Press "Enter" to skip to content

ছন্দে আনন্দে গানে গানে…

– রতন দেবনাথ।
‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ আয়োজিত “দ্বৈরথ” ৩ মে – ২০১৯, স্থান: নজরুল অডিটোরিয়াম, রিকাবী বাজার সিলেট। সংগীতের প্রতি প্রবল ভালোবাসা থেকে ২০০৫ সালে গড়ে তোলেন ‘সা রে গা মা’ সংগীত বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ইতি রাণী ভৌমিক একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর সংগীত শিক্ষক। দীর্ঘদিন সংগীত শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেক সংগীত অনুরাগী তাঁকে তাঁদের সন্তানদের সুদক্ষ শিক্ষা গুরু নির্বাচন করেছিলেন। তাঁদের আগ্রহ এবং সিলেট নজরুল পরিষদের আমিরুল ইসলাম বাবু ও আবৃত্তিকার আমিনুল ইসলাম লিটনের প্রেরণায় বিদ্যালয়টি ঘরোয়া রূপ বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠনে রূপান্তরিত হয়। সংগীত বিদ্যাকে সুস্থ ও সঠিক পদ্ধতিতে শেখানো এবং সুস্থ সংগীতকে ব্যাপক ভাবে প্রসার ঘঠানোই বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।
২০০৮ সালে সুর ও বাণীর জন্ম। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, প্রসেন রায় একজন তবলা শিল্পী ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর তবলা শিক্ষক। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে তবলা শিক্ষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবলা শিল্পের মতো শ্রমসাধ্য ও সাধনানির্ভর বিষয়কে সংগীতপ্রেমিদের কাছাকাছি এনে দেবার নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন। সুস্থ সংগীত চর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জগতের মূল স্রোত বহমান রাখা এই বিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ যৌথভাবে বলেন: সপ্ন দেখার সাহস যুগিয়েছেন আপনারা, আর আমরা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি মাত্র। রবিঠাকুরের বাণীর সূত্র ধরে এটুকু দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি – ‘আমার সকল ভালোবাসায়, সকল আঘাত, সকল আশায়, তুমি ছিলে আমার কাছে…। অর্থাৎ আপনারায় আমাদের কর্ম প্রাণ স্রষ্টা। যারা সবসময় পাশে থেকে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলার পথকে সুগম ও উৎসাহিত করেছেন সে সকল গুণীজনদের প্রতি আমাদের বিনায়বনত কৃতজ্ঞতা। ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ দু’টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টা এবং আয়োজনকে একত্রিত
করে উপস্থাপনের নাম ‘দ্বৈরথ’।
শুভেচ্ছা বাণীতে ড. নীপা চৌধুরী (পরিচালক: ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ) বলেন, শিক্ষার সাথে সংস্কৃতির বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বুকে ধারণ করে আছে সুর ও বাণী। একটি জাতির প্রকৃতি তার মানবিক উন্নয়নে উন্নতির সমৃদ্ধি সৃষ্টি করে সংস্কৃতি। সংস্কৃতির বিকাশ হয় সৃজনশীলতায়, আর সংগীত সংস্কৃতির এক অনন্য সৃজনশীল উপাদান। সংগীত যখন আমাদের শিক্ষায় যুক্ত হয় তখন সে শিক্ষা হয় সম্পূর্ণ। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে বিশ্বমানব হিসেবে গড়ে তোলে। ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ যে প্রত্যয়ে চলছে এই পথ যেনো অব্যাহত থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ গড়ার লক্ষ্যে ব্রতী করে তুলুক, বিশ্বমানবতা হোক তার কাম্য। ‘সা রে গা মা’ এবং সুর ও বাণী’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্বৈরথ’ ২০১৯, অনুষ্ঠান এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
শূভেচ্ছা বাণীতে চেয়ারম্যান, নৃত্যকলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুরের ধারা রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও আপনাকে এই লুকিয়ে রাখা ধুলায় ঢাকা ধুইয়ে দাও’ সামাজিক উন্নয়নে এবং সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে সংগীতের ভূমিকা অগ্রগণ্য। সংগীত মানুষকে উজ্জ্বীবিত করে। সামাজিক অবক্ষয়কে দূর করে নতুন সমাজ গঠনে এর অবদান অপ্রতুল। বিশ্বকবির চিন্তায় পাঠ গ্রহণ বা পাঠাভ্যাস বিষয়টি ছিল আনন্দের। যে কারনে তিনি খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়াই পাখির কলকাকলীর মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের কথা চিন্তা করেই শান্তি নিকেতন সৃষ্টি করেছিলেন। আমাদের শিক্ষায় সংগীত বা সুরের যোগসূত্র থাকলে তা অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষায় পরিণত হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে এভাবে সংগীতের প্রসার ঘটলে সুরের স্রোতে একদিন সমাজের সব গ্লানি দূর হবে এ আমার বিশ্বাস। ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ তাঁদের কর্ম প্রচেষ্টা মঙ্গলময় হোক। অন্তরের অন্তস্থল থেকে ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্বৈরথ’- ২০১৯, অনুষ্ঠান এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

শুভেচ্ছা বাণীতে টুম্পা সমদ্দার (চেয়ারম্যান সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, সংগীত মানব সভ্যতার মূল্যবান দান। প্রাচীনকালে সংগীত পরিবেশিত হতো ঘরোয়া পরিবেশে ও উপাসনালয়ে। ধীরে ধীরে সংগীত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও সংগীত এখন বিশেষ ভাবে বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমান বিশ্বেও সংগীত শিক্ষা ও পরিবেশনা কার্যক্রম চলছে। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’ প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও তাঁদের সার্বিক সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে। আমি ‘সা রে গা মা’ এবং ‘সুর ও বাণী’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্বৈরথ’ ২০১৯, অনুষ্ঠান এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
শুভেচ্ছা বাণীতে সহ-সভাপতি, ছায়ানট বিদ্যায়তন ও নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থার সাধারন সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, সংগীত মানবিক উন্নয়নের হাতিয়ার। সংগীত মানবিক উন্নয়নে তথা সমাজবদ্ধ মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে সমাজের সকল মঙ্গল এবং সুখকর বিষয়গুলোকে নিজ গুণে সমৃদ্ধ করবার প্রয়াস জোগায়। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় – গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নাহি কিছু মহীয়ান। ‘সা রে গা মা’ এবং সুর ও বাণী’র সকল শিক্ষাত্রীর প্রতি আমার স্নেহ-ভালোবাসা এবং শুভকামনা রইল। একই সাথে ‘দ্বৈরথ’-২০১৯, অনুষ্ঠান এর সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।
অনূষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল, লহোরা, সম্মিলিত সংগীত, কবিতা- আবৃত্তি। পরিবেশন করেন ‘দ্বৈরথ’ শিল্পীগোষ্ঠী। অতিথি শিল্পী ছিলেন, :ড. দেবপ্রসাদ দাঁ (সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), প্রিয়ংকা গোপ (সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মন্দিরা চৌধুরী (নৃত্য বিভাগ, শান্ত মরিয়ম ক্রিয়েটিভ বিশ্ববিদ্যালয়)। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, দ্বৈরথ শিল্পীগোষ্টী, সঞ্চলনায় ছিলেন পদ্মীনি রায় ইমন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *