Press "Enter" to skip to content

তোমার জন্মে ধন্য সঙ্গীত ভূবন…

– মোশারফ হোসেন মুন্না।
শিল্প সাহিত্যর দেশ, ভাটিয়ালি পল্লী গানের দেশ, আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। সোনার বাংলায় যুগে যুগে ফলেছে সোনা। রেখেছে তার কৃতিত্ব। আবার চলে গেছে আমাদের ছেড়ে, কিন্তু রেখে গেছে তার কর্ম। এমন কিছু যুগান্তকারী কিংবদন্তীর মধ্য একজন হলো আমাদের আধুনিক বাংলা গানের সূচনাকারী লাকী আখান্দ।
লাকী আখান্দ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক ছিলেন শৈশবেই সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন লাকী আখন্দ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এইচ.এম.ভি. পাকিস্তানে সুরকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
সুরকার হিসেবে আরো কাজ করেছেন এইচ. এম.ভি. ভারত এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও।
তারপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নতুন উদ্যমে বাংলা গান নিয়ে কাজ শুরু করেন।
তাঁর নিজের সুর করা গানের সংখ্যা তাঁর কথায় দেড় হাজারেরও বেশি।
১৯৮৪ সালে সরগমের ব্যানারে লাকি আখন্দের প্রথম একক এ্যালবাম লাকী আখান্দ প্রকাশিত হয়। তিনি ব্যান্ড দল হ্যাপী টাচ্ এর সদস্য। তার সঙ্গীতায়জনে করা বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে এই নীল মনিহার, আবার এলো যে সন্ধ্যা এবং আমায় ডেকো না। তিনি বাংলাদেশী জাতীয় রেডিও নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বেতার এর সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
লাকী আখান্দ ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান বাংলাদেশ, ঢাকার পাতলা খান লেনে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সঙ্গীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন।

১৯৭৫ সালে লাকী আখান্দ তাঁর ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের একটি এ্যালবামের সঙ্গীতায়োজন করেন। এ্যালবামটিতে “আবার এলো যে সন্ধ্যা” ও “কে বাঁশি বাজায়রে” গানে কণ্ঠ দেন হ্যাপী আখন্দ, “স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে” ও “পাহাড়ি ঝর্ণা” গানে কণ্ঠ দেন হ্যাপী ও লাকী দুজনে, এবং লাকী নিজে “নীল নীল শাড়ি পরে” ও “হঠাৎ করে বাংলাদেশ” গানে কণ্ঠ দেন। আখান্দ ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এই চলচ্চিত্রে হ্যাপী আখন্দের পূর্বের এ্যালবামের “আবার এলো যে সন্ধ্যা” গানটি ব্যবহৃত হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে তিনি তাঁর প্রথম একক এ্যালবাম লাকী আখান্দ প্রকাশ করেন। এ্যালবামটি সরগমের ব্যানারে প্রকাশিত হয়। এই এ্যালবামের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হল “আগে যদি জানতাম”, “আমায় ডেকোনা”, “মামুনিয়া”, “এই নীল মনিহার”, ও “হৃদয় আমার”।
আখান্দের সঙ্গীতচর্চা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ছোট ভাই হ্যাপী আখন্দ ১৯৮৭ সালে মারা যাওয়ার পর। তিনি প্রায় এক যুগ পরে ১৯৯৮ সালে পরিচয় কবে হবে ও বিতৃষ্ণা জীবনে আমার এ্যালবামের সঙ্গীতায়োজনের মাধ্যমে গানের ভুবনে ফিরে আসেন। তারপর বিতৃষ্ণা জীবনে ছিল ব্যান্ড ও আধুনিক গানের মিশ্র এ্যালবাম করেন। এতে সে সময়ের ছয়জন জনপ্রিয় গায়ক, মাহফুজ আনাম জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, হাসান, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, ও সামিনা চৌধুরী কণ্ঠ দেন। একই বছর তিনি সামিনা চৌধুরীকে নিয়ে আনন্দ চোখ নামে একটি দ্বৈত এ্যাালবাম প্রকাশ করেন। গোলাম মোরশেদের গীতে এবং আখান্দের সঙ্গীতায়োজনে এ্যালবামটি প্রকাশ করে সাউন্ডটেক। এতে ১২টি গান ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান ছিল “কাল কি যে দিন ছিল”, “বলো কে পারে” ও “এই বরষা রাতে”। পরের বছর আখান্দ সামিনা চৌধুরীর একক এ্যালবাম আমায় ডেকোনার সঙ্গীতায়োজন করেন। এছাড়া তিনি ব্যান্ডদল আর্কের “হৃদয়ের দুর্দিনে যাচ্ছে খরা” গানের সুর করেন। ২০০০ সালের পর তিনি আরেকটি মিশ্র এ্যালবাম তোমার অরণ্যের সুর ও সঙ্গীতায়োজন করে। এতে লাকী আখান্দের কণ্ঠে গাওয়া ৩টি গানসহ বাপ্পা মজুমদার,
ফাহমিদা নবী, ও নিপুর কণ্ঠে ১০টি গান ছিল। তিনি এই এ্যালবামে সমকালীন তাল, লোক গানের তাল ও তার প্রিয় স্পেনীয় গানের তাল ব্যবহার করেন।
আজ সেই মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। সঙ্গীতাঙ্গন থেকে চিরদিনের জন্য ছুটি নিয়ে চলে গেছেন ঐপারে। যেখানে গেলে কেউ কোনদিন ফিরে আসেনা। আজ তার জন্মদিন। তোমার জন্ম দিনে হেসেছিলো তোমার পরিবার কেঁদেছিলে লাকী তুমি একেলা, যেদিন তুমি চলে গেলে হেসে গেলে তুমি কাঁদিলো বাঙলার সঙ্গীত ভূবন। দিয়ে গেলে যা, ভুলতে পারিনা তা, তাই তো তোমার জন্মদিনে সঙ্গীতাঙ্গন স্মরণ করলো তোমার কথা। তুমি ভালো আছো, ভালো থাকো, নিশ্চয় ভালো থাকবে ঐপাড়ে সেই শুভ কামনায় সঙ্গীতাঙ্গন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *