অটিজম সচেতনতায় বামবা’র কনর্সাট…

অটিজম কোন রোগ, বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে। অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশু কারো সাথেই, সে সমবয়সী হোক কিংবা অন্য যে কোনো বয়সী কারো সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। এরা অনেকেই আকার ইঙ্গিতে কথা বলতে পছন্দ করে। এ ধরণের শিশু আপন মনে থাকতে পছন্দ করে। নিজের ইচ্ছের মত চলে। যখন যা করতে ইচ্ছে হয় তা করতে না পারলে এদের খিঁচুনি ভাব হয়। এরা কারো চোখের দিকে তাকায় না। কারো সাথে নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র শেয়ার করতে চায় না। কারো দিকে তাকিয়ে হাসে না কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না। অনেকে আবার আদর ও পছন্দ করে না। সাধারণভাবে
অটিষ্টিক শিশুরা একই কথা বারবার বলে এবং একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করে। অটিজম বিশ্বে এতই ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে জাতিসংঘ প্রতিবছর ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করছে। সেই সমাজ সচেতনতায় এগিয়ে আসছে বামবা।

২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অটিজম রোগের প্রতিকারে সচেতনতা বাড়াতে এক কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল থেকে শুরু হওয়ার এই কনসার্টে গাইবে দেশের ১২টি ব্যান্ড। বামবার সভাপতি ও মাইলস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বরের কনসার্টে গাইবে মাকসুদ ও ঢাকা, মাইলস, ওয়ারফেজ, সোলস, দলছুট, ফিডব্যাক, শিরোনামহীন, পাওয়ারসার্জ, নেমেসিস, ভাইকিংস, আর্বোভাইরাস এবং ড্রিক। বামবার এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পিডিএফএ-ভোকেশন্যাল ট্রেনিং সেন্টার।

বামবা, সংগঠনটির যাত্রার শুরু থেকে যা কিছু করেছে তার ৯০ শতাংশ কাজের পেছনে কোনো না কোনো মহৎ উদ্দেশ্য থেকে। সর্বশেষ যে কনসার্ট করেছে সেটিও ছিল ‘নো ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন’। অটিজম সম্পর্কে হামিন আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও অটিজম এখন ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে এই সচেতনতার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে, যদিও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর কার্যালয় থেকে এ নিয়ে অনেকে কাজ করা হচ্ছে। অনেক উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয়ও হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করেছি যে এ রকম একটা জটিল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখনই খুব প্রয়োজন। ঢাকার নাগরিকেরাও সচেতনতার দিক দিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় আছে। সবাই মিলে এটাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা এই উদ্যোগের সঙ্গে নিজেদের রাখতে চাই। আমরা মনে করি, মানুষের মধ্যে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো খুব জরুরি। এটার ব্যাপকতা যেহেতু সারা বাংলাদেশে, তাই সারা দেশে কাজ করতে চাই। তবে আপাতত ঢাকায় শুরু হলেও সামনের দিনগুলোতে সারা দেশে এটা নিয়ে কাজ করতে চাই। বড় চিন্তাভাবনার এটা শুরু। এ রকম একটা মহৎ উদ্যোগে আমরা যদি যুক্ত থাকতে পারি, সচেতনতা বাড়াতে পারি, তবে মানসিক তৃপ্তি পাব। সঙ্গীত তো সব সময় করে আসছি, এটা অন্য রকম সার্থকতা পাবে। তাদের সাথে দেশের সবারই এমন মহৎ কাজে শামিল হওয়া উচিৎ। অটিজম এর শিশুগুলোকে বুঝতে হবে। তাদেরও একটা জীবন আছে তাদের জায়গায় থেকে তাদের জীবনের গুরুত্ব বুঝাতে হবে।

অতি চাঞ্চল্য, জেদী ও আক্রমণাত্মক আচরণ, অহেতুক ভয়ভীতি, খিঁচুনী ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য একজন অটিস্টিকের থাকতে পারে। অটিজমে আক্রান্তদের আচার-ব্যবহার এবং সংবেদন পদ্ধতি অন্যদের চেয়ে অনেক আলাদা হয় এবং আক্রান্তদের মধ্যেও থাকে অনেক পার্থক্য। শব্দ, আলো, স্পর্শ ইত্যাদির প্রতি অটিস্টিকদের আচরণ সাধারণদের থেকে বেশ পৃথক ও অদ্ভুত। শারীরিক দিক দিয়ে অটিস্টিক সাথে সাধারণদের কোন পার্থক্য করা যায় না। অবশ্য মাঝে মাঝে শারীরিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সাথে অটিজম একসাথে আসে। অটিস্টিকদের মস্তিষ্কের আকৃতি সাধারণের চেয়ে বড় হয়ে থাকে, তবে এর প্রভাব সম্বন্ধে এখনও সঠিক কিছু জানা যায় নি। আসুন সবাই মিলে বিশ্বে অটিজম প্রতিরুদ্ধ দূর্গ গড়ে তুলি, সুখী সুন্দর জীবন গড়ি। – মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: