৩ সনে এবং মৃত্যু ২০১২ সনে। তিনি সঙ্গীতের জগতে পদার্পণ করেন ১৯৭৭ সনে। তিনি মূলত রিদম এন্ড ব্লুস, পপ, সোল ঘরানার শিল্পী ছিলেন। ধারনা করা হয় তার বিক্রীত রেকর্ডের সংখ্যা ২০০ থেকে ১৭০ মিলিয়নের মধ্যে।

এই শিল্পীরাই রক ধাচের গান দিয়ে ব্যন্ড জগৎকে করেছেন সফল ও সার্থক। এখনো একের পর এক ধারুন সব গান উপহার দিয়ে যাচ্ছেন ভক্তদের। কেউ কেউ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে পরপারে, আর কেউ এখনো সরব আছেন গানে। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: